ঢাকা: জঙ্গী ইউনূসের পথে হাঁটছে বিএনপি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে’ আইনে রূপান্তর করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। অধ্যাদেশটি সংশোধন করে শাস্তির বিধানও যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এতদিন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে।
আর এখন যদি একে শাস্তির বিধানসহ পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ দেওয়া হয় তাহলে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমানে এই অধ্যাদেশকে সংসদে নির্বাহী আদেশে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন আইনি কাঠামোর মধ্যে সংশোধনীয় বিল আকারে উপস্থাপন করে স্থায়ী রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এখানে রয়েছে আওয়ামী লীগ তার কার্যক্রম চালালে ৪ থেকে ১৪ বছরের জেলের মতো কঠোর শাস্তি। তাই এখন আগামি দিনগুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মিছিল, সভা সব আইনি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে! যেটা গত এক বছর থেকে আওয়ামী লীগ ফেস করে আসছে।
বিএনপির সরাসরি দ্বিচারিতা দেখা যাচ্ছে। যা তারা আগেও করেছে। ১৭ বছর পর এখন পিপাসা মেটাচ্ছে যা বাকি ছিলো।
এরা জনগণকে বলে এক করে আরেক। এটি তারেক রহমান-এর প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির প্রতিফলন এবং বিরোধী শক্তিকে দমন করে একদলীয় প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা!
‘স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি’কে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জামাতি পরিকল্পনা বিএনপি বাস্তবায়ন করছে।
এখন স্বৈরাচারী কে? দমননীতি কে নিয়েছে?
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের যারা নাচা গানা করেছিলেন তাঁরা এবার কী বলবেন? সাপ সাপই থাকে, মনে রাখবেন!
অধ্যাদেশ এবার আইনে রুপান্তরিত হচ্ছে। জামায়াত শিবির, এনসিপি, দেশের জন্য ক্ষতিকর বলে ভোট তো চেয়েছিলো বিএনপি, পেয়েও গেছে ক্ষমতা। ব্যস! তখন তো এই আইনের কথা বলেনি!?
আওয়ামী লীগ বিএনপি একে অপরের পরিপূরক আখ্যা দিয়ে ভোট ভাগিয়ে নিয়ে এখন ইউনূসের পথেই হাঁটছে এরা।
হাম মহামারি রূপ নিচ্ছে, জ্বালানি সংকট,
পেট্রোলপাম্প বন্ধ, পণ্যের দাম বৃদ্ধি – এগুলো থেকে মানুষের চোখ সরাতে এইবার আইন করে নিষিদ্ধ করা হবে মুক্তিযুদ্ধের দল আওয়ামীলীগকে।
এই বিএনপি জামাতের মোকাবিলা করতে পারবে তো?
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অধ্যাদেশ?
ইতিহাস বলে—দমন-পীড়ন দিয়ে কোনো আদর্শকে থামানো যায় না!
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অধ্যাদেশের জন্যই একদিন বিএনপির বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াবে।
আওয়ামী লীগ জনমনে কতটা শক্তিশালী তা তারা বুঝতে পেরেছে এরা। এটা করে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতি হুমকিতে ফেলে দিলো, এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা।
এই বিষয়টা এখনই করার প্রধান কারণ হচ্ছে বিএনপি দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে।
এইসব কিছু তাদের বিরুদ্ধে তুলে ধরবে মানুষ। মানুষের পক্ষে কথা বলবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। কারণ আওয়ামী লীগ থাকতে মানুষ এত চাপে পড়ে নাই কোনোদিন। মানুষ আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলবে, বলা শুরু করেছেই।
খুব ভালো বুঝে ফেলেছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ মানুষের জন্য রাজনীতি করে। প্রয়োজনে রাজপথে মানুষ জন্য লড়াই করবে আওয়ামী লীগ।
সে চাপ মোকাবেলা করতে আগে থেকে আওয়ামী লীগকে চুপ করাতে চাচ্ছেন “প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া”।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপি বলেছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। এত উদার কথাবার্তা কোথায় গেলো এখন?
সরকার গঠনের পর বিএনপি অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকছে।
আর শাস্তির বিধানসহ এটি আইনে পরিণত হলে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে স্বাভাবিকভাবেই আরো বেগ পেতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে গত ১৩ মার্চ উত্থাপন করা হয়।
সেদিন গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে ৩০ দিন তথা ১২ এপ্রিলের পর তা কার্যকারিতা হারাবে।
গত বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ পরির্বতন ছাড়াই আইনে পরিণত করতে সংসদে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করেছে।
১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। ১৬টি অধ্যাদেশে এখনই উত্থাপন নয় এবং চারটি রহিত করে হেফাজতের সুপারিশ আছে প্রতিবেদনে।
যে ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে এর অন্যতম হলো– ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’।
এই অধ্যাদেশ বলে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে গত বছর আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই আইনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্রলীগকে।
১১ মে রাতে যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের জন্য জড়িত থাকলে নির্বাহী আদেশে সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে।
এবং একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ মিছিল-সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, দলটির কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার-ব্যানার প্রচার করতে পারবে না, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যাবে না এবং সংবাদ সম্মেলন করতে পারবে না দলটি।
আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অধ্যাদেশে বলা হয়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন সভা-সমাবেশ করলে কী শাস্তি হবে।
ফলে এতদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার শাস্তির বিধান ছিল না।
