চব্বিশের ৫ আগষ্ট ইসলামী আমেরিকান ডিপষ্টেট আর শান্তির দূত(!!) ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনে ‘জঙ্গী-সেনা ক্যু’ এর পর এদেশের সু-নাপিত ( সুশীল) সমাজ যারপরনাই খুশিতে উদ্বেলিত হয়েছিল।

একই বছর ৮ আগষ্ট প্যান্সের হাসপাতাল থেকে ছুটে আসা ড.ইউনুসের বদৌলতে বাংলাদেশে দুধের নহর বয়ে যাবে বলে প্রবল আশা নিয়ে ছিলেন তারা।

হ্যাঁ , তাদের সেই আশা সফল হয়েছিল ইউনুস ও তার বশংবদসহ জামায়াতী-উগ্র ইসলামপন্থী ও লুটেরাদের জন্য। তারা তখন সমানে প্রচার করছিলেন- নতুন বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশ তরতর করে এগিয়ে যাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে। বৈষম্য মুক্ত দেশ হবে, দুর্নীতি বন্ধ হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে না, আইনের শাসন-ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। নারীরা যথাযোগ্য উচ্চ মর্যাদা পাবেন।

এমনকি শিক্ষাঙ্গনে মেধার অবাধ প্রতিযোগিতা হবে, কোটা উঠে যাবে।

মেধার বিকাশে বাংলাদেশ বিশ্বে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে। নারীর সম্মানের বদলে নারীরা হয়েছেন চরম অপমানিত-লাঞ্ছিত। বাংলাদেশে সবাই মন খুলে কথা বলবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। এক মানবিক দেশ গড়ে তুলবে। এমনই খোয়াব দেখছিলেন এই সুশীলরা।

অবশ্য এমন খোয়াব দেখিয়েছিলেন এই প্রতারক-ভন্ড-অবৈধ ক্ষমতা দখলকারি ইউনুস। হাত নেড়ে, নানা অঙ্গভঙ্গি করে এই খলনায়ক তার কথার মায়াজালে এদেশের মানুষকে সম্মোহিত করেছিলেন। এটি অস্বীকার করার জো নেই।

কিন্তু সেই খোয়াব ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। কিন্তু তারপরও বোধ হয় বাংলাদেশীদের শিক্ষা হয়না !
কিন্তু কিছুদিন পরেই দেশবাসী বুঝতে পারে তারা এক চরম প্রতারক-জোচ্চোরের পাল্লায় পড়েছে। তখন হাঁসফাঁস করতে থাকে সবাই।

গত ১৭ মাস পরে যদি আমরা তার শাসনামলের হিসেবের খাতা খুলে দেখি, তাহলে দেখবো জমার খাতায় শুধু শূন্য নয় তার চেয়েও আরো কঠিন অবস্থার মধ্যে ফেলেছেন তিনি এই বাংলাদেশকে।

অথৈ মহাসাগরে দেশবাসীকে ভাসিয়ে এই নোবেল লরিয়েট তাঁর ও তাঁর দেশী-বিদেশী দোসরদের পোয়াবারো করে বিদায় নিয়েছেন ঠিকই। অথচ তার অবশেষ রেখে গেছেন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে স্তরে।

এমনকি ইউনুস ক্ষমতা ত্যাগের আগে এমন এক অধ্যাদেশ জারি করিয়ে গেছেন যে তাঁকে আগামী এক বছর পর্যন্ত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স তার নিরাপত্তা বিধান করবে।

এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ইউনুসের ক্ষমতাকালে তার প্রেস সচিব সেই ‘ডাস্টবিন শফিক’ দাবি করেছেন- এই স্পেশাল সিকিউরিটি ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা।

কিন্তু এই ডাষ্টবিন শফিক ‘ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর ইন্টেরিম সরকারের পার্থক্য কৌশলে লুকিয়ে জাতিকে বোকা বানাতে চাইছে। তখন আইন পাশ হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য। আর ইউনুসের সরকার ছিল ইন্টারিম সরকার।

যদি এই সিকিউরিটি বজায় থাকে তাহলেতো ইউনুস ক্ষমতায় চেয়ারে না বসেও তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নানা কিছুই করবে।

বিএনপি সরকারের তার সুবিধা ভোগীদের সংখ্যা অনেক। ফলে বিএনপিও অনেকটা বেকায়দায় পড়েছে। বিশেষ করে আমেরিকার সাথে এমন সব ননডিসক্লোজার চুক্তি করে রেখে গেছেন ড. ইউনূস তার ১৭ মাসের শাসন-শোষণকালে যা এখন বিএনপি’রতো বটেই সারা দেশবাসীর গলায় ফাঁস হয়ে দেখা দিয়েছে।

দেশবাসীর কাছে এই ইউনুসীয় শাসনকাল শুধুই হতাশার বেদনার, দুঃস্বপ্নের কালো অধ্যায়।

এই ভন্ড-সুদখোর-প্রতারক ইউনুস যে কি জিনিষ তা বুঝেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ইউনুস সম্পর্কে যা যা মন্তব্য করেছিলেন ও তার বিরুদ্ধে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তার সবকিছুই যে সঠিক ছিল তা বুঝতে পারছে এখন দেশবাসী।

কিন্তু বুঝলে কি হবে? দেশের যা সর্বনাশ করার তা তো আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব না।

কারণ এখন যদি আমেরিকার সাথে যেসব চুক্তি করেছে সেগুলো বাতিল করতে যায় বিএনপি সরকার তাহলে তারাই আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেনা।

এ বিষয়টি নিশ্চয়ই বিএনপির চেয়ারম্যান ও নবীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার দলের লোকজন বুঝতে পারছেন। কিন্তু তারাও আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনাকে উৎখাতে অনেকবছর চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র করেছিলেন।

মোক্ষম সময়-সুযোগ পেয়ে তারাই বা সেটি হাতছাড়া করবেন কেন? সেই ২০২৫ এ ড. ইউনুস যে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে ছুটে গিয়েছিলেন ও ‘একান্তে বৈঠক’ করে ভবিষ্যৎ করণীয় ঠিক করেছিলেন তাও বোঝা গেছে।

তবে এমন বিপদে ফেলে যাবে বিএনপিকে নানাভাবে তা কিন্তু তাদের ধারণারও বাইরে ছিল।

ইউনুস সরকার প্রথমেই যে পেরেকটি ঠুকে দিলেন বাঙ্গালি জাতির কপালে তা হলো- সেই কথিত জুলাই অভ্যুত্থানের কুশীলব ও ইউনুসীয় সরকারের সময়কালে যত অপরাধ করেছে সেগুলোর কোন বিচার করা যাবেনা। মানে সব অপরাধের “ দায়মুক্তি” বা “ইনডেমনিটি” চালু করে গিয়েছেন।

মানে যাবতীয় অপরাধ জায়েজ করে গেছেন। অপরাধ করেও তারা কোন শাস্তির আওতায় আসবেনা। বাংলাদেশে কোন বিচার করার যাবেনা এসব কুখ্যাত অপরাধীদের !!

এই কথিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের ফৌজদারি দায়মুক্তি এবং আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে ইতিমধ্যেই।

গত ২৫ জানুয়ারি প্রকাশিত এক গেজেটে এ অধ্যাদশ জারি করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে। যা পরবর্তীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি প্রদানে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করে উপদেষ্টা পরিষদ।

ভাবুনতো একটিবার আপনারা। আমার কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর সেই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটির কথা বার বার মনে পড়ে। যতবারই মনে পড়ে তা ততবারই আঁতকে উঠি। কি জঘন্য এক ষড়যন্ত্র!!

খুন-ধর্ষণ-পুলিশহত্যা-থানা পোড়ানো-অস্ত্র লুটপাট-জেল থেকে জঙ্গী, ভয়ংকর সন্ত্রাসীদেরকে ছেড়ে দেয়া, তাদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলা থেকে খালাস, ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর অমানবিক অত্যাচার, সাংবাদিকদের হত্যা ও বিনা বিচারে জেলখানায় পুড়ে রাখা, অসংখ্য সাংবাদিককে অবৈধ মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ নানা মানবাধিকার অপরাধের কোন বিচার করা যাবেনা?!

হায় খোদা, এ কোন জংলী-অসভ্য দেশে বাস করছি আমরা?!

এক নজরে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি কি তা একটু দেখে নেই।

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ (Indemnity Ordinance) হলো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে হত্যার সাথে জড়িত খুনিদের বিচার থেকে দায়মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্যে প্রণীত একটি কুখ্যাত আইন।

২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে খন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকার এটি জারি করে এবং পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে সংসদে এটি আইন হিসেবে অনুমোদিত হয়।

এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মূল বিষয় হলো শাস্তি এড়ানো বা দায়মুক্তি। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করা যাবে না, এমন আইনি সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এটি প্রণয়ন করা হয়েছিল।

এই জঘন্য মানবতাবিরোধী অধ্যাদেশটি ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ভোটে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ার পর এই অধ্যাদেশ বা আইনটি বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ সুগম করে।

এটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা ও আইনের শাসনের ইতিহাসে একটি কালো আইন বা কুখ্যাত অধ্যাদেশ হিসেবে পরিচিত ।

মূলত বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুনের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল সেইসব খুনিদের আইনি সুরক্ষা দিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য এই আইন জারি করা হয়েছিল। যেই জিয়াউর রহমানের আমলে সংসদে এটি আইন হিসেবে পাশ হয়েছিলো সেই জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি কিন্তু এখন ক্ষমতায়।

এরই মধ্যে অবশ্য পুলিশ হত্যার বিচারের দাবি উঠেছে বাংলাদেশে বিভিন্নভাবে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ ষ্পষ্ট বলে দিয়েছেন –এসব বিচারের বিষয় নিয়ে কোন আলোচনা হতে পারেনা। তার ভাষায় এসব আগে থেকে ঠিক করা আছে।

তাহলে এই যে সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্যকে খুন করা হলো। কাউকে কাউকে খুন করার পর উল্টো করে বিভৎসভাবে ঝুলিয়ে রাখা হলো তার কোন বিচারই হবেনা এই “গণতান্ত্রিক” সরকারের আমলে। কোন কথাও বলা যাবেনা।

তো এদেশের পুলিশ বাহিনীও কি তা সহজে মেনে নেবেন বলে মনে হয় আপনাদের কাছে? তাদের পরিবারের সদস্যদের কোন অধিকার নেই তাদের স্বজনদের হত্যার বিচার চাওয়ার ? এ কোন বাংলাদেশে আছি আমরা?

যতটুকু বুঝতে পারি মব সন্ত্রাসের গডফাদার ড. ইউনূস বাংলাদেশে মব সন্ত্রাসকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে গেছেন। তার শাসনামলে এটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। যা এখনো বহাল রয়েছে। এই মব সন্ত্রাসীদের কথাই যেন সব।তারা যা বলেছে ও বলবে সেটাই যেনো আইন ও অবশ্য পালনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনে হচ্ছে- এরাই দেশের মালিক আর জনগণ ক্রীতদাস।

সত্যিকার অর্থে আমাদের এই নোবেল লরিয়েট বদমায়েশ ( এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করার জন্য দুঃখিত) ড. ইউনূসকে নিয়ে বলতে গেলে অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে লেখা।

তিনি বলেছিলেন- অর্থনীতি অপরিসীম চাঙ্গা করবেন। এজন্য আশিক চৌধুরীসহ নিজের লোকদের বিদেশ থেকে উড়িয়ে এনে বসিয়েছিলেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে।

স্যুট টাই পরা এসব প্রবাসীরা বিদেশি পাসপোর্ট নিয়ে দেশে এসে হইচই করলেন। বাংলাদেশ নাকি সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। আমরা সাধারণ মানুষরা তো আনন্দে আত্মহারা। কিন্তু কদিন পর আমরা দেখলাম বাংলাদেশ এখন উত্তর কোরিয়ারও নীচে।

পরে জানা গেল, এরা সবাই বিদেশি দালাল, বিদেশি নানা কোম্পানির এজেন্ট। এরা এসে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু বিক্রি করার তোড়জোড় শুরু করলো। ড. ইউনূস বললেন, এভাবেই তো দেশ এগোবে। নানা কেনাকাটার ধুম পড়লো। কিন্তু কোনটাই দেশের মানুষের স্বার্থে নয়।

ড. ইউনূস দেখলেন, বেসরকারি খাতকে যদি ধ্বংস না করা যায়, তাহলে বিদেশি কোম্পানির কাছে গ্যাস, সমুদ্র বন্দর, বিমানবন্দর ইত্যাদি বিক্রি করা যাবেনা। তাই বেসরকারি খাতের কোমর ভাঙার কাজ শুরু করলেন।

বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক হত্যা মামলা দায়ের করা শুরু হলো। মব বাহিনী শিল্পকারখানায় নির্বিচারে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করতে লাগলো। সরকার দূর থেকে তামাশা দেখতে থাকলো। ব্যবসায়ীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে হয়রানি করা হলো।

 

শিল্প কারখানায় গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। বেসরকারি উদ্যোক্তারা হতাশায় হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকাই নিরাপদ মনে করলো। বন্ধ হলো বহু কারখানা, নতুন করে বেকার হলো দেড় কোটি মানুষ। দারিদ্র্য সীমার নীচে চলে গেল আরও দুই কোটি মানুষ।

দেড় কোটি বেকার আর দুই কোটি চরম দরিদ্র মানুষ সৃষ্টি করেছেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এটাই তার জাতিকে উপহার।

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন ইউনুসীয় আইন উপেদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সমালোচকরা অবশ্য তাকে আসিফ ষাড় হিসেবেই ডাকেন ব্যঙ্গ করে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষ থেকে খেলাধুলাও মুক্ত রাখতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশের ক্রিকেটে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দরজা বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের জন্য বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। এসব ঘটনায় কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো তিনি দেশের মানুষকে জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।

প্রতিবেশী ভারতের সাথে শত্রুতা করে চরম বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। কিন্তু সেই ভারত থেকে চাল, পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানী বন্ধ করতে পারেনি। কারণ এসব ছাড়া যে দেশ অচল। ভারতের সঙ্গে শত্রুতা বাড়িয়ে একাত্তরের পরাজিত শত্রু পকিস্তানের সঙ্গে পিরীতি বাড়িয়েছেন।

পাকিস্তান-তুরস্ক-আমেরিকা যেন বাংলাদেশের পরম বন্ধু এমনটাই বোঝাতে চেয়েছেন বাংলাদেশের মানুষকে। আমেরিকাসহ অন্য বিদেশিদের সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী প্রকাশ্য-গোপন চুক্তি করেছেন। এই ফিরিস্তি অনেক লম্বা।

এক কথায় ড. ইউনূস তার শাসনামলে বাংলাদেশকে একটি অমানবিক ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৃষি খাত নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, তাতে করপোরেট পুঁজির হাতে বন্দী কৃষকেরা আরও বেশি শৃঙ্খলিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, একটা অধীনতার চুক্তি করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিদায় হলো।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে অবিভক্ত বাংলায় তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্রর জন্মশতবার্ষিকীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সাবেক শিক্ষক আনু মুহাম্মদ। অবশ্য তিনিও সেই জুলাই লালবিপ্লবের অন্যতম সহযোগী ছিলেন।

কিন্তু সম্প্রতি তিনি আবার রহস্যজনকভাবে ভোল পাল্টাতে শুরু করেছেন! বড়ই বিচিত্র এই তথাকথিত বামদের চরিত্র ও নৈতিকতা।

এদিকে হাইকোর্টে ঝুলে গেল ‘ঝুলাই সনদ ‘ থুড়ি কথিত “জুলাই সনদ’ ও গণভোট নামক ‘ঘনভোট’। তাহলে কি আবার নতুন করে এই সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশ – এমন প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের চিঠি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে ৩ মার্চ এক রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের বেঞ্চ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এই রুল জারি করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ। আর রিটের বিপক্ষে ছিলেন এনসিপির সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং জামায়াতের পক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ শিশির মনির ও ইমরান এ সিদ্দিক।

তার মানে কি দাঁড়ালো ? বিএনপি সংসদে এই ‘জুলাই সনদ ও গনভোট’ নিয়ে আলোচনার আগে আদালতের মাধ্যমে একটি যৌক্তিক ফয়সালায় যেতে চায় ? নাকি জামায়াত-এনসিপিকে একটু আইনগত রাজনৈতিক টাইটে রাখতে চাইছে ? তা বোঝা যাবে আরো কিছুদিন পরে।

ততদিন এটি আদালতেই ঝুলে থাকুক এমন কৌশল নিয়েছে বিএনপি ? সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে এ ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি—এই যুক্তিতে দুই আইনজীবীর রিটের পর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ জানতে চেয়েছেন, কেন এই অধ্যাদেশ ও আদেশগুলো অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।

এক্ষেত্রে রিটকারীদের দাবি– বর্তমান সংবিধানে ‘গণভোট’-এর কোনো বিধান নেই, তাই এটি অসাংবিধানিক। পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নেরও কোনো মজবুত আইনি ভিত্তি নেই।

অপরদিকে এর বিপরীতে জামায়াত ও তাদের বাইপ্রোডাক্ট গজায়মান দল এনসিপি পন্থী আইনজীবীদের মতে, গণভোট বা জুলাই সনদ অবৈধ হলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

তবে যত কিছুই হোক “ দায়মুক্তি” বা “ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ” বাতিল না হলে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার যাত্রা শুরু হবেনা।

# ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও নারী অধিকার সংগঠক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *