আইনী লড়াইয়ে সাংবাদিক ও ইউটিউবার আনিস আলমগীর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। নিশ্চয়ই এটি সাংবাদিকদের কাছে একটি সুখবর। সংবাদমাধ্যমের জন্য সুখবর। তবে এটি কি স্বস্তির কোন বার্তা সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের জন্য?
এর মধ্য দিয়ে কি বাংলাদেশের সাংবাদিকরা প্রাণখুলে লেখার বা প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করার স্বাধীনতা পেয়ে গেছেন? বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে সাংবাদিকদের আর কোন ভয় নাই এমন কোন সিগন্যাল কি পাওয়া যাচ্ছে তাতে?
এটি কি তবে বিগত নোবেল লরিয়েট ইউনুসীয় সরকারের সময়কার পরিস্থিতির চেয়ে উন্নত কোন কিছু হচ্ছে বলে মনে করা যেতে পারে? আসলে শুধুই প্রশ্ন জাগছে মনে। উত্তর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা কোন পক্ষ থেকেই।
বা এই যে আমরা বিভিন্নভাবে মত প্রকাশ করে যাচ্ছি আমাদের জন্য কি নবীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোন অভয়বাণী দিয়েছেন ? নতুন তথ্যমন্ত্রী কি তেমন কোন বার্তা দিয়েছেন সাংবাদিক বা সংবাদ মাধ্যমের জন্য ?
একেবারে অভয়বাণী না দিলেও নতুন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে নানা সময়ে মিডিয়ার স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা বিষয়ে বেশ কিছু কথা বলেছেন।

সবশেষ গত ১৩ মার্চ শুক্রবার তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ এবং গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে স্বাধীন গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের কার্যক্রম জনগণের সামনে আয়নার মতো তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব।
শুক্রবার বগুড়া শহরের করতোয়া কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। দেশে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। (দৈনিক ইত্তেফাক, ১৪ মার্চ এর অনলাইন এডিশনে পাওয়া খবরের সূত্র থেকে)।
সাংবাদিক আনিস আলমগীর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সে খবরটি দিয়ে লেখাটি শুরু করেছিলাম। তবে এতে খুশীর জোয়ার বয়ে যাওয়ার মত তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি নিশ্চয়ই। যদিও এই মুক্তিতে উল্লসিত হয়ে অনেকেই সরকারকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন।

সাংবাদিক-কলামিষ্ট সৈয়দ বোরহান কবীর এ ব্যাপারে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন- আনিস আলমগীরকে মুক্তি দেয়া হয়েছে, কিন্তু সাবেক প্রধান বিচারপতি, আমার শিক্ষক বিচারপতি খায়রুল হককে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
৮২ বছর বয়সী বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

তাঁর মুক্তি ঠেকাতে সে সময়কার ৩০ দিন বয়সী ইউনুস সরকার ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় নতুন একটি হত্যা মামলায় বিচারপতি খায়রুল হককে আসামী করেছে। মানে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর সংস্কৃতি অব্যাহত আছে।
ভাবতে পারেন, একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি, যার বয়স ৮০ র উপর, তিনি এক শিক্ষার্থীকে হত্যা করতে ধানমন্ডি থেকে যাত্রাবাড়ী গেছেন!
সৈয়দ বোরহান কবীরের মন্তব্যের সঙ্গে একটু যোগ করে পাঠকদের সবিনয়ে স্মরণ করিয়ে দেই- বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছিল মব সৃষ্টি করে। এই মব তৈরি করেছিল বিএনপি।
বিচারপতি হকের উপর বিএনপির ক্ষোভের প্রধান কারণ, সংবিধানের ৫ম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে দেয়া ঐতিহাসিক রায়। যে রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানের শাসনকালকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছিল। তাই ইউনুসের দানব শাসনের অবসানের পরও এখনও দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার কিছুই প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বিগত ড.ইউনুস গংয়ের অবৈধ সরকারের আমলে, ইউনুস, বিএনপি, এনসিপি এবং জামায়াতের বিবেচনায় যারা তাদের জন্য হুমকি, তাদেরকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে মব সৃষ্টি করে। এখন বিএনপির অপছন্দের ব্যক্তিদের নানা মামলা দিয়ে আটকে রাখা হচ্ছে। তাদের কারাবাস দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে।
তাই শুধু আনিস আলমগীরের মুক্তিতে খুশী হওয়ার মতো এমন কিছু ঘটেনি এটি বলতেই হচ্ছে।
সৈয়দ বোরহান কবীর বলেছেন- ‘ আমি সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। আমি শাহরিয়ার কবির, শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু, শাকিল- রুপা সহ বিনা বিচারে, বানোয়াট মামলায় সকল আটক ব্যক্তির মুক্তি চাই।

আমি সরকারের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত আদালত চাই “এমন দাবি একজন সাংবাদিক-কলামিষ্ট করতেই পারেন। তাতে দোষের কিছু দেখিনা। তিনি আরো যেসব সাংবাদিকের মুক্তির কথা বলেছেন আমিও ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে শুধু একমতই নয়, বরং আরেকটু বাড়িয়ে বলতে চাই। দাবি করতে চাই।
তা হলো- গত চব্বিশের ৫ আগষ্টের জঙ্গী-সামরিক ক্যু এর পরে যেসব সাংবাদিক-কলামিষ্ট-মানবাধিকার সংগঠক-মুক্তচিন্তার মানুষসহ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় যারা সোচ্চার ছিলেন সেসব গ্রেপ্তারকৃত নাগরিকদেরকে কোন শর্ত আরোপ ছাড়াই মুক্তি দেয়া হোক।
পাশাপাশি সারা দেশে যে শত শত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উদ্ভট কিছু মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে সেসব মামলা প্রত্যাহার করা হোক। কারন সাংবাদিকগণ আর যাই হোক কোথাও নিশ্চয়ই খুন করতে যাননি, বোমাবাজি করতে যাননি। এ বোধ নিশ্চয়ই সবার আছে।
কিন্তু সেই বোধ থাকলেও অযথা বেশ কিছু সাংবাদিকের ওপর ও সংবাদমাধ্যমের ওপর নানা ধরনের তরবারী বা কতলযন্ত্র নেমে এসেছে। যা কোন ভাবেই কাঙ্ক্ষিত তো নয়ই গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য চরম ভয়াবহ একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাই বিএনপির নতুন তথ্যমন্ত্রী যিনি নব্বইয়ের দশকে এদেশে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে প্রথম সারির অন্যতম ছাত্রনেতা ছিলেন তিনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন।
কবে বিষয়টি হলো- তিনি বুঝলেই কি সমস্যার সমাধান হবে? কারণ এসব মামলার সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও সম্মতির প্রয়োজন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টি আনলাম এজন্য যে, এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ ভালোভাবেই জানেন প্রেস ফ্রিডম কি বিষয়। কারণ তিনি দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে মানে দীর্ঘ ১৭ বছর প্রেস ফ্রিডম, ডেমোক্রেসি, মানবতা-মানবাধিকার চর্চা বা অনুশীলনের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্র বা সমাজ যুক্তরাজ্যে কাটিয়েছেন। আশা করি তিনি সেই চর্চা বা অনুশীলনের ব্যত্যয় ঘটাতে চাইবেন না।
আমরা একটু পেছনে যেতে চাই। তবে সেটি খুব বেশি পেছনে নয়। মাত্র গত বছর মানে ২০২৫ এর অক্টোবর মাসের ৭ তারিখ। সেদিন বিবিসি বাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জনাব তারেক রহমান এই সাংবাদিক হয়রানী বা সংবাদ মাধ্যমের ওপর নানা ধরনের হয়রানির ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন- “আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, বিএনপির অতীত সরকারের সময় যেরকম সাংবাদিকদের গুম করা হয়নি। সাংবাদিকদেরকে নির্যাতন করা হয়নি। সাংবাদিকদেরকে দেশ ছেড়ে যেতে হয়নি, বাধ্য হতে হয়নি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও হবে না”।
তবে এটি ছিল তার বাংলাদেশে আসার আগে বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে এমনকি বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়ারও আগে। এখন কি তার সেই কথার কোন নড়চড় হয়েছে কিনা তা অবশ্য আমরা জানতে পারিনি।
এদিকে সাবেক অবৈধ-অসাংবিধানিক-অগণতান্ত্রিক ইউনুস সরকারের সমালোচনা করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া সাংবাদিক আনিস আলমগীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেই সরকারের ওপর।

তিনি মন্তব্য করেন– ‘ড. ইউনূস নিজেই বলেছেন যে, আপনি মন খুলে আমার সমালোচনা করেন। ওনার সমালোচনা করার পর উনি আবার গ্রেপ্তার করেন। শুধু গ্রেপ্তার করেনি, আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দিলেন। তাতেই ক্ষান্ত হননি, আমাকে আবার একটি হয়রানিমূলক মামলা দিলেন দুদক দিয়ে। যেটা আরও হাস্যকর।’
নিজের জেলজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আনিস আলমগীর বলেন, ‘পুরো তিন মাস আমাকে জেলে থাকতে হয়েছে। জেলে আমার প্রতিটা ক্ষণ, প্রতিটা দিন কীভাবে যে গেছে, এটা বলতে পারব না। প্রথম এক মাস কী অমানুষিক নির্যাতন আমার ওপর দিয়ে গেছে, একটা রুমে ৩৫ জন লোক ছিল। পরবর্তী পর্যায়ে একটু ভালো পরিবেশে নিয়ে আসা হয়েছে।’
আনিস আলমগীর বলেন, এখন আইনের একটা জুলুম চলতেছে, যেটা ড. ইউনূস চালু করে দিয়েছেন। সেই জুলুম যদি কন্টিনিউ করে, তবে সেটা মানুষ ভালোভাবে নেবে না।’
তিনি বলেন, ‘যেকোনো একটা জেলে গিয়ে দেখবেন, শুধু একটা দলের রাজনৈতিক কর্মীরা জেল খাটতেছে। আর কোনো কর্মী নেই। এমন লোকদের নিয়ে এসেছে, যাদের পদ–পদবি কিছুই নেই। তাদের পদ–পদবি দেওয়া হয়েছে।’
বর্তমান বিএনপি সরকারকে দ্রুত দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে আনিস আলমগীর বলেন, ‘বর্তমান সরকার যেভাবে চালাচ্ছে, তাতে এখন পর্যন্ত সিম্পেথাইজড যে, আইনের শাসন ফিরিয়ে আনবে। সেটাতে আমি আশাবাদী। আমি মনে করি যে, এটা আরও দ্রুত করা উচিত।’
জিজ্ঞাসাবাদের নামে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) নেওয়া হয়। পরদিন তাকে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।
একদিকে তথ্য মন্ত্রীর আশার বাণী, একসময়কার লন্ডনপ্রবাসী তবে এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আশার বাণীতে কিছুটা বিশ্বাস রাখতে চাইছি। কিন্তু তখনই চট্টগ্রামে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে এক ছাত্রদল কর্মীর মামলা দায়েরের ঘটনা নিশ্চয়ই স্বস্তির সু-বাতাস বা বার্তা দিচ্ছেনা। বিশ্বাসেও ফাটল ধরছে।
কারণ এ মাসের ১২ তারিখ প্রকাশিত একটি খবর থেকে যা জানতে পারলাম- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে চট্টগ্রামের সাত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলা হয়েছে।
গত ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার সাইবার ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের বিচারক কাজী মিজানুর রহমানের আদালতে মামলাটি করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী। গত জানুয়ারি মাসে তিনি ঘোষণা দিয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলে যোগদান করেন।
তিনি ফটিকছড়ির নানুপুর এলাকার শাহ সিদ্দিক বাড়ির আবদুর রহিমের ছেলে। বাদীর আইনজীবী আরিফ উর রহমান চৌধুরী বলেন, আদালত সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২৬ (১) ও ২৬ (২) বাদীর অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিকদের তিনটি সংগঠন। তারা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং রিদুয়ান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা ও সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।
যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের আমলেও আগের মতোই বাক্ স্বাধীনতা, ভিন্নমত ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চক্রান্ত করছে সুযোগসন্ধানী একটি চক্র। সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এই যদি হয় অবস্থা তাহলে সাংবাদিক-সংবাদপত্র তথা সংবাদমাধ্যম কি ভয়বিহীন বা মুক্তভাবে কাজ করতে পারবে? গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা বা চর্চার মূল বিষয় হলো অপরের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা মতামতকে শ্রদ্ধা করা। সেটি কি হচ্ছে?
এই যে ছাত্রদলের রিদুয়ান সিদ্দিকী মামলা দায়ের করে সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করতে চাইছেন এটি কোন শুভ চিন্তার চর্চা হকে পারেনা। বিএনপি সরকার ও তাদের দলের নেতাকর্মীদের এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেয়া অত্যন্ত জরুরী।
# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।
