কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান প্রায় ৭২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থী রোকন রেজা শেখকে পরাজিত করেছেন।
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আপোষহীন কন্ঠস্বর বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ৭১ এর পক্ষের লোকেরা।
এই একটি মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অটল আছেন। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলার সাহসিকতা দেখিয়েছেন।
গত দেড়টি বছর দেশের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী যেই বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল বা করার চেষ্টা চলেছিল তার অবসান হলো। কিশোরগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বিশাল ব্যবধানে জয়ী হওয়ায় আনন্দের হাওয়া বইছে কিছুটা হলেও।
ফজলুর রাহমান সরাসরি জামায়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধকে কোন কিছু দিয়ে মুছে দেওয়া যায় না। তবে এখন দেখার বিষয় বিজয়ী দল কি করে। কাদের মন্ত্রী বানায়।
দেখা যাবে মেধাকে মূল্যায়ন করে নাকি দলান্ধতাকে মূল্যায়ন করে?
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, আসনটির ১৫০টি ভোটকেন্দ্রে ফজলুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৪ ভোট। আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রোকন রেজা পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৩২৬ ভোট।
ইটনা উপজেলায় ফজলুর রহমান পেয়েছেন ৫৪ হাজার ২৮৯ ভোট আর রোকন রেজা পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৩৯ ভোট।
মিঠামইনে ফজলুর রহমান পেয়েছেন ২৬ হাজার ৭৫৬ ভোট আর রোকন রেজা পেয়েছেন ২২ হাজার ৪৫১ ভোট।
অষ্টগ্রামে পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৯০৯ ভোট আর রোকন রেজা পেয়েছেন ১৩ হাজার ৯৩৬ ভোট।
তিন উপজেলায় ফজলুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বী রোকন রেজার চেয়ে ৭২ হাজার ৬২৮ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
এ বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি আমার আসনের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার শেষ বয়সে এলাকার মানুষ আমাকে যে সম্মান দেখিয়েছে, তা আমি রক্ষা করতে চেষ্টা করবো।’
এর আগে, নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনোই রাজাকার ও আলবদরের দোসরদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তাদের এ দেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে রাজাকার-আলবদরের রাজনীতি চলতে পারে না। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়াই আজকের দিনের প্রধান দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ, আমাদের ভূমিধস বিজয় আসছে।
