ঢাকা: জঙ্গী হাদি হত্যার পিছনে জামাত জড়িত। উগ্র চরমপন্থী জঙ্গি জামাতে বি টিম যারা হাদিকে হত্যা করে নির্বাচন পন্ড করতে চেয়েছিল, তাদের ঘাম ছুটছে ফয়সালের একটা কথাতেই।
ইনকিলাব মঞ্চ আতঙ্কে ছয় দফা দাবিও ঘোষণা করে ফেলেছে রবিবার মধ্যরাতেই। তাদের ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা আসে।
মঞ্চের দাবি হাদির বিচার বদ্ধ ঘরে হবে না! তারা আতঙ্কিত, জামাতের কথা ইতিমধ্যে যেহেতু চলে এসেছে এখন কারা কারা হত্যায় জড়িত সেটাও চলে আসবে। তাই যেভাবে হোক ফয়সালের দেশে নিয়ে আসতে হবে। দেশে আনলে আর কিসের বিচার। তারপর আরেকটা নাটক হবে।
ঘোষণার বিবৃতিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সই রয়েছে।
ভারতে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিকে রিমান্ডসহ পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নীরবতায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ইনকিলাব মঞ্চের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আটক হওয়ার পর ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে আজ তাদের আদালতে তোলা হয় এবং নতুন করে আবারো ১৪ দিনের হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু এই পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের রহস্যজনক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা আমাদের স্তম্ভিত করেছে।
বলা হয়, আসামিরা ধরা পড়াকে আমরা সরকারের সাফল্য মনে করেছিলাম এবং সেভাবেই উদযাপিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সরকারের ব্যর্থতাকেই আমাদের সামনে টেনে নিয়ে এসেছে।
এই অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চ জাতির সামনে নিম্নোক্ত ৬ দফা দাবি উত্থাপন করছে :
১. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই মুহূর্ত থেকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করতে হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে খুনিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এটি কোনো অনুরোধ নয়, জনগণের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম।
২. হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড বা নেপথ্যের কুশীলবদের আড়াল করার কোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. আসামিরা কীভাবে এবং কাদের মদদে সীমান্ত পাড়ি দিল? গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে থাকা কোন ব্যক্তিরা জড়িত ছিল কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাদের সহায়তা করেছে কি না, তা তদন্ত করে অতিদ্রুত নামগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং গ্রেপ্তার করতে হবে।
৪. ভারতে ‘ইউএপিএ’ আইনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে বিচার প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ সরকারকে একটি বিশেষ আইনি বিশেষজ্ঞ সেল গঠন করতে হবে।
এই সেল ভারতের আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে এবং অগ্রগতি জাতিকে অবহিত করবে।
এই আইনি সেলের মাধ্যমেই ১৫ দিনের মধ্যে খুনিদের দেশে ফেরানোর ব্যাপারে আইনি জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নিতে হবে।
৫. ওসমান হাদি হত্যার বিচার কোনো বদ্ধ ঘরে বা গোপন ট্রায়ালে হবে না। আমরা দাবি করছি, এটি হবে একটি ‘ওপেন ট্রায়াল সিস্টেম’, যা জাতীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। জাতি এই বিচারের স্বচ্ছতা দেখতে চায়, সরাসরি দেখতে চায়।
৬. আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দৃশ্যমান অগ্রগতি বা রোডম্যাপ ঘোষণা না করা হলে, ইনকিলাব মঞ্চ ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। রাজপথ থেকে জন্ম নেওয়া এই সংগঠন শহীদের রক্তের সঙ্গে কোনো আপস করতে জানে না।
