ঢাকা: যারা চায়ই নাই বাংলাদেশ হোক, যারা রাজাকার শব্দটাকে সম্মানের বলে মনে করে, যুদ্ধাপরাধীরা সংসদের মত পবিত্র জায়গায় ঠাঁই পায়, যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোকপ্রস্তাব রাখার দুঃসাহস করে,
সে দেশের স্বাধীনতা সত্যিকার অর্থে লজ্জিত হয়।

শহীদের আত্মা আজ কাঁদছে হয়তো। এ যে ভীষণ লজ্জা, ঘৃণার।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, সাম্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন যারা, তাঁদের হয়তো হৃদয়ে নীরব রক্তক্ষরণ ঘটছে।

মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে, রাজাকারদের ধিক্কার জানিয়ে, ভোটের আগে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট চেয়েছিলো বিএনপি ।

জনগণের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলেছে বিএনপি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পন্থী মানুষ শুধুমাত্র রাজাকারেরা ক্ষমতায় চলে আসবে এই ভয়ে, বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে, সংসদে পাঠিয়েছিলো ।

কিন্তু আজ কী হলো?

জাতীয় সংসদে রাজাকারদের জন্য শোক প্রস্তাব গৃহীত হলো, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার। এই লজ্জা রাখি কোথায়?

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ যুদ্ধাপরাধীদের জন্য শোক প্রস্তাব গ্রহণ, জাতীয় সংগীতের অবমাননা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতির আত্মমর্যাদার ওপর আঘাতের অভিযোগে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, মহান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতির আত্মমর্যাদাকে অবমাননার একটি নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।

মেট্রোপলিটন ডিভিশনের মাধ্যমে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোটের এক সদস্য কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা সংসদে গৃহীত হওয়ায় ইতিহাসের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব উপস্থাপনকে একাত্তরের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধকে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে ছাত্রলীগ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়ে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর মাধ্যমে বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা, নির্যাতন ও নারী নিপীড়নের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল জামায়াতে ইসলামী।

সেই অপরাধে অভিযুক্ত ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ কেবল ইতিহাসবিরোধীই নয়, বরং একাত্তরের শহীদদের রক্ত, বাঙালি জাতির সংগ্রামী ঐতিহ্য এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রচেতনাকে প্রকাশ্যে উপহাস করার শামিল।

বর্তমান সরকার যে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে, তা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল না। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রেখে সরকার গঠন করা হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করে। ফলে সংসদের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির এই অবস্থান গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ার প্রতিফলন বলে মনে করছে সংগঠনটি।

ছাত্রলীগ মনে করে, যদি বর্তমান সরকার সত্যিই গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী হয়, তবে অবিলম্বে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় আটক সকল রাজবন্দির মুক্তি এবং ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাওয়ার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির এই ঘটনা ও ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *