ঢাকা: আওয়ামী লীগ যখন যার উপকার করে সে পরে বেঈমানি করে। মির্জা ফখরুলও তাদের একজন।

আসলে জনসমর্থন আওয়ামী লীগের পক্ষেই আছে। জোরজবরদস্তি তাকে নিষিদ্ধ করে রেখে এখন বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা।

আওয়ামী লীগ দেশে আছে নিজের যোগ্যতায় জনসমর্থনে। রাজাকার ইউনুস আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে আরেক চখা রাজাকার পুত্র ফখরুল সেটিকে নিষিদ্ধ রাখার কথা বলে মূলত আওয়ামী লীগের উপকার করে দিলেন!

পরিষ্কার করে দিলেন মির্জা ফখরুল বিএনপি আসলে কী চায়!

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করেছে, এখনতো আর ইউনুস নেই, এখন বিএনপি সরকার।

আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে বিএনপি ও তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করেনি আওয়ামী লীগ সরকার। তবে বিএনপির মুখে এই কথা কেন? গণতান্ত্রিক পথে কী বিএনপি এখনো শেখেনি?

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে; বন্ধ আছে, বন্ধ থাকবে। বাকি যারা আছে, তারা কাজ করবে, করছেও।’

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সম্পর্কে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, ‘এরা হঠাৎ হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে। এগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। আমি যেটা মনে করি, পলিটিকসটাকে চলতে দিন, লেট পলিটিকস মুভ ইন ইটস ওন ওয়ে, লেট ডেমোক্রেসি মুভ ইন ইটস ওন ওয়ে। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কিছুকে দেখে রাজনীতিকে বন্ধ করে গণতন্ত্রকে আটকে দিয়ে, পথ বন্ধ করে দিয়ে…। লেট ইট মুভ, কাজ করুক না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ তো চেষ্টা করবেই কিছু কিছু কাজ করতে। করছে। লাভ তো হচ্ছে না। পিপল (জনগণ) তাদের রিজেক্ট করেছে।

কোন সমীক্ষায় তিনি একথা বললেন সেটা তো উপরওয়ালা জানেন ভালো।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্য ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ আছে, বন্ধ থাকবে’— স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বর্তমান বিএনপি সরকার আসলে ইউনূসের অন্তর্বর্তী শাসনেরই একটি বর্ধিত সংস্করণ।

ইউনূস যে ‘নিষেধাজ্ঞা-নিষেধাজ্ঞা’ খেলা শুরু করেছিলেন, বিএনপি সরকার এখন সেই একই ছড়ি ঘুরিয়ে চলেছে।

এই যে বিএনপি জয়লাভ করার সাথে সাথে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলো খুলে দেয়া হলো মহা উৎসাহে, সেটা আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হলো- ভাঙচুর হলো- আওয়ামী লীগের কর্মী বা নেতারা কী ভেবেছিলেন বিএনপি এসেছে মানে সব মুক্তি?

এমন উৎসাহ দেখা যাচ্ছিলো বিএনপি জেতার পর, মনে হচ্ছিলো আওয়ামী লীগ নিজেই ক্ষমতায় এসেছে আবার! অথচ বিএনপি যে জামাতের ঘনিষ্ঠ, তা ভুলে গিয়েছিলো আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে থাকতে তারা বিরোধীদলের ত্যাগের রাজনীতি আর রাজপথের লড়াইয়ের ভাষা ভুলে গেছে। তারা এখন অন্যের মুখাপেক্ষী, যেন কেউ এসে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেবে, ঝুড়িতে ক্ষমতা তুলে দেবে।

সঠিক সময়ে সঠিক পথ এবং আবেগ সংযত করা বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *