বাংলাদেশে গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে শুধু যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিপর্যয় ঘটেছিল ও প্রতারণা করা হয়েছিল সব শ্রেণীর নাগরিকদের সাথে তা কিন্তু নয়। সে সাথে এদেশের সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠন-সংগঠক-কর্মীরাও নানাভাবে প্রতারণা করেছেন সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে।

মার্কিন “ডিপষ্টেট” ও নোবেল লরিয়েট ড. ইউনুসের “মেটিকুলাস ডিজাইন” এর সমন্বয়ে এই প্রতারণা করার জন্য অনেকদিন থেকেই আবহ তৈরী করা হয়েছিল। আর সেই আবহ তৈরীর জন্য নানাভাবেই প্রচুর ডলার খরচ করা হয়েছিল ও নানাবিধ সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। যা এদেশের লোকজন জানেন নিশ্চয়ই।

মূল ভূমিকা ছিল মতি-মাহফুজের নেতৃত্বে আলো-ষ্টার ও তাদের বলয়ের বা গ্রুপের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সমাজের একটি বড় অংশ ছিল মার্কিন ডিপষ্টেট ও ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনের সুবিধাভোগী। এসব সংস্কৃতসেবী-পেশাজীবীর নাম শুনলে সত্যিই ঘৃণায় গা গুলিয়ে ওঠে।

কারণ এদের অনেককেই এদেশের মানুষ ভালোবাসতো, শ্রদ্ধা করতো। কিন্তু তাদের মধ্যেকার কদর্য রূপটি দেখেননি। এদের অধিকাংশই আওয়ামীলীগ আমলে চরম সুবিধাভোগী ছিলেন। কিন্তু ভেতর থেকে শেখ হাসিনা-আওয়ামীলীগ ও সেই সরকারের চরম সর্বনাশ করতে পিছপা হয়নি।

এখন আবার এই ইন্টেরিম সরকারের সময়েও নিচ্ছে সুবিধা। কিন্তু হঠাৎ করে তাদের ওপর এখন প্রত্যক্ষ হামলা হওয়ায় তারা আবার নতুনরূপে একটু প্রতিবাদ-প্রতিবাদ নাটক করতে চাইছেন মাত্র।

 

তবে ইদানীং আবার সেই সুশীল গ্রুপটি নতুনরুপে নিজেদেরকে উপস্থাপন করতে খুব সচেষ্ট হয়েছেন। তা শুরু হয়েছে গত ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বরসহ তার পরবর্তী কয়েকদিনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ছায়ানট ও উদীচী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর ওপর হামলার পর এর প্রতিবাদে অনুষ্ঠানের নামে।

কেউ হয়তো বলবেন সবকিছুতেই এত গন্ধ খোঁজা ঠিক নয়। কিন্তু গন্ধতো আমরা খুঁজতে চাইনা। কিন্তু গন্ধের তীব্রতাই নাকে আঘাত করে ঘ্রাণানেন্দ্রীয়কে জাগিয়ে তোলে। কারণ এরা নানা বর্ণে, নানা রূপে বিভিন্ন সময়ে জাগ্রতই শুধু হয়না, সাথে এই সমাজ-দেশ ও ব্যক্তি মননে প্রচন্ডভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সর্বনাশ করে।

গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টের সময় ও তার পরে আমাদের বাঙ্গালীর অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির ওপর বার বার আঘাত হেনে তা ধ্বংস করে দেয়ার সমস্ত প্রচেষ্টাই হয়েছে। এখনো চলছে তা।

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের ও বাঙ্গালীর স্বাধিকার আন্দোলনের নানা রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ধাপগুলোকে অস্বীকার করে সেসব স্থাপনা, যাদুঘর, ম্যুরালসহ বিভিণ্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিত্বের ওপর আঘাত হেনে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আমাদের শিক্ষাঙ্গন, শিল্পকলা , চলচ্চিত্র, নাটক, চিত্রকলা, সাহিত্য, কবিতা গানসহ হেন কোন সেক্টর নেই যা ধ্বংস ও বিকৃত করা হয়নি। দেশজুড়ে সুফিসাধকদের যেসব সাংস্কৃতিক এতিহ্য ছিল সেগুলোর ওপরও হামলা হয়েছে, মাজারে ভাংচুর-আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়াসহ নানামুখী হামলা হয়েছে।

বাউলদের ওপর নানা সময়েই হামলা, অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে বাঙ্গালীর চিরায়ত সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত কোন সুস্থধারার সংস্কৃতিকেই জঙ্গী-সাম্প্রদায়িক-ইউনুস সরকার ও তার দোসর জামায়াত- হেফাজত- হিযবুত-চরমোনাই গোষ্ঠী সহ্য করেনি, করছেনা এবং করবেওনা।

তা সেই বিশ্বখ্যাত ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়, কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটক, রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি হামলার শিকার হয়েছে। বাদ পড়েনি বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা পাকিস্তানের পার্লামেন্টে প্রথম উত্থাপনকারি বীর পুরুষ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িও। এঁরা যত বিখ্যাতই হোন না কেন তাঁরা যেন এ বাংলার শত্রু। অপাঙক্তেয়।

অথচ এঁদের মত আরো অনেক গুণীজন ছিলেন বলেই এই বাংলাদেশ –বাঙ্গালী সংস্কৃতি টিকে আছে এখনো মিটিমিটি করে। অবশ্য ওই অন্ধকারে অপশক্তিতো চাইছেই এসব ধ্বংস করে সেই আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে নিয়ে যেতে।

গত শুক্রবার মানে ২৬ ডিসেম্বর রাতেও ঠাকুরগাঁও শহরের হযরত শাহ সত্যপীর মাজারে একদল উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দল হামলা ও ভাংচুর করেছে। এ ঘটনার পর সদর উপজেলার ইউএনও খাইরুল ইসলাম ঘটনাস্থল ঘুরে এসে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, যেহেতু কোন চুরির ঘটনা ঘটেনি তাই সহজেই অনুমান করা যায় যে ধর্মীয় উগ্রপন্থীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে এই বাংলাদেশে গত ১৭ মাসে।

এরই মধ্যে গত ১৬ ডিমেম্বর মহান বিজয় দিবসের দিন চট্টগ্রামে সচেতন নাগরিক সমাজের পূর্বনির্ধারিত-ঘোষিত পুলিশের অনুমতি নেয়া জাতীয় পতাকা র্যালী শেষ মুহূর্তে বাতিল করে দেয় ইউনুসের পুলিশবাহিনী।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের অঙ্গীকার নিয়ে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘বিজয় শোভাযাত্রা’ আয়োজন করেছিল সচেতন নাগরিক সমাজ, চট্টগ্রাম। সেদিনও তা পালন করতে দেয়নি পুলিশ। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুমতি না পাওয়ায় বিজয় শোভাযাত্রার সেই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছিল।

আবহমান বাংলা সংষ্কৃতির ধারক বাহক বাউল শিল্পী, ছায়ানট, উদীচীসহ অন্যন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, সংবাদপত্র অফিস, সাংবাদিক ও শিল্পীদের উপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। দেশে সংস্কৃতি চর্চা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বারবার।

সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও সংগঠনের উপর এ ধরনের সহিংস হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এরই ধারবাহিকতায় শনিবার ২৭ ডিসেম্বর বিকেলে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে ‘গানে গানে সংহতি-সমাবেশ’ আয়োজন করেছিল চট্টগ্রামের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা করতে দেয়নি। তারা বলছে গান গাইতে গেলেও উপযুক্ত পারমিশন নিতে হবে।

কিন্তু ২৭ ডিসেম্বর শনিবারের কর্মসূচি ছিল, হামলার প্রতিবাদে শুধুমাত্র গান গেয়ে সংহতি জানানোর। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন পূর্বানুমতির অজুহাত দিয়ে এবং গত ২৬ ডিসেম্বর ফরিদপুর জেলা স্কুলে নগর বাউলের সংগীত আয়োজনকে ঘিরে ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনার সূত্র ধরে নিরাপত্তার কথা বলে গান গাওয়ার আয়োজনে বাধা দিয়েছে।

রাস্তার পরিবর্তে শিল্পকলার মাঠে সংহতি সমাবেশের আয়োজন করতে চাইলেও ‘নিরাপত্তার’ কথা বলে অনুষ্ঠান না করার জন্যে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা। ফলে সামগ্রিক প্রস্তুতি থাকা স্বত্ত্বেও ‘গানে গানে সংহতি-সমাবেশ’ করা সম্ভব হয়নি। যাতে প্রতীয়মান হয় যে, প্রতিবাদ জানানোর পরিবেশও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও আশঙ্কার।

এ ঘটনার পর চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠান না করার ঘোষনা দিতে বাধ্য হন আয়োজকরা। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক-সংবাদকর্মীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

তাতে তারা বলেন, আমরা মনে করি, প্রত্যেকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। পুলিশের দায়িত্ব সবার নিরাপত্তা দেয়া। আগে থেকে তথ্য থাকা স্বত্ত্বেও রাজধানীতে সাংস্কৃতিক সংগঠনে ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা থামাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যা গ্রহণযোগ্য নয়। আশা করি সরকার এসব বিষয়ে যথাযথ ভূমিকা রাখবে।

আমাদের দাবি সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলায় দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে যেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। সংস্কৃতি চর্চা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার পথে কোন ধরণের বাধা বা নিরাপত্তার হুমকি থাকলে, তা নিরসন করাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ।

এভাবে স্বাধীন মত প্রকাশ ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করার মধ্য দিয়ে উগ্রবাদী অশুভ শক্তির উত্থানকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, পুলিশ ও প্রশাসন তথা সরকার আমাদের সংস্কৃতি চর্চার পথ অবাধ ও সুগম করবে।

কিন্তু এসব ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বেকার বিভিন্ন হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কোন আয়োজন বা বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি।

ইতিপেূর্বে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয় এবং ছায়ানট ভবনে হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক স্পেশাল র্যা পোরর্টিয়ার আইরিন খান।

এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বাংলাদেশে শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘মব’ হামলা (উচ্ছৃঙ্খল জনতার হামলা) অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারকে অবশ্যই দ্রুত ও কার্যকরভাবে এসব হামলার তদন্ত করতে হবে এবং কালবিলম্ব না করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

আইরিন খান বলেন, ‘জনরোষকে সাংবাদিক ও শিল্পীদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যেকোনো সময়ের জন্যই বিপজ্জনক, বিশেষ করে এখন যেহেতু দেশ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের কণ্ঠস্বর ও ভিন্নমতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে।’

তিনি বলেন, ‘এই মব আক্রমণগুলো হাওয়া থেকে ঘটেনি, বরং বিচারহীনতা দূর করা এবং সংবাদমাধ্যম ও শিল্প-সাহিত্যের স্বাধীনতা বজায় রাখতে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণেই এগুলো ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিশেষ করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় উভয় পক্ষের মাধ্যমেই অনলাইন ও অফলাইনে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে।’

সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচীর একাংশের নেতা অমিত দে বলেন, ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছয়তলা ভবনটির প্রতিটি তলাতেই ভাঙচুর চালানো হয়।

হামলাকারীরা নিচতলায় অগ্নিসংযোগ করে এবং প্রতিটি তলায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তারা শ্রেণিকক্ষের সিসি ক্যামেরা, কম্পিউটার ও আসবাব ভাঙচুর করে। বিশেষভাবে বাদ্যযন্ত্রগুলোর ওপর আক্রোশ দেখানো হয়। পাশাপাশি বেশ কিছু ল্যাপটপ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম লুট করা হয়।

ছায়ানটের শিক্ষার্থীদের অনুশীলন ও অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হারমোনিয়াম, তবলা, সেতার, তানপুরাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনায় ছায়ানট কর্তৃপক্ষ ধানমন্ডি থানায় মামলা করেছে।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটে হামলা ও অগ্নিসংযোগের পর থেকেই পুলিশ প্রশাসনসহ ইন্টেরিম সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে উদীচী অফিসে হামলার হুমকির বিষয়টি জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা না নেয়াতে উদীচী অফিসও ব্যাপক হামলা-ভাংচুরের শিকার হয়েছে।

অবশ্য এই উদীচীর মত একটি প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের একাংশ গত জুলাই-আগষ্টে জামায়াত-শিবির-হিযবুত-হেফাজতীসহ ইসলামী চরমপন্থীদের ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিল।

কিন্তু সেই উদীচীই আজ সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তির হামলা থেকে বাঁচতে পারেনি।

এদিকে গত ১৬ ডিসেম্বর ও গত ২৭ ডিসেম্বর যথাক্রমে চট্টগ্রামে বিজয় র্যালী ও ‘গানে গানে সংহতি-সমাবেশ’করার জন্য পরিচিত সাংস্কৃতিক সংগঠক-সাংবাদিক-পেশাজীবীরাই উদ্যোগ নিয়েছিল।

গত ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবসের দিনে চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে একটি পতাকা র্যালী করার ঘোষণা ছিল। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিএমপি’র কাছ থেকে যথারীতি অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু বিজয় দিবসের আগের দিন হঠাৎ করে সিএমপি কর্তৃপক্ষ সেই পতাকা র্যা লী না করার জন্য ‘নরম সুর’ আদেশ দেয়। ফলে আয়োজকরা আর ভয়ে কোন পতাকা র্যাালী করার সাহস ( আদৌ তাদের সেই সৎসাহস ছিল বা আছে কিনা তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে) দেখায়নি।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন- কি এমন হতো যদি আয়োজকরা সেখানে যেতেন জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে, মাথায় বেধে? কি করতো পুলিশ? পেটাতো? নাকি ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক জামায়াদ-শিবির বা ইনকিলাব মঞ্চের ক্যাডাররা পেটাতো? আরে কিছু একটা না হয় হতোই ।

যদি সেসব মোকাবেলা করার বা জাতীয় দূর্যোগের সময় ন্যুনতম প্রতিবাদ করার সৎ সাহস না থাকে তাহলে আর আপনারা অযথা এ ধরনের প্রোগ্রামইবা দেন কেন? নাকি এসবই লোক দেখানো যে- আমরাতো প্রতিবাদী অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ বাধা দেয়ায় এবং দেশের এখনকার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তা আর করতে পারিনি।

এসব বলে মতি-মাহফুজ বা প্রথম আলো-ডেইলি স্টার সুশীলীয় চরম সুবিধাবাদী চরিত্রটি উন্মুক্ত করেছেন।

কিন্তু এভাবে এইসব সুবিধাবাদী সাংস্কৃতিক-কবি-সাহিত্যিক তথা “পালিত সুশীল” সচেতন নাগরিক সমাজের নামে জনগনকে ধোঁকা দেয়া কেন? অবশ্য এইসব পালিত সুশীলরা সবসময়েই এমন সুবিধাবাদী-পলায়নপর চরিত্রই দেখিয়েছে।

তাই সাধু সাবধান! অন্তত এসব সুবিধাবাদী সুশীলদের কাছ থেকে। ট্রাকের পেছনে লেখা থাকে ১০০ হাত দুরে থাকুন বা এত হাত দূরে থাকুন। তাই সমাজ-দেশ বাঁচাতে , নিদেনপক্ষে নিজেকে বাঁচাতে এসব “পালিত সুশীল” থেকে কতহাত দূরে থাকবেন জানিনা তবে অবশ্যই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ওই যে কোভিড মহামারীর সময় সংকট উত্তরণে , সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে লকডাউন, মুখে অবশ্যই মাস্ক এবং লোকজন একে অপরের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকেই অনেকটা রক্ষা পেয়েছিল ঠিক তেমনটাই করতে হবে এসব “পালিত সুশীল” থেকে।

## ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও নারী সংগঠক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *