ঢাকা: জাতি হিসেবে আজ আমরা লজ্জিত!
শিরীন শারমিন চৌধুরী ছিলেন একজন স্পিকার। আর সংসদের স্পিকার পদটি কোনো দলের নয়; এটি একটি নিরপেক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব!
অথচ শিরীন শারমিনকে যেভাবে অপমান, অপদস্থ করা হয়েছে তাতে দেশের রাজনৈতিক দৈন্যতা প্রকাশ পাচ্ছে।
তাঁকে যেসব মামলায় আসামি করা হচ্ছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে⁉️
দায়ীদের জবাবদিহির পরিবর্তে,একজন সাবেক স্পিকারকে আসামি করে গ্রেফতার করা কতটা যৌক্তিক, তা ভাবার বিষয়!
কারণ তিনি শুধু দেশের প্রথম নারী স্পিকারই নন, বরং তিনি একজন সুশিক্ষিত, ভদ্র ও পরিশীলিত রাজনীতিবিদ হিসেবেও পরিচিত।
কিন্তু তাঁর সাথে যা হলো তা দেখে খুব মর্মাহত দেশবাসী।

প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনো ভালো কিছু বয়ে আনে না।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং মিথ্যা ও বানোয়াট হত্যা মামলায় গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়-
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর ওপর সংঘটিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
শিরীন শারমিন চৌধুরী মহান জাতীয় সংসদে সংবিধানসম্মত পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং তিনি দেশের প্রথম নারী স্পিকার।
একজন মেধাবী, পরিশীলিত ও মানবিক বোধসম্পন্ন নারী রাজনীতিবিদের প্রতি এ ধরনের অমানবিক আচরণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালনকারী এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে এ ধরনের আচরণ শুধু ন্যক্কারজনকই নয়, বরং তা নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের মিথ্যা মামলা ও নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিপন্ন করেছে।
বলা হয়, এটি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং আইনের অপব্যবহারের একটি জঘন্য দৃষ্টান্ত।
আমরা অবিলম্বে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।
পাশাপাশি জাতীয় নেতৃবৃন্দ-সহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং সকল রাজবন্দির মুক্তি চাই। বাংলাদেশকে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে এর বিকল্প নেই।
বিবৃতিটি শেষ করা হয় জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু দিয়ে।
