ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ভারতের উদ্বেগ চিরকালীন। এর কারণ অবশ্যই আছে। কারণ জামাত তো মানুষের পর্যায়ে পড়ে না। এদের জগৎ একদম আলাদা। এরা রাজাকার, পাকিস্তান, দেশদ্রোহীতা, ধর্ষণ, হত্যা ছাড়া কিছু বোঝে না।

আর জঙ্গীবাদকে ভারত ঘৃণা করে।জঙ্গীবাদকে ভারত প্রশ্রয় দেয় না।

জামায়াতের আদর্শিক অবস্থান এবং তাদের কট্টরপন্থী মনোভাব ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে দিল্লির নীতি-নির্ধারকরা মনে করেন।

জামায়াতের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর ঘনিষ্ঠতা ভারতকে সবসময় সতর্ক রাখে।

দেখা গেছে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলিতেই জামায়াতের জয়ের হার বেশি।

দক্ষিণবঙ্গ লাগোয়া সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহের ‘পুরনো ঘাঁটি’র পাশাপাশি মধ্যবঙ্গ ঘেঁষা মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা, উত্তরবঙ্গ লাগোয়া রংপুর বিভাগেও ভালো ফল করেছে জামায়াত ও তার সহযোগীরা।

এবারের ভোটের ফল মূলস্রোতের রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে জামায়াতকে।

নয়াদিল্লির কাছে জামায়াতের উত্থানের বিষয়টি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সীমান্তবর্তী এলাকায় মৌলবাদী শক্তির প্রভাব বাড়লে জঙ্গি সংগঠনগুলি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

এই আশঙ্কায় উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ও বসিরহাট, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন অঞ্চল, মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান-লালবাগ-বেলডাঙা, মালদহের বৈষ্ণবনগর-মেহেদিপুর, জলপাইগুড়ি, কোচবিহারের মতো এলাকাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অনুপ্রবেশের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না নিরাপত্তা কর্তারা। ভীষণ সতর্ক থাকতে হবে ভারতকে।

সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জঙ্গিদের ‘স্লিপার সেল’ সক্রিয় থাকার তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা।

সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, সীমান্তরক্ষী বাহিনী BSF-কে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *