ঢাকা: যে এনসিপি ২৪ এর গণহত্যার বিচার চায় সেই এনসিপি এখন ৭১ এর গণহত্যাকারীদের সাথে জোট বেঁধেছে! তাহলে শেখ হাসিনার কথাই সত্যি হলো! ওরা রাজাকারের নাতিপুতি! রাজাকারের নাতিপুতি না হলে জামায়াতকে কেউ আপন করে?
দেশ ধ্বংসকারীদের নবগঠিত রাজনৈতিক সংগঠন ‘এনসিপি’ এর ছিপি খুলে গেছে। একে একে বের যাচ্ছে জুলাই সন্ত্রাসে নেতৃত্বদানকারী চেনা মুখগুলি।
এবার যারা বের হয়ে গেলেন তারা হলেন মরহুম মাওলানা ভাসানীর দৌহিত্র আজাদ খান ভাসানী, সেভেন সিষ্টার’স দখলখ্যাত তাবাসুম এবং মাষ্টার মাইন্ড হিজবুত তাহেরী নেতা বলে পরিচিত মাহফুজ আলম।
সব বিখ্যাত মানুষজন। এবার এনসিপি ছাড়ার তালিকায় যুক্ত হলেন দলটির কৃষক উইং-এর প্রধান সমন্বয়কারী ও মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি আজাদ খান ভাসানী।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে আজাদ খান ভাসানী বলেন, অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের হাত ধরে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে আমি যুক্ত হয়েছিলাম।
শুরু থেকেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত লড়াইয়ের এক ধারাবাহিক অধ্যায় হিসাবে আত্মস্থ করেছি। চুয়ান্ন বছরের পুঞ্জীভূত বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখাই ছিল আমার সেই পথচলার প্রেরণা।
মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর দেখানো গণমানুষনির্ভর, আধিপত্যবাদ-সাম্রাজ্যবাদ ও বৈষম্যবিরোধী পালনবাদী রাজনীতির স্বপ্ন থেকেই প্রথমে জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে যুক্ত হই। সেই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় দলের কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বও গ্রহণ করি।
তিনি বলেন, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, বাস্তব অভিজ্ঞতায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা, গণমানুষের প্রতি দরদ ও ত্যাগের যে গভীরতা প্রয়োজন এখানে তার স্পষ্ট ঘাটতি আমি অনুভব করেছি।
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত সাফল্য দেখা যায়নি।
এই বাস্তবতায় বেশ কিছুদিন ধরে সরাসরি সক্রিয় না থেকেও দলটির সঠিক রাজনীতি ও সাফল্য কামনা করে গেছি।
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা ও মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক আদর্শের পক্ষাবলম্বনই আমার কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই দায় ও আদর্শের প্রতি অবিচল থাকতেই আজ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিক সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি।
