ঢাকা: শেখ হাসিনার জাদুর ছোঁয়ায় বদলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। যার লক্ষ্য ও অসাধারণ মেধার কারণে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু পাকিস্তানের পরাজিত, জঙ্গি, রাজাকারের কারণে দেশ আবার পিছিয়ে গিয়েছে। বিএনপি জামায়াত দেশকে অন্ধকারের যুগে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছে।

মব, জঙ্গি তৎপরতা, রোগ, খাদ্য সংকট, জ্বালানি সংকট, সবকিছু মিলিয়ে দেশ এখন ভয়াল যুগে। সেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে নেমেছে রাজাকারেরা।

আওয়ামী লিগের কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে দেশ-বিদেশের ৫০১ জন ইঞ্জিনিয়ার বিবৃতি দিয়েছেন।‌

শেখ হাসিনার দল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই কথা জানিয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সচেতন বাংলাদেশি প্রকৌশলী তথা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ এক চরম সংকটে নিমজ্জিত।

ইউনুস-বিএনপি-জামায়াত গ্যাংয়ের সমঝোতামূলক ভাগ-বাটোয়ারার নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী বিএনপি সরকার এবং বিরোধী দলের আসনে বসা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজাকার জামায়াতে ইসলামী আজ জাতীয় সংসদে বসে মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে, আমরা তার প্রতি তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি।

দেশের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের রাজনৈতিক সমর্থনের প্রতিনিধিত্বকারী দল আওয়ামী লিগকে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র ও রাজনীতির বাইরে রাখার যে গভীর ষড়যন্ত্র ইউনুসের নেতৃত্বে  ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ এর মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, বর্তমান বিএনপি-জামায়াত জোট তাকেই চূড়ান্ত রূপ দিয়েছে সংসদে কালো আইন পাশ করে।

ইউনুস আর বিএনপি-জামায়াতের পাতানো ভাগ-বাটোয়ারার নির্বাচনে আওয়ামী লিগকে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ায় দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।

দেশের সিংহভাগ জনগণের মতামতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এবং জনগণের পছন্দ ও ভোটাধিকারের ওপর সেন্সরশিপ চাপিয়ে যে প্রহসনের নির্বাচন মঞ্চস্থ করা হয়েছে, তা কোনওভাবেই দেশিয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, বিরোধী দলের ভ্যাকুয়াম পূরণ করতে বিএনপি ও জামায়াত লোকদেখানো পারস্পরিক বিরোধিতা করলেও দেশবিরোধী সকল কর্মকাণ্ডে তারা এক ও অভিন্ন।

তথাকথিত সংসদীয় গণতন্ত্রের আড়ালে তারা আসলে একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এবং বাঙালির সকল গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস মুছে ফেলতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

বিএনপি-জামায়াতের যৌথ প্রযোজনায় অবৈধ ও অসাংবিধানিক কালো আইনের মাধ্যমে আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যেমন ক্ষুণ্ণ হবে, তেমনি জাতীয় নিরাপত্তাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে, অবকাঠামো ও জাতীয় উন্নয়নের কারিগর হিসেবে প্রকৌশলী সমাজ নিশ্চুপ থাকতে পারে না।

তাঁরা বলেন, আমরা মনে করি, একটি দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নির্ভর করে সুসংহত রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর।

জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বস্তুত দেশকে এক চরম অনিশ্চয়তা ও অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা পেশাজীবী হিসেবে আমাদের চরমভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাই বাঙালির ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে আমরা দেশ-বিদেশের ৫০১ জন প্রকৌশলী ঐক্যবদ্ধভাবে এই নব্য-ফ্যাসিবাদী ও মুক্তিযুদ্ধবিদ্বেষী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তারা আরও বলেছেন, এই অবৈধ নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, অন্যথায় দেশপ্রেমিক জনতা ও পেশাজীবী সমাজ তাদের অধিকার আদায়ে যে কোনও কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *