ঢাকা: আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাস হচ্ছে সংসদে। জঙ্গী ইউনূসের পথেই হাঁটছে বিএনপি সরকার!?
বাংলাদেশের লেখক তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, ‘আমার মনে হয় না এত বড় ভুল করবেন তারেক জিয়া, একটা রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করবেন। যদি করেন, তাহলে তিনি নিশ্চিতই গণতন্ত্র মানেন না।
জামাতি ইসলামীর জিহাদি সন্ত্রাসীরা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে হাবিজাবি অনেক কিছুই করতে চাইবে, এসব প্রশ্রয় দেওয়া মানে নিজের পায়ে কুড়োল মারা।
জামাতে ইসলামীর সন্ত্রাসীরা বিএনপিকেও একদিন নিষিদ্ধ করবে। দেশে প্রগতির পক্ষের কোনও রাজনীতির অস্তিত্ব রাখবে না।
নিষিদ্ধের রাজনীতি বাদ দিন, বড় দলকে নিষিদ্ধ করে টিকে থাকার ষড়যন্ত্র বাদ দিন। দেশের উন্নয়ন করুন, মানুষের আর্থিক, সামাজিক, শিক্ষাগত ও স্বাস্থ্যগতসহ আদর্শিক এবং নৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করুন। সততা, আর সমতার পক্ষে থাকুন। দেশের মানুষ আপনাদের ভোট দেবে, কারচুপির দরকার হবে না’।
এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নিজামউদ্দীন বলেন, “প্রস্তাবিত আইনে বলা আছে আদালত কর্তৃক আওয়ামী লীগ দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বা দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা যাবে। কিন্তু সরকার যে গেজেট নোটিফিকেশনটি দিয়েছে সেটি আইনগতভাবে ঠিক হয়নি, সঠিক হয়নি, সেটি অবৈধ একটা পন্থা ছিলো।
আরেকটা বিষয় হলো, যে এই সংসদে- আপনারা হয়তো জানেন—সংসদ বসার ৩০ দিনের মধ্যে অর্ডিন্যান্সগুলো অনুমোদন নিতে হয়। এই সংসদে এটি উত্থাপিত হবে।
উত্থাপিত হলে সংসদ যদি এটি রেটিফিকেশন করে থাকে, সেই হিসেবে এই সংসদ আমি বলব হিটলারের রাইখস্টাগ (Reichstag) হিসেবে পরিণত হবে। কারণ এই সংসদ এ ধরনের আইন করতে পারে না।
আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দল, সে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে। এখানে আমি মনে করব পার্লামেন্টে অনেক সুধী ও বিজ্ঞজন আছেন, তাঁরা বিষয়টি দেখবেন। বিশেষ করে আইনমন্ত্রীকে আমি যতটুকু জানি তিনি অনেক পড়াশোনা জানা মানুষ, তিনি বিষয়টি ভেবে দেখবেন।
আওয়ামী লীগকে যদি সংসদে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়, আমি মনে করবো এটি ২১শে আগস্ট, ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে ক্ষত সৃষ্টি করেছিল, এটি আরেকটি ক্ষত সৃষ্টি করবে।”
তিনি আরও বলেছেন, “যারা অতীতে নিষিদ্ধ হয়েছিলো তারা এই ভয় থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে চায়। কারণ তাদের একটা আশঙ্কা আছে আওয়ামী লীগ যদি কখনো ফিরে আসে, তবে তারা তাদের আবার নিষিদ্ধ করবে। তারা চায় তাদের যেন নিষিদ্ধ না করুক।
এই রাজনৈতিক ফায়দা থেকে তারা চায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে। বিএনপি যদি নিষিদ্ধ করে তবে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ এসে একই পন্থা বিএনপির বিরুদ্ধে নিলে কারো কিছু বলার থাকবে না। তবে গনতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হবে।
যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়, এটি হবে চরম একটি ফ্যাসিস্ট কার্যক্রম। আপনি দেখেন ইতালিতে মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট শাসনের কথা বলেন, হিটলারের ফ্যাসিস্ট শাসনের কথা বলেন, এটি তারই নামান্তর হবে। ইতিহাস আসলে বারবার ফিরে আসে।
আজকে যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়, ইতিহাসের বিচার হলো সর্বশ্রেষ্ঠ বিচার।
আমরা মীর জাফরের কথা শুনেছি, মীর জাফরের কিন্তু তখন কোনো বিচার হয়নি, কিন্তু ইতিহাস তাকে কী হিসেবে চেনে? গালির সমার্থক হিসেবে চেনে। আজকে যারা এ কার্যক্রমের সাথে জড়িত আছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে, ইতিহাস একদিন তাদের কঠিন বিচার করবে।
যে দলের নেতৃত্বে ও অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে, সে দলকে এভাবে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নই আসতে পারে না। আওয়ামী লীগের কোন নেতা কর্মীর যদি কোথাও কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে থাকে, তবে সেটির বিচার হতে পারে উপযুক্ত আদালতে।
আওয়ামী লীগ অবশ্যই ফিরবে, সেটা দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে এবং মানুষের প্রয়োজনে, আওয়ামী লীগ আবারও ফিরবে। আওয়ামী লীগকে রোধ করার, প্রতিরোধ করার বা রুখার শক্তি আসলে কারো নাই। এটি একটি সাময়িক বিষয়। আওয়ামী লীগকে বাংলার জনগণই নিয়ে আসবে তাদের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে ও জাতির প্রয়োজনে।”
