পাবনা: আওয়ামীলীগ আমলে নিষ্ক্রিয় থাকা সেই চরমপন্থী সর্বহারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ফের!
সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ৩ জুন গঠিত পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি সশস্ত্র ও রক্তাক্ত রাজনৈতিক অধ্যায়।
সেই অধ্যায় কি আবারো ফিরছে বাংলায়? এমনিতেই তো ২০২৪, ৫ আগস্টের পর থেকে সন্ত্রাসীদের আখড়া হয়েছে দেশ।
মাওবাদী আদর্শে বিশ্বাসী সর্বহারা দলটি স্বাধীনতার পর ১৯৭৩-৭৪ সালে তীব্র সরকারবিরোধী ও সশস্ত্র অভিযান চালিয়েছিল। ‘লাল সন্ত্রাস’-এর মাধ্যমে তারা অস্থিরতা তৈরি করেছিল দেশে।
জঙ্গীদের কারাগার থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে ইউনূসের কালে। বর্তমান বিএনপি সরকার তেমন কঠোরতা দেখাতে পারছে না।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিপুল সংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করায় সংগঠনটি প্রায় নেতৃত্বশূন্য ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল।
সেই সর্বহারা আবার বেরিয়েছে গর্ত থেকে। আওয়ামী লীগ আমলে লুকিয়ে থাকা সমস্ত জঙ্গী, সন্ত্রাসীরাই একে একে বেরিয়ে আসছে, এসেছে! পোস্টার দেখা গিয়েছে তাদের।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-লাল পতাকা) দেয়াল লিখন এবং পোস্টার দেখা গিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোজার ঈদের দিন রাতে আতাইকুলা থানা এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার সাঁটানো হয়। পোস্টারে সর্বহারার সমাজতন্ত্র কায়েমের পাশাপাশি স্থানীয় তাঁত শিল্প রক্ষার কথা বলা হয়েছে।
রবিবার সকাল থেকে একদন্ত, লক্ষ্মীপুর, বৃহস্পতিপুর, ভুলবাড়িয়া, তেবাড়িয়া, শ্রীপুর, শিবপুর, শরৎগঞ্জ, ধানুয়াটা, বালুঘাটা, আয়েনগঞ্জ, হাদল, ধূলাউরীসহ বিভিন্ন বাজারে এই পোস্টার দেখতে পান স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, গোপনে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে তারা। হঠাৎ পোস্টার লাগানো তাদের নতুন করে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, চাঁদাবাজি, হত্যা, অপহরণ সব কিছু ছিল এদের দৈনন্দিন ঘটনা। অনেক বছর ভালো ছিলাম, শান্তিতে ছিলাম। হঠাৎ এই পোস্টার দেখে আবার রাতে ঘুম হচ্ছে না।
পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে যারা পোস্টার লাগিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, ১৯৭৩ ও ৭৪ সালে সিরাজ সিকদারের সর্বহারা পার্টি ২৪টি থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, ব্যাংক লুট করতে সক্ষম হয়।
১৬ ডিসেম্বরকে বিজয় দিবসের বদলে ভারত কর্তৃক পূর্ব বাংলা দখলের ‘কালো দিবস’ আখ্যায়িত করে ১৯৭৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর হরতালের ডাক দেয় সর্বহারা পার্টি।
‘৭৪ সালে ১৬ জুন আবার হরতাল ডাকে। হরতাল সফলের কর্মসূচী হিসেবে বোমা হামলা, খতম, রক্ষীবাহিনী-পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, পোস্ট অফিস, রেলস্টেশনে হামলা, রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে শুরু করে সড়কপথ অবরোধের ঘটনা ঘটায়।
১৬ ডিসেম্বর ‘কালো দিবস’ হিসেবে ১৯৭৪ সালের ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর- দুদিন আবার হরতাল আহ্বান করে সর্বহারা পার্টি।
অবশ্য সিরাজ শিকদার তার পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি প্রতিষ্ঠা সময় থেকে কত মানুষ হত্যা করেছে, এই প্রশ্ন কেউ করেনি বা করেনা!
