ঢাকা: ঢাকার শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার ‘স্লোগান ৭১’ এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপর দুইজন হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক মো. আসিফ আহমেদ সৈকত ও সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।

জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান–এর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো কী‌ অপরাধ ?

জাতির ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে স্মরণ করানোর জন্য তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এটা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি সরাসরি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার ওপর আঘাত।

৭ই মার্চের ভাষণ হচ্ছে সঞ্জীবনী। এটি কোনো সাধারণ বক্তৃতা নয়। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশনা, এটি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

এই ঘটনার পর আমরা কী বলবো?

বাংলাদেশে কি তাহলে ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ হয়ে গেল?‌ইতিহাসের দলিল বাজানো কি অপরাধ?মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে স্মরণ করা কি এখন অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে?

যারা ইতিহাসকে ভয় পায়, তারাই ইতিহাসকে দমিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু ইতিহাস কখনো কারো ইচ্ছায় মুছে যায় না।

ঢাকার শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার ‘স্লোগান ৭১’ এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপর দুইজন হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক মো. আসিফ আহমেদ সৈকত ও সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।

আজ, রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শনিবার বিকালে চানখাঁরপুল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজাতে গিয়ে দুজন আটক হন। তাদের মধ্যে আসিফ আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাইক অপারেটর ছিলেন অন্যজন।

এই দুজনকে আটকের প্রতিবাদে রিকশায় করে মাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি দিয়েছিলেন ইমিসহ কয়েকজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচনে বাম সংগঠনগুলোর ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী ছিলেন ইমি।

রাত ১০টার দিকে কয়েকজন মাইক ও ব্যাটারি ভেঙে ফেলে। হাতাহাতিও হয়।এই সময় ইমিসহ অন্যরা জাদুঘরের সামনে থেকে যান।

সেখানে যান ডাকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।

পরে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ ও সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের রিকশাটি টেনে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান।

ইমির সঙ্গে থাকা মামুনকে ছাত্রলীগ তকমা দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে থানার ফটকে নিয়ে মারধর করা হয়। ইমিকেও তেমনি মারধর করা হয়।

ইমি ও মামুনকে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *