ঢাকা: রাষ্ট্রদ্রোহিতার কাজ করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর বিরুদ্ধে এবার রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা ঠুকা হবে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাঁর দেয়া সাক্ষাৎকারে সমস্ত কিছু ফাঁস করে দিয়েছেন। কীভাবে তাঁকে জিম্মি করে রেখে এই দেড় বছর নিজের শাসন খাটিয়ে গেছেন ইউনূস। এই সমস্ত বিষয় বিশ্ব মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হয়েছে।

বাংলাদেশ আরেক খন্ড পাকিস্তান হওয়া থেকে বেঁচে যওয়ার কারণ মহামান্য রাষ্ট্রপতির দৃঢ়তা ও তিনবাহিনীর তাঁকে সমর্থন। রাজাকাররা রাষ্ট্রপতি অপসারণের জন্য কম চেষ্টা করেনি।

এবার হয়তো ইউনূস সংবিধান লঙ্ঘন, রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহসিন রশীদ।

তিনি বলেছেন, ইউনূসের কর্মকাণ্ড শুধু সংবিধান লঙ্ঘনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তা রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে।

তিনি একথাও বলেন, বর্তমান সরকার পদক্ষেপ না নিলে আমি নিজেই আইনগত ব্যবস্থা নেব।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার ইউটিউব চ্যানেল ‘মানচিত্র’—এ অংশ নিয়ে মোহসিন রশীদ এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন।

মোহসিন রশীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়ার পর রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি ছিলেন। সেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ না রাখা, নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে অবহিত না করা এবং সাংবিধানিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করা গুরুতর লঙ্ঘন। এটি শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, ইটস ট্রিজন।’

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতিকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে দেওয়া হয়নি।

তাঁকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মানসিক চাপে রাখা হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো নথিতে সই করানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি সহযোগিতা না করলে রাষ্ট্রে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারত। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রতীক, তাকে যথাযথ সম্মান না দেখানো রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার শামিল।

মোহসিন রশীদ আরো বলেন, একজন সাবেক উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতিকে ‘চোর’ বলেছিলেন—যার হাতে শপথ নিয়েছেন তাকেই চোর আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

প্রেস উইং অপসারণ, বঙ্গভবন ঘেরাও এবং রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের চেষ্টা এসব ছিল রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারবিরোধী কর্মকাণ্ড। এসব ঘটনার সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পৃক্ততা বা নীরব সমর্থন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি বা কমিশন গঠন করা উচিত।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র কোনো খেলার বিষয় নয়; রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে কি না তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা দরকার।
সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি আদালতে গিয়েছেন এবং রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করেছেন।

রায় হাতে পেলে তিনি রিভিউ করবেন। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অবৈধ বা অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

মোহসিন রশীদ বলেন, সরকার যদি কোনো ইনকোয়ারি কমিটি গঠন না করে, তবে তিনি নিজেই নোটিশ দিয়ে মামলার উদ্যোগ নেবেন এবং ইউনূসকে পক্ষভুক্ত করবেন। আগেও করেছি, আবারও করব।

উল্লেখযোগ্য যে, ইউনূস ক্ষমতার অপব্যাবহার করেছেন। ক্ষমতায় থাকতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলো নির্বাহী আদেশে তুলে নিয়েছেন। তিনি সৎ নন বলে আদালত ফেস করার সাহস তাঁর নেই।

রাষ্ট্রপতিকে অবরুদ্ধ করে রাখা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। যার শাস্তি সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। [দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ১২৪ক, সংবিধান ৫১(২) ] ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *