অনেক আগে ছোটবেলায় ‘বায়োস্কোপ‘ দেখেছি। ছোট একটি টিনের বাক্সে করে সেই বায়োস্কোপ ওয়ালা আসতেন পাড়ায় পাড়ায়। একটি টিনের বাক্সের মধ্যে ছবির রিলের মতো কিছু দৃশ্য থাকতো, আর বাক্সের বাইরে থেকে দেখার জন্য দুই থেকে চারটি ক্ষুদ্র ফুটো থাকতো।

সেখানে চোখ লাগিয়ে ভেতরের সেসব দৃশ্য দেখতে কতই না মজা লাগতো। সেই বায়োস্কোপ দেখার জন্য আমরা একদল শিশু-কিশোর হুমড়ি খেয়ে পড়তাম।

বায়োস্কোপ ওয়ালা বেশ সুর করে বলতেন আহা তার পরেতে কি এলো.. কি চমৎকার দেখা গেলো .. ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার মত অনেকেই হয়তো বায়োস্কোপ দেখেছেন। তখনকার সেই বায়োস্কোপের কথা মনে পড়ে গেলো এখনকার জঙ্গী-সেনা সমর্থিত ইউনুস রেজিমের একের পর এক বয়োস্কোপমার্কা কর্মকান্ড দেখে।

গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে তৎকালীন মার্কিন সরকারের ডিপস্টেট আর তাদের নীলনকশা অনুযায়ী ‘নোবেল লরিয়েট’ ড. ইউনুসের ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’এর ‘জঙ্গী-সেনা ক্যু’ করে একটি দেশকে শেষ করে দেয়ার পর থেকে জাতিকে বায়োস্কোপ দেখাচ্ছে ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট।

আর সেই বায়োস্কোপে একের পর এক দৃশ্য এসে হাজির হচ্ছে। আমরাও এক অবিমৃষ্যকারি বাঙ্গালি জাতি সেই বায়োস্কোপে একের পর এক দৃশ্য দেখে যাচ্ছি অবলীলায়! দিন দিন সবাই যেন ভাবলেশহীন হয়ে যাচ্ছি।

‘জঙ্গী-সেনা ক্যু’ কে বলা হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। তখন যে নির্বিচারে স্নাইপার রাইফেল দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, পুলিশকে মেরে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, একের পর এক থানা, পুলিশ ফাড়ি লুট, আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হলো, মা হতে যাওয়া এক অন্তস্বত্তা পুলিশ সদস্যের আকুতি শোনার পরও তাকে খুন করা হলো, সিরকারি টিভি ভবন, রাষ্ট্রায়ত্ব মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি স্থাপনা জ্বালিয়ে দেয়া হলো—এর সবকিছুইতো কথিত সেই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত জঙ্গী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে।

কিন্তু এই পৈশাচিক খুন-ধর্ষণ-হত্যাযজ্ঞ-আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া-মানুষের মরদেহ উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখার মত মানবতাবিরোধী অপরাধ সবই জায়েজ করে দিলো এই জঙ্গী ইউনুস সরকার!

তার মানে গণহত্যার সরকারি বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি!! এর পাশাপাশি মেধার ধুয়া তুলে কোটায় চাকরি সুবিধা দেয়া হয়েছে হাজার হাজার জামায়াত-শিবির-হিযবুত তাহরীর ও কওমী মাদ্রাসার জঙ্গীদেরকে।

শুধু কি তাই অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের সুপার চ্যাম্পিয়ন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আততায়ীর হাতে নিহত ( জামায়াত-গোয়েন্দা পরিকল্পিত) হাদীর ভাইকে লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে উচ্চপদে চাকরি দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শুরু করে সরকারি হেন কোন প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে হাজার হাজার জামায়াত- শিবির- হেফাজত- হিযবুত তাহরীরসহ ইসলামী জঙ্গীদের চাকরি দেয়া হয়নি। অথচ দেশে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ‘কোটা না মেধা’ এই ধুয়া তুলে শিক্ষার্থীদেরকে খেপিয়ে তোলা হয়েছিল।

আর সেখানে এখন এদেরকে সরকারি চাকরি দেয়া হচ্ছে কথিত জুলাই যোদ্ধা হিসেবে।

কোটা না মেধা? মেধা মেধা করে চিৎকার করা জঙ্গীদের মধ্য থেকে যে তিনজন উপেদেষ্টা ছিল ইউনুসের ইন্টেরিম গভমেন্টে তারা কি মেধায় নিয়োগ পেয়েছিলেন না কোটায় সেটাও একটু জানতে চায় জাতি।

তাহলে কেউ যদি প্রশ্ন তোলে তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি ভুল বলেছিলেন? তিনি শুধু প্রশ্ন তুলেছিলেন মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিদের চাকরি না দিয়ে ওই রাজাকারদের নাতিপুতিরা চাকরি পাবে? আর তাতেই এদেশের সুশীলরা সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছিলেন।

কিন্তু সেসব সুশীলদের এখন আর মুখে রা নেই। কারণ তারাওতো পেট্রোডলারের বড় ভাগ পেয়েছেন।

তারমানে এখন আমাদেরকে ধরে নিতে হবে- মেধার দিন শেষ জঙ্গী কোটার বাংলাদেশ!

গত ১৫ জানুয়ারি এই সুশীলদের অন্যতম বড় পত্রিকা প্রথম আলোর একটি খবরের দিকে চোখ পড়লো। তা হলো- “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিতে অধ্যাদেশ অনুমোদন”। খবরের ভেতরে বলা হয়েছে- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশ উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারি হবে।

আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশে সংঘটিত কার্যাবলি থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জুলাই ও আগস্টের সময়কালে সংঘটিত কার্যাবলি থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ইতিমধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে সে মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেবে সরকার।

এ ছাড়া এখন থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা করা যাবে না।

স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মত সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক যে, খুনের লাইসেন্স কি তবে এখন সরকারি গেজেটে?

একটুখানি চেন্তা করলেই বোঝা যায়- উপদেষ্টা পরিষদ নতুন অধ্যাদেশ পাশ করেছে, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানকারীদের কোনো বিচার হবে না।

খুনিকে অপরাধী বলবেন, নাকি দেশপ্রেমিক, তা এখন আর আদালত নয়, ঠিক করবে একটি ‘অধ্যাদেশ’। এই অধ্যাদেশ দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিতে পারে।

এই অধ্যাদেশ বিপজ্জনক কেন সে আলোচনায় আসলে বোঝা যাবে কেন ?

প্রথমত: অপরাধের অবাধ অধিকার: রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে যেকোনো হত্যাকাণ্ড বা অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ থাকছে।

দ্বিতীয়ত: আদালতের এখতিয়ার হরণ করা হয়েছে এর মধ্য দিয়ে। ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে মানবাধিকার কমিশনকে পুলিশের সমান ক্ষমতা বা ফৌজদারি অপরাধের দায়মুক্তির সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া সরাসরি বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

তৃতীয়ত: বিপজ্জনক নজির: ভবিষ্যতে যেকোনো সরকার এসে তাদের ক্যাডার বাহিনীকে বাঁচাতে এই একই আইনের দোহাই দেবে।

ইতিহাস কি তবে ফিরে আসছে?

১৯৭৫-এর ইনডেমনিটির বিরুদ্ধে মানুষ লড়াই করেছে। ২০০৩-এর অপারেশন ক্লিন হার্টের দায়মুক্তিকে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছে। আবার সেই বাংলাদেশে ২০২৬ সালে একই জঘণ্য অপরাধের দায় চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে এ বাঙ্গালী জাতির কাঁধে।

সাধারণ বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের বুঝতে অসুবিধে হয়না যে, দায়মুক্তির সোজা বাংলায় অর্থ হল অপরাধ স্বীকার করে নেওয়া। এরপর সেই স্বীকৃত অপরাধের বিচার বন্ধ করার জন্য আইন তৈরী করাও জঘন্য অপরাধ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার (United Nations High Commissioner for Human Rights) ভলকার তুর্কের হিসেবে গত ২০২৪ এর জুলাই আগস্টে ১৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। ইউনুস সরকার তালিকা করেছে ৭০০ প্লাস।

তালিকাভুক্তদের নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে,বাকি ৭০০ জন হত্যার বিচার যাতে না হয় তার জন্য দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।সারা পৃথিবীর ইতিহাসে এটি নজীরবিহীন ঘটনা।

জঙ্গী তোষণকারি ও মদদপুষ্ট ইউনুস সরকারের এই দায়মুক্তি ভবিষ্যত সরকার পতনের আন্দোলন বেগবান হবে।

আন্দোলনকারী ধরে সে বা তারা যতই অপরাধ করুক সরকার পতন করতে পারলে তারা দায়মুক্তি পাবে।

ফলে এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রবণতা বেড়ে যাবে এদেশে, এ সমাজে।

কারণ আজকের দায়মুক্তি আইনের শাসনকে খাদের কিনারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যার কুফল পুরো বাংলাদেশের নাগরিকরাই ভোগ করবে। ভোগ কতে বাধ্য।

অথচ যেই প্রতারক অধ্যাপক আসিফ নজরুল বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় বিভিন্ন হত্যার হত্যার বিচারের কথা বলেছেন তারস্বরে,বাক স্বাধীনতার কথা বলেছেন ,আইনের শাসনের কথা বলেছেন, আজ তার হাতেই এসবের কবর রচিত হলো। সাব্বাশ আসিফ নজরুল! সাব্বাশ শান্তির ফেরিওয়ালিা ড. ইউনুস !

বাংলাদেশের ইতিহাসে কলংকজনক এই ইনডেমনিটি

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পাক-মার্কিন নীলনকশায় বাঙ্গালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর তদানীন্তন “মীরজাফর রাষ্ট্রপতি” খন্দকার মোশতাক আহমদ ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স ঘোষণা করে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করার পথ বন্ধ করে দেন।

সেই অধ্যাদেশে বলা হয়, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভোরে সংঘটিত ঐতিহাসিক পরিবর্তন এবং সামরিক আইন জারির সঙ্গে সম্পর্কিত, অথবা সে উদ্দেশ্যে কোনো পরিকল্পনার প্রস্তুতি, বাস্তবায়ন কিংবা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কার্য বা বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বা অন্যান্য কার্যধারা গ্রহণ সীমিত করা সমীচীন বলে বিবেচিত হয়েছে।’

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে এই আইনকে বৈধতা দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এই আইনকে বিলুপ্ত করে দিয়ে পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া চালু করে।

পরে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের অনেকেরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের মাধ্যমে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীকে মাঠে নামায়।

২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি সময়ের মধ্যে ‘অপারেশন ক্লিন হার্টের’ মাধ্যমে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করার ক্ষেত্রে যৌথ বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত বিচারবহির্ভূত কার্যক্রম তথা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার যাতে বিচার না হয়, সে জন্য ২০০৩ সালে যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন পাস করা হয়।

অবশ্য আইনজীবী জেড আই খান পান্নার করা এক জনস্বার্থের মামলা শুনানি শেষে ২০১৫ সালে উচ্চ আদালত এই আইনটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন।

অপারেশন ক্লিনহার্টের সময় ৫৮ জনের মতো ব্যক্তি ‘হার্ট অ্যাটাকে’ মৃত্যুবরণ করেন অথবা যৌথ অভিযানে নিহত হন। অনেকে আহত হন।

জামায়াত-শিবিরসহ এই হত্যাকান্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িতরা গত চব্বিশের কথিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঘটনাবলির জন্য দায়মুক্তি দেওয়ার দাবি তুলেছিল অনেক আগেই।

গত ২০২৫ এর অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আদেশ জারি করে যে, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনার জন্য কোনো মামলা, গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হবে না।

সুনির্দিষ্টভাবে ১৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সংগঠিত গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ঘটনাগুলোকে মাথায় রেখে এরূপ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া গত ২০২৫ এর ৫ আগস্ট জারি করা জুলাই ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।’

সাম্প্রতিক দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি আবার সামনে আসে। জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গত ২৫ ডিসেম্বর এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে ৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের এক দিন পর মাহদী ও ১১ দিন পর সুরভী জামিন পান।

এই মাহাদী থানায় বসে চিৎকার করে পুলিশ হত্যার বিষয়টি সদম্ভে ঘোষণা দেয়। তাকে নানা সামাজিক সমালোচনার পর গ্রেপ্তার করা হলেও তার পরদিনই সসম্মানে জামিন দিতে বাধ্য হয় আদালত।

এমন পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ৪ জানুয়ারি তিন দফা দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতাকে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

কেউ কেউ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতার সময়কার ঘটনাবলীর বিষয় তুলে ধরে তার সাথে চব্বিশের ‘জঙ্গী-সামরিক ক্যু’ এর মত জঘণ্য অপরাধকে মিলিয়ে ফেলার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।

তাদের উদ্দেশ্যে বলি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলার দামাল মুক্তিযোদ্ধাসহ অল্পকিছুসংখ্যক স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি রাজাকার-আলবদর-আলশামস ছাড়া সারাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। একটি জাতির জন্ম হয়েছিল সেই মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। পৃথিবীর ইতিহাসে একটি গর্বিত জাতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল বাঙ্গালী।

কোথায় ত্রিশলক্ষ শহীদ আর দুই লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আর কোথায় কোন “ইসলামী জঙ্গী-সামরিক ক্যু”? কিসের সাথে কিসের তুলনা?

জুলাই ইনডেমনিটি গেজেট পাশ হবে। কিন্তু কালের আবর্তে সেটিই আবার বাতিল হবে। তখন ইতিহাসের এই জঘণ্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যাক্তিদের অবস্থাটি কি হবে তাও একটু ভেবে দেখার অনুরোধ করি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের ইনডেমনিটি ও সেই ঘৃণ্য-কুখ্যাত হত্যাকারি ও ষড়যন্ত্রকারিরা আজ কোথায়? ক্ষমতা কারোই চিরস্থায়ী নয়। তা সে যেই হোন না কেন। আর কত বায়োস্কোপ দেখবে এ জাতি?

# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *