ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধ কি ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য হয়েছিল? এই কথা একমাত্র দেশবিরোধী, রাজাকার, পাকিস্তানপন্থী জামাত, শিবিরের মুখেই শুনবেন। তারা এই বিষয়টা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। পুরাতন শকুন দেশটাকে খামচে ধরেছে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই, কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ নয়।
কিন্তু কুষ্টিয়ার উপরওয়ালা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ধর্ম প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ! কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি মুফতি আমির হামজা রীতিমতো জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন।
এদের স্পর্ধা অনেক বেড়ে গিয়েছে। এবং সেটা অবশ্যই বিএনপির কৃতকর্মের জন্যেই।
তিনি মন্ত্রীকে সরাসরি ‘নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন—মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে আছেন, তাদের জিজ্ঞেস করুন তারা ধর্মবিদ্বেষী কি না!
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বনাম ধর্মীয় মূল্যবোধের রাজনৈতিক সংঘাত লাগাতে চাইছে পাকিস্তান পন্থীরা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় আমির হামজার নামে ১০০ কোটি টাকার মানমানির মামলা হয়েছে।
আজ, সোমবার, ৩০ মার্চ দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকারের আদালতে এ মামলাটি করেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার শুনানি শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে এটি আদেশের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়েছে।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া জেলার হাফসাই হরিপুর বড় মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজের খুতবার পূর্বে আলোচনা চলাকালে আমির হামজা ইচ্ছাকৃতভাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
তিনি মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ ও ‘আপাদমস্তক ইসলাম বিদ্বেষী’ বলে জনসমক্ষে অভিহিত করেন।
আরও বলা হয়, আমির হামজা একজন সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় বক্তা হওয়ায় তাঁর এ বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে তার অপূরণীয় মানহানি ঘটেছে।
এ মানহানিকর বক্তব্যের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার সম্মানহানি করা হয়েছে দাবি করে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ডব্লিউ-এ) ইস্যু করার আবেদন জানানো হয়েছে।
