গত চব্বিশের ৫ আগষ্ট আমেরিকান ডিপষ্টেট ও ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইনে ১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে নতুন করে স্থান পাওয়া বাংলাদেশটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

এই জঙ্গী-ইউনুসের নেতৃত্বাধীন ও তার লালিত-পালিত জামায়াত- শিবির- বৈষম্যবিরোধী-এনসিপি-হেফাজত-হিজবুতসহ ইসলামী জঙ্গীদের সমন্বয়ে গঠিত মব সন্ত্রাসীরা পুরো বাংলাকে শ্মশান বা কবরে পরিণত করেছে।
যে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম সেই মুক্তিযুদ্ধের কোন স্মৃতিচিহ্নই আর এই পাকি-ইসলামী মব সন্ত্রাসীরা ধ্বংস করতে বাকি রাখেনি।

চব্বিশের জঙ্গী-সেনা ক্যু এর পর শান্তিতে (!!) নোবেল পাওয়া ইউনুস ক্ষমতা দখলের পর এদেশের কিছু সুশীলীয় পরগাছা টাইপের বুদ্ধিজীবী-পরজীবী খুব আশা করেছিলেন এই মহামান্য ( পড়ুন মহাজঘন্য) ড. ইউনূসের ছোঁয়ায় বাংলাদেশ বদলে যাবে।
নতুন বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ তরতর করে এগিয়ে যাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে। বৈষম্য মুক্ত দেশ হবে, দুর্নীতি বন্ধ হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে না, আইনের শাসন-ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তাদের এমনও আশা ছিল –এদেশের নারীরা স্বীয় মর্যাদা পাবেন। শিক্ষাঙ্গনে মেধার প্রতিযোগিতা হবে। কথিত নতুন বাংলাদেশে সবাই মন খুলে কথা বলবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। সবাই মিলে আমরা এক মানবিক ( আসলে অমানবিক) দেশ গড়ে তুলব।
এই স্বপ্ন মানে দুঃস্বপ্ন এই পরজীবীরা দেখেছিলেন ড. ইউনূসকে দেখে। তারা শুধু স্বপ্নই দেখেননি। তারা মনে করেছিলেন-দেশে শান্তির সুবাতাসে দুধের নহর বইবে। কারণ এই নোবেল লরিয়েট এমন সব প্রতিশ্রুতিই দিয়েছিলেন বোকা বাংলাদেশিদেরকে।
ড. ইউনূস নিঃসন্দেহে শেয়ালের মত চতুর আর মানুষের মধ্যে নাপিতের মতোই চতুর (নরসুন্দরকে কাছে প্রার্থনা পূর্বক) এক ক্যানভাসার। মানে অত্যন্ত চতুর বক্তা। কথার এমন মায়াজালে তিনি এদেশের মানুষকে সম্মোহিত করেছিলেন।
কিন্তু ১৮ মাস পর, যদি আমরা হিসেবের খাতা খুলে দেখি, তাহলে দেখবো জমার খাতা শুধু শূন্যই নয়। পুরো দেশটিকেই ইউনুস ১৮ মাসের শাসন-শোষণকালে চরম হতাশার, বেদনার ও দুঃস্বপ্নের কালো অধ্যায় তৈরী করে দিয়েছেন মাত্র।
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যত ভাষ্কর্য, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ভাষ্কর্য, ম্যুরাল, চিত্রকর্ম ছিল তার কোনটিই আর অক্ষত রাখেনি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী তষ্করেরা।
যেই বত্রিশ নম্বরে বাড়িটি আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক , আন্দোলনের প্রতীক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সূতিকাগার হয়ে দাড়িয়েছিল সেই অনন্য স্থাপনাটিকে ,যাদুঘরটিকে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে এই মব সন্ত্রাসীরা অসংখ্যবার ভেঙ্গেছে। শুধু বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গেই ক্লান্ত হয়নি এসব বেজন্মারা। ধ্বংসাবশেষটিকে পুড়িয়ে দিয়েছে।

কিন্তু ইউনুসের জঙ্গী-মব সন্ত্রাসীরা জানেনা –যতই ভাংচুর আর পোড়ানো হোকনা কেন বাঙ্গালির হৃদয়ের মণিকোঠা আর চেতনা থেকে মুক্তিযুদ্ধ-জয় বাংলাকে কখনো পোড়াতে পারবেনা। ভাঙতে পারবেনা। কারো হৃদয়ের ভালোবাসা পোড়ানো যায়না। এ যে অবিনশ্বর।
এই প্রতারক ইউনুস বলেছিল বাংলাদেশের অতীত নাকি সে ‘রিসেট বাটন টিপে’ সব মুছে দিয়েছে। খুব হাসি পেয়েছিল এই অকালকুষ্মাণ্ড বুড়ো বেয়াদপের কথায়। অন্যরা হয়তো কষ্ট পেয়েছিলেন।
আমি কষ্টের বদলে শুধু হেসেছিলাম- এজন্য যে, এই জোচ্চোরটি কি করে বুঝবে মুক্তিযুদ্ধ-বঙ্গবন্ধুর মর্যাদা !? এসব বোঝারতো কোন শিক্ষাই তার নেই। নামের আগে শুধু একটি ডঃ আর নোবেল কিনে নিয়ে বিশ্বে যতই তাফালিং ( শব্দটি কি একটু অশ্লীল হয়ে গেলো !) করুক না কেন ওসবের কোন মূল্য নেই বাঙলা সংস্কৃতি আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কাছে। এজন্য তাকে আরো অনেক পঠন-পাঠন করতে হবে।
আমরা সেই ৫ আগষ্টের পর অবাক বিষ্ময়ে দেখলাম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য-স্থাপনায় হামলা-ধ্বংস থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা, বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা নিয়েও তারা (ইউনুস ও তার চ্যালাচামুন্ডারা) নানাভাবে নতুন করে বিতর্ক তৈরী করছে।
অবৈধ ইউনুসীয় ইন্টেরিম সরকারের সময়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা সুরক্ষার জন্য কোন চেষ্টাতো হয়ইনি, উল্টো সেগুলোকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। আমরা দেখেছি- দেশের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ বহু মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ও একাধিক যাদুঘরে হামলা ভাঙচুর হলেও সেগুলোর কোন সংস্কার করা হয়নি।

একাত্তরের ১৭ই এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন ও শপথ গ্রহণের ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে মেহেরপুর জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স।

সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ ছাড়াও ছোট বড় চারশর মতো ভাস্কর্য ছিল। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ঘটনা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও যুদ্ধের ভয়াবহতা মিলিয়ে এক নজরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছিল ওই কমপ্লেক্সে।
সেই কদিন মানে চব্বিশের ৫ আগস্ট মেহেরপুরে মুজিবনগরে শত শত ভাস্কর্য ভাঙচুর-লুটপাট করা হয়েছে, যেগুলো এখনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে- সাংবাদিকেরা সরেজমিন মুজিবনগর গিয়ে দেখেছেন- মুজিবনগর কমপ্লেক্সের অধিকাংশ ভাস্কর্য ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।
মুজিবনগর কমপ্লেক্সের সম্মুখে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যটি একেবারে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সালাম গ্রহণের অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাস্কর্যের মাথাটিও ধ্বংস করা হয়েছে।
৫ই আগস্ট এবং তারপরেও সারা বাংলাদেশে একাত্তরের স্মৃতিচিহ্ন ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন যাদুঘর ভাঙচুর ও হামলা লুটপাট হয়েছে।
ঐতিহাসিক সাতই মার্চ ও আত্মসমর্পণের স্থান ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত জাদুঘরটিও ব্যাপক ভাঙচুর ও তছনছ করা হয়েছে। হামলার শিকার ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধে যাদুঘর ঐতিহাসিক স্থান সংস্কারে দৃশ্যমান কিছু হয়নি।

যতদূর মনে পড়ে গত ২০২৫ সালের শেষদিকে বিবিসি বাংলা পক্ষ থেকে ইউনুসীয় ইন্টেরিম সরকারের মুক্তিযোদ্ধা উপদেষ্টা আমেরিকান নাগরিক ফারুক ই আজমের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন- “অবহেলা মোটেও নাই। সরকারি কাজগুলো যেভাবে ঢিমেতালে হয়। এটা ওইরকমই একটা ব্যাপার আরকি।”
বিবিসি’র সাংবাদিক তখন লিখেছিলেন- সরকার উদাসীন নয় উপদেষ্টা এমন দাবি করলেও বাস্তবতা হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে থাকাকালীন মব সৃষ্টি করে ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। শুধু কি তাই ?
তখন আমরা গভীর বেদনা-ক্ষোভ আর অশ্রুসজল চোখে দেখেছি- দাঁড়ি-টুপি পড়া মোল্লারাই শুধু নয় এদেশের সেনা জওয়ানরাও বুলডোজার দিয়ে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গেছে। তার মাথায় উঠে পৈশাচিক উন্মত্ততায় প্রস্রাব করেছে !!
এর চেয়ে অপমানের লজ্জার আর কি হকে পারে এই বাঙ্গালির জন্য? নানা ঘাত-প্রতিঘাত-উদ্বেগ-উৎকন্ঠার পরা ইলেকশনে নামক একটি সিলেকশনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নামে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা নিয়েছে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি।
বিএনপির নবীন চেয়ারম্যান ( রাজনীতিতে নতুন নয় কিন্তু) তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের সাথে সাথে বাংলাদেশের জনগণ কিছু যেন কারাগার থেকে মুক্তি পেল।
ড. ইউনূসের ১৮ মাস এদেশের মানুষ মনে রাখবে উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের সময় হিসেবে। এক অবর্ণনীয় কষ্ট আর দুঃখের স্মৃতি হিসেবে।
ড. ইউনূস বাংলাদেশে মব সন্ত্রাসকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। গত দেড় বছরে এটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে যে, ক্ষমতার জোরে অন্যের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করা যায়।
শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধাকে যখন খুশি যেমন তেমন করে পেটানো যায়, গলায় জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানো যায় । – এমন একটি সুন্দর মব সন্ত্রাসের সমাজ-ছাত্র সমাজ ও বাংলাদেশ উপহার (!!) দিয়ে গেছেন ইউনুস সরকার। যে জন্য আজীবন এই “ ইসলামী বাংলাদেশী” জাতীয়তাবাদের নাগরিকগণ চিরকৃতজ্ঞ থাকবে নিশ্চয়ই।

ড. ইউনূস বাংলাদেশের এই ইসলামী বাংলাদেশীদের জন্য একটি শক্তিশালী মব বাহিনী উপহার দিয়েছেন। যারা আইনের ঊর্ধ্বে বিচারের বাইরে, তারা যা বলবে সবাই তা মানতে বাধ্য। এরা যদি বলে পরীক্ষা হবে না, তাহলে পরীক্ষা বন্ধ করতেই হবে। এরা যদি বলে কাউকে গ্রেফতার করতে হবে, তাকে গ্রেফতার না করলে পুলিশের চাকরি যাবে।
এরা যদি বলে কাউকে জেল থেকে মুক্তি দিতে হবে, তাহলে আইন কানুন যাই থাকুক, তাদের ছেড়ে দিতেই হবে, নইলে দেশে তুলকালাম হবে। এদের কথাই আইন। এরাই দেশের মালিক। জনগণ ক্রীতদাস- এটিই যেন অমোঘ সত্য হয়ে গেছে।
ড. ইউনূস ১৮ মাসে দেশের শিক্ষার পরিবেশকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছেন। দেশের শিক্ষাঙ্গণে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। কথায় কথায় মারামারি, ক্লাস বন্ধ, অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করেছে।
এসব নিয়ে ড. ইউনূসের না ছিল উদ্বেগ, না ছিল শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান। প্রতিটি ভাষণে শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বরং তিনি এসব প্রশ্রয় দিয়েছেন।
নামের আগে ড. বা নামের পরে পিএইচডি লাগালেই, নোবেল পেলেই তিনি কিন্তু নোবেল হয়ে ওঠেন না। তার নিকৃষ্ট বলুন আর প্রকৃষ্ট উদাহরণ বলুন –তিনি হলেন বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল লরিয়েট ড: মুহাম্মদ ইউনুস।
তিনি তার ১৮ মাসীয় শাসনামলে অত্যন্ত চমৎকারভাবে রিসেট বাটন টিপে আমাদের আগের শিক্ষাব্যবস্থার নীতি-নৈতিকতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
যে শিক্ষাঙ্গনে ছাত্ররা শিক্ষককে সম্মান করেনা, শিক্ষককে জোর করে, মারধর-অপদস্থ করে , গলায় জুতার মালা দিয়ে বিদায় করে শিক্ষাঙ্গন থেকে সেই দেশে, সেই দেশের শিক্ষাঙ্গণে আমরা আর বকই বা আশা করতে পারি শিক্ষার ? কথায় কথায় মারামারি, ক্লাস বন্ধ, অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।
শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করেছে। এসব নিয়ে ড. ইউনূসের না ছিল উদ্বেগ, না ছিল শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান। প্রতিটি ভাষণে শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বরং তিনি এসব প্রশ্রয় দিয়েছেন।
সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী যিনি একসময়ে বাস ঘরানার রাজনীতি করতেন সেই ইমতিয়াজ মাহমুদ কিন্তু অন্য বামপন্থীদের মত নন। তিনি যুক্তি দিয়ে কিছু কথা বলার চেষ্টা করেন বাস্তবতার নিরিখে।
তিনি গত চব্বিশের ৫ আগষ্ট ও তার পরে ইউনুসের ‘মেটিকুলাস ডিজাইনে’ তৈরী জঙ্গী-ছাত্র-অভ্যুত্থানকারিদের হাতে নির্মম-পৈশাচিক ও মধ্যযুগীয় বর্বরতায় খুন করা, জীবন্ত ও অর্ধজীবন্ত পুলিশ সদস্যদেরকে পুড়িয়ে মারা বিভৎসতা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেছেন- পুলিশ হত্যার তদন্ত ও বিচার হবে শুনে অনেকে ভয় পাবেন, এটা অস্বাভাবিক কিছু না। একজন নাকি ঘোষণাই দিয়ে বসে আছেন যে পুলিশ হত্যার তদন্ত শুরু হলে তিনি দেশ ছেড়েই চলে যাবেন। এরকম প্রতিক্রিয়া তো অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু বিচার তো হতে হবে ভাই।

কালই হয়তো হবে না, পরশু হতে পারে। পরশু যদি না হয় তার পরে হবে। বিশ-পঁচিশ বছর পরে হলেও বিচার হবে। দেশের কোনাকানা প্রত্যন্ত অঞ্চলে নানা জায়গায় কতো পুলিশ প্রাণ হারিয়েছে- পূর্ণ সংখ্যাটাও আমরা নিশ্চিত জানিনা। তিন হাজার বা সাড়ে তিন হাজারের মতো বলছেন সবাই। এতোগুলি হত্যাকাণ্ড, এগুলির বিচার হবে না?
আসলে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে যেসব মব সন্ত্রাস হয়েছে তার আদৌ কোন বিচার হবে? আর কে করবে সেই বিচার? নতুন বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও বিচার বিভাগ ?
আমি ব্যক্তিগতভাবে সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দিহান। আপনারা আশা করতে থাকুন। তবে আমি অন্তত সেই আশাবাদীদের দলে নেই। তাহলে কি “ মব সন্ত্রাস জিন্দাবাদ” চলতেই থাকবে এ বাংলাদেশে?
# ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও নারী অধিকার সংগঠক।
