আমেরিকান ডিপষ্টেট আর নোবেল ক্রেতা ড. ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর ২ লাখ মা হোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া এই বাংলাদেশ বারবার বিধ্বস্ত হয়েছে। আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর ভৌগোলিকভাবে স্বাধীন, নতুন পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত, নতুন সংবিধান পেলেও এসব বার বারই ক্ষতবিক্ষত হয়েছে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তির করাল থাবায়। তখন আমরা শকুন দেখেছি কালো-ধুসর রঙ মিশ্রিত। কিন্তু এর মধ্যেই সাদা শকুন লুকিয়ে ছিল।

তা আমরা বুঝতে পারিনি, দেখতে পারিনি। আর তো দেখতে না পারার পেছনে অনেক কিছু কাজ করেছে। তবে যেটি সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে বা এখনো ভোগাচ্ছে তা হলো অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, আত্মতুষ্টি ।

এই আত্মবিশ্বাস ও আত্মতুষ্টি কিন্তু একধরনের দম্ভও তৈরী করেছিল। যার ফলে পতন ছিল অবশ্যম্ভাবী। অপ্রতিরোধ্য। তার পেছনে ষড়যন্ত্র ছিলই। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র ধরতে না পারাটাও চরম বোকামি।

বাঙ্গালি জাতির চরম বিপদের সময়ে কিন্তু যারা পরম বন্ধু ছিল তারা কিন্তু বার বারই সাবধান করেছিল, চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল কারা কিভাবে ষড়যন্ত্র করছে।

নিজের ঘরের মধ্যেই যে সেই ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছিল এবং বিদেশ পরাজিত শক্তি সেই জালকে আরও শক্ত করতে ও জাল বিস্তার ও তা দিয়ে ফাঁদ পেতে তাদের শিকার হাসিল করতে পেরেছে তা বুঝতে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

আর যখন বুঝতে পারা গেলো তখন আর কিছুই করার রইলোনা। নিজের হাত নিজে কামড়ানো ছাড়া।

এতক্ষণ যে কথাগুলো বলছিলাম তা মূলত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারি দল আওয়ামীলীগ সম্পর্কেই বলছিলাম। কেউ কেউ হয়তো বলবেন- কেন আওয়ামীলীগ ছাড়া কি বাংলাদেশে আর রাজনৈতিক দল নেই ? হ্যাঁ তা আছে ঠিকই। তবে বাংলাদেশ অভ্যুদ্বয়ের সঙ্গে যে দলটির নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত তা হলো আওয়ামীলীগ।

যে রাজনৈতিক নেতার অঙ্গুলি হেলনে পাকিস্তানের মসনদ শুধু কেঁপেছিল নয়, ভেঙ্গে পড়েছিল তাসের ঘরের মত- সেই নেতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই অমোঘ সত্যটিকে কেউ অস্বীকার করতে পারবেন কোন যুক্তি দিয়ে?

একাত্তরে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইসলামী রাষ্ট্র নানাভাবেই বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি দল আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে মেতেছিল। যা এখনো অব্যাহত আছে।

১৯৭৫ এর সেই ভয়াল ১৫ আগষ্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে (শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এই দুই বোন বিদেশে থাকায় সৌভাগ্যক্রমে রক্ষা পেয়েছিলেন) হত্যা করে প্রথম প্রতিশোধ নিলো। তবে সেটি করেই ক্ষান্ত হয়নি এ গোষ্ঠী। আওয়ামীলীগ যাতে আর ক্ষমতায় আসতে না পারে বাংলাদেশে সেজন্য নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছিল এবং অব্যাহত আছে।

কিন্তু এ দলটি বার বার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এদেশের সাধারণ জনগণের ওপর ভরসা করেই। জনগণই আওয়ামীলীগের মূল শক্তি। তবে কখনো কখনো দলীয় কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বার বার মাশুল দিতে হয়েছে।

পঁচাত্তরের পর অনেকদিনতো বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের নামও নেয়া যেতোনা। অনেকদিন পর শেখ হাসিনাকে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী করে দেশে ফেরানো হয়। নানান চরাই-উৎরাই পেরিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দলটি।

সংসদে বিরোধী দল হিসেবে ও রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করাই যেনো দলটির একমাত্র কাজ ও পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে স্বাধীন বাংলাদেশ । কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তার পরিসমাপ্তি ঘটে। তারপরে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় এই দলটি ক্ষমতার বাইরে ছিল।

এর মধ্যে দলটিকে গঠন করতে হয়েছে নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।
তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দলটি নির্বাচনের মধ্য দিয়েই তার রাজনৈতিক পথচলাকে সঙ্গী করেছিল।

১৯৯৬-২০০১ সালপর্যন্ত: শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।

২০০৯-২০১৪ সাল: ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ৬ জানুয়ারি ২০০৯-এ সরকার গঠন।

এরপর ২০১৪-২০১৮: ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় সরকার গঠন।

আবার ২০১৮-২০২৪: ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন।

সবশেষ ২০২৪-২০২৫সালের ৫ আগষ্ট জঙ্গী-সামরিক ক্যু এর আগ পর্যন্ত এ দলটি ক্ষমতায় ছিল। ২০২৪ এর ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জিতে টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করেছিল। তবে এ তিনটি নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। তবে দলটি কখনো সামরিক ক্যু এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করেনি। কারণ এর জন্মই হয়েছিল গণমানুষের আস্থা ও সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে।

সেই পাক সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে বাংলাদেশেও সেই সামরিক স্বৈরাচার ও ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে।

তবে এরই মাঝে শেষ তিনটি ইলেকশনে অনেকটা একতরফাভাবে জিতে আসাতে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে একধরনের প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস ও আত্মতুষ্টি পয়ে বসেছিল। যা প্রকারান্তরে একধরনের দম্ভ তৈরী করেছিল দলের বেশ কিছু নেতার মধ্যে। আর সেই ফাঁকে বেশ কিছু আগাছা-পরগাছা তাদের শেকড় গেঁড়ে বসেছে দলের মধ্যে।

এসব আগাছা-পরগাছাই দলকে সাধারণ জনগণ থেকে অনেকটা দুরে নিয়ে গিয়েছিল। এমনকি মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন তো দূরের কথা তাদেরকে বরং সরিয়ে রেখেছিল ওইসব অতি উৎসাহী আগাছা-পরগাছা গোছের নেতৃত্ব।

তবে সেই ’৭৫ এর বিয়োগান্তক ঘটনা আর ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের জঙ্গী-সামরিক ক্যু এর কথাই বলিনা কেন এসব ক্রান্তিলগ্নে কিন্তু বাংলাদেশের অকৃত্রিম দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারত ও রাশিয়া সতর্ক পরামর্শ দিয়েছিল।

কিন্তু দলের মধ্যেকার কিছু চাটুকারের ফাঁদে পড়ে ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে দলটিকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। এখনো দিচ্ছে। শুধু আওয়ামীলীগ ডোবেনি এর ফলে, পুরো বাংলাদেশ ও জাতি ডুবেছে গভীর সমুদ্রে।

ড. ইউনুসের অবৈধ –অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় বসে দেশটিকে একটি জঙ্গী-অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু ও একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

অতি সম্প্রতি গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশন নামক সিলেকশনের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার গঠিত হওয়ার পর দেশবাসি কিছুটা হলেও শ্বাস সুযোগ পেয়েছে বোধ হয়।

তবে একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও তাদের বিটিম এনসিপিসহ ইসলামী জোটভুক্ত ১১ দলের যে বিরোধীদল সংসদে দেখবে দেশবাসী তা নিশ্চয় বিএনপির জন্য কোনভাবেই সুখকর হবেনা।

নিশ্চয়ই সামনের দিনগুলো বিএনপির রাজনীতির জন্য অনেক কঠিন সময় আসছে।

সিলেকশনের ভোটে জয়ী বিএনপি সরকার মাত্র যাত্রা শুরু করেছে। কিন্তু আমরা দেখছি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় তাদের অফিস খুলে উল্লাস করেছেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। আবার যুবদল, এনিসিপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা ওইসব কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে, আগুন দিয়েছে।

যদি আওয়ামী লীগ কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেটা দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের, যুবদল কিংবা এনসিপির নয়।

সরকারের নির্বাহী আদেশে আপাতত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। অনেকে এই আইনকে পছন্দ না করতে পারেন ,কিন্তু যতদিন এটি বলবৎ আছে, ততদিন তো সামলে বুঝে চলতে হবে। কৌশলে রাজনীতিতে আওয়ামীলীগের মত একটি পোড় খাওয়া দল বার বার ভুল করছে বোধ হয়।

জানি এ ধরনের কথা বলাটি আওয়ামীলীগের অনেকেই পছন্দ করবেন না। কিন্তু ওই যে একটি কথা প্রচলিত আছেনা- “যখন আওয়ামীলীগ জেতে তখন শুধু তারাই জেতে, আর যখন হারে তখন পুরো দেশটিই হারে”। এ কথাটি শতভাগ সত্য।

কিন্তু এই চরম ও পরম সত্যটি কি আওয়ামী নেতৃত্ব বোঝেননা , নাকি বুঝেও একধরনের আত্মতুষ্টি ও আত্মম্ভরিতায় ভোগেন ?

বন্দুকের নলের মুখে সামরিক ছাউনি থেকে বের হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারি ছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি প্রেসিডেন্টও হলেন। তার মূল কৌশল ছিল- ভারত বিরোধীতা, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার, ইসলামকে রক্ষা। তাকে সামরিক ক্যু এর মাধ্যমে হত্যা করে আরেক সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ ক্ষমতায় ছিলেন অনেকদিন।

এরপর আবার জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনিও একই নীতি গ্রহণ করেছিলেন তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার ও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য।

তবে এবার দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডন থেকে দেশে ফেরা ও বেগম জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিন্তু বেশ মিষ্টি মিষ্টি কথা বলছেন। তার কাছ থেকে এখনো ভারত বিরোধীতার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এটিই তার নতুন রাজনৈতিক কৌশল।

তবে একসময়ের ‘মি: টেন পর্সেন্ট’ তারেক রহমানের মিষ্টি কথায় যারা বিভ্রান্ত হবেন তাদের কপালে সত্যিই দুঃখ আছে। ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরে স্লোগান দেওয়ার জন্য এক আওয়ামী সমর্থক নারীকে আটক করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে কিভাবে হেনস্থা করা হয়েছে তাও জাতি দেখেছে অতি সম্প্রতি।

ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারে ফুল দিতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়, পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দিয়েছে।

অথচ বিএনপি গত ১৬ বছর নিশ্চিন্তে প্রয়াত জিয়ার কবরকে ঘিরে নানা কর্মসূচি পালন করেছে।

বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি’র নেতাকর্মীরা ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারে আগুন দিয়েছে।

সম্প্রতি আওয়ামীলীগের একদল নেতাকর্মীর কর্মকান্ড দেখলে অনেকটা দুঃখ লাগে। কারণ অনেকটা বোকার মত এরা এই ভয়াবহ দুঃসময়ে এসেও বারবার বিএনপি ও জামায়াতের ফাঁদে পা দিচ্ছে। ইদানিং দেখছি বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামীলীগের অফিস খুলে দেওয়ার ছবি দিচ্ছেন অতি উৎসাহে। তারপরে কি ঘটছে?

সেটিও একটু চিন্তা করুন আপনারা। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে আপনারা ছবি-ভিডিও দিচ্ছেন।

আর তার পরপরই জামায়াত-শিবির-এনসিপি-বিএনপি’র ক্যাডাররা আবার সেই অফিস ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ করছে। বঙ্গবন্ধুর ছবিকে অসম্মান করছে। এই যে তাদেরকে উষ্কিয়ে দেয়া কি ঠিক হচ্ছে তাও ভেবে দেখতে বলি।

কারণ এখনকার সরকার বিএনপি’র নেতৃত্বে। কিন্তু তাতে আওয়ামীলীগের অত গদগদ ভাব কেন সেটাই মাথায় আসেনা আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে। বিএনপি ও তাদের আপন মায়ের পেটের খালাতো ভাই হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামী যে আওয়ামীলীগকে নাস্তানাবুদ করতে ষড়যন্ত্র করছেনা তার নিশ্চয়তা কেউ দিয়েছে ? তা যদি না হয় তাহলে অতি উৎসাহী আবেগ কখনোই মঙ্গল বয়ে আনবেনা।

গত চব্বিশের ৫ আগষ্টের পর জঙ্গী ইউনূস মবের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে মব সম্রাট উপাধি পেয়েছেন । তার মবোক্রেসির রাজত্বে ইলেকশন নামক সিলেকশনে নতুন নেতা একসময়ের কথিত যুবরাজ তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেছেন।

অতীত কেমন ছিল দেশবাসী জানেন নিশ্চয়ই। তবে গত ১৭ বছরে লন্ডন প্রবাস থেকে দেশে ফিরে তিনি যে পুরোপুরি সাধু হয়ে গেছেন তা চিন্তা করা নিশ্চয়ই ঠিক হবেনা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি সবসময়েই একটি চরম সুবিধাবাদী দল।

২০০১ সালে তারেক রহমানের যে হাওয়া ভবন ছিল তা তো জামায়াতের সহযোগিতায়ই গড়ে উঠেছিল। ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে তখন বেগম জিয়া ও তার পুত্র তারেক জিয়া কিন্তু রাজাকারদের ক্ষমতার অংশীদার ও তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিতে দ্বিধা করেনি।

ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে জন্য তারেক রহমান ও জামায়াতের যোগসাজশে সেই ২০০৪ এর ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আওয়ামীলীগ কি তা ভুলে গেছে ? সেই তারেক রহমান হঠাৎ করে আওয়ামীলীগের ত্রাতা হয়ে উঠবেন তা ভাবছেন কি করে এই দলটির নেতাকর্মীরা ?

নাকি হঠাৎ করে রাজাকার-আলবদর ও একাত্তরের খুনী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কয়েকটি বক্তব্য -বিবৃতি দেওয়াতেই চরম পুলকিত বোধ করছেন এই দলটির নেতাকর্মীরা ?

মনে রাখা দরকার জিয়াউর রহমানও কিন্তু রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন।

পাকিস্তানী নাগরিক ও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ তৎকালীন জামাতের আমীর গোলাম আযমকে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন শুধুমাত্র ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য।

তাই তারই পুত্র তারেক জিয়া সেটি ভুলে গেলে চরম বোকামি হবে। যিনি আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রথম সারিরে নেতৃত্বকে খুন করতে গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনার ষড়যন্ত্র করতে পারেন তিনি হঠাৎ করে আওয়ামীলীগের বন্ধু হয়ে উঠবেন- এমনটি ভাবছেন কী করে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা?

নীতি-আদর্শ-দেশপ্রেম-সাহস ও কৌশলকে কাজে লাগিয়েই রাজনীতির মাঠে জয়ী হতে হয় তা নিশ্চয়ই আওয়ামীলীগকে বাহির থেকে কাউকে মনে করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন নেই। এ দলটির এখনো হাজার হাজার দেশপ্রেমিক-বঙ্গবন্ধু প্রেমিক নেতা-কর্মী-সমর্থক রয়েছে।

যারা শুধুমাত্র সঠিক নির্দেশনা পেলে জীবন বাজি রেখে মাঠে নামতে দ্বিধা করবেনা। কিন্তু কোন অবিচনাপ্রসূত-হঠকারি সিদ্ধান্ত যেনো কারো মায়ের বুক খালি না হয়। তাদের পরিবারের জন্য যাতে কোন আহাজারি বয়ে না আনে সেটি ভাবতে হবে।

কারণ দেশপ্রেম মানে শুধু অকাতরে প্রাণ দেয়া নয়। অদম্য সাহসের সাথে কৌশলী সঠিক সিদ্ধান্ত- যা বিজয়কে নিশ্চিত করবে তেমন সময়োপযোগী রণকৌশল গ্রহণ করতে হবে।

# ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও নারী নেত্রী।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *