ঢাকা: টোকাই এনসিপির বেলুন ফুটে গেলো। তাদের স্বরূপ তো আগেই বেরিয়েছে, এখন যেন আরো প্রকট দেশবাসীর সামনে।

গত কয়েকদিন ধরে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য জোট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এবং সেই সম্ভাবনা সত্যিই হয়েছে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এই বিষয়ে এনসিপির ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট সমঝোতায় যাবার পর দল ছাড়ার হিড়িক পড়েছে এক একজনের।‌

সামান্তা শারমিনসহ নীলা ইসরাফিল অনেকেই বোমা ফাটাচ্ছেন। তবে বোমা ফাটালেও জুলাই জঙ্গী আন্দোলনের দায় এরা কেউ এড়াতে পারবেন না। আসলে এই কথা আমরা না, জনগণ বলছে।

জনতা বলছে, তাঁরা দল ত্যাগ করলেও, ক্ষমা চাইলেও তাঁরা ক্ষমার অযোগ্য।

সামান্তা শারমিন আগেই বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।

দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই সতর্কতা জানান।

ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন লেখেন, ‘বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান বা দর্শনসহ কোন সহযোগিতা বা সমঝোতায় যাওয়া এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে বলে আমি মনে করি।’

তিনি বলেন, “সম্প্রতি রাজনৈতিক জোট প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল নেতারা মন্তব্য করেছিলেন, জামায়াতের ‘জুলাইয়ের স্পিরিট’ এবং বাংলাদেশের নিয়ে পরিকল্পনায় একমত হলে যেকোনো দল জামায়াতের সঙ্গে জোটে আসতে পারে।”

সামান্তা শারমিন আরও লিখেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টির এত দিনের অবস্থান অনুযায়ী তার মূলনীতি ও রাষ্ট্রকল্প জামায়াত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বিচার, সংস্কার এবং গণপরিষদ নির্বাচন তথা সেকেন্ড রিপাবলিককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দল হিসেবে এনসিপি। ফলে এই তিনটি বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান যেকোনো রাজনৈতিক মিত্রতার পূর্বশর্ত।”

এনসিপির এই নেত্রী বলেন, “আমার বর্তমান অবস্থান পার্টির গত দেড় বছরের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিম্নকক্ষে পিআর আওয়াজ তুলে সংস্কারকে ব্যাহত করায় লিপ্ত হয়েছিল জামায়াত।

ফলত এনসিপির আহ্বায়ক বলেছিলেন, ‘যারা সংস্কারের পক্ষে নয় তাদের সঙ্গে জোটও সম্ভব নয়।’ তাই জুলাই পদযাত্রার পর থেকে ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবে এনসিপি—এই মর্মে সারা দেশ থেকে প্রার্থীদের আহ্বান করা হয়।”

তিনি দাবি করেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সমস্যাসমূহ তুলে ধরা মানেই বিএনপির পক্ষে অবস্থান বোঝায় না। বরং বিভিন্ন বিষয়ে এতদিন ধরে প্রকাশিত ও নানান মহলে প্রশংসিত এনসিপির অবস্থান আমি সঠিক মনে করি এবং নিজেকে এই আদর্শের সৈনিক মনে করি। বিএনপি বা জামায়াত যেকোনোর সঙ্গে জোট এনসিপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক নীতিমালা থেকে সরে গিয়ে তৈরি হচ্ছে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *