ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে রক্ত দিয়ে লেখা ইতিহাসের নাম হচ্ছে “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ”। আওয়ামী লীগ কোনোদিন উড়ে এসে জুড়ে বসা দল নয়। এই দেশের মাটির সাথে মিশে আছে আওয়ামী লীগ।
এদেশ আওয়ামী লীগকে জন্ম দেয়নি, বরং আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এদেশের জন্ম হয়েছে।
বিএনপির মনে হতে পারে এটা তাদের বিজয় হয়েছে। তবে সাময়িক বিজয়কে বিজয় ধরা হয় না।
প্রতিপক্ষকে সরিয়ে বিজয় নয়—বিএনপির কৌশলগত ভুল এটি।
রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে মাঠছাড়া করা অনেকের কাছে তাৎক্ষণিক বিজয় মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা অনেক কঠিন।
একটি প্রধান দলকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বিএনপির জন্য যতটা না শক্তি প্রদর্শন, তার চেয়ে বেশি কৌশলগত দুর্বলতার প্রকাশ।
শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছাড়া রাজনীতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে বিএনপি নিজের রাজনীতির ভিত্তিকেই দুর্বল করে ফেলছে।
বাটপারিটা তারা দেশবাসীর সাথে সরাসরি করেছে।
জবাবদিহিতা তাদের থাকলো না বলে কি তাদের রাজনীতির জায়গা শক্ত হলো? মোটেও না। বরং আরো দুর্বল হয়েছে। বিএনপি পদে পদে ভুল করেই আসছে।
তাছাড়াও এই সিদ্ধান্ত বিএনপির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে—রাজনৈতিক শূন্যতা অন্য শক্তির উত্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে। জামাত খুব বেশিদিন নেই, একদম ঘাড়ে চেপে ধরতে চলেছে।
যদি বিএনপি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই শূন্যতা এমন শক্তি পূরণ করবে, যা ভবিষ্যতে বিএনপির জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
আর আওয়ামী লীগ যে ফিরে আসবে আরো প্রবল শক্তি নিয়ে জনমানুষের মধ্যে, সেটা একদম চিরসত্য।
ফ্যাসিবাদের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাতের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে তারা লিখেছে, জাতীয় সংসদে উত্থাপিত তথাকথিত “সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন-২০২৬”–এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তা গণতন্ত্র, সংবিধান ও জনগণের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।
আরো রেখে, বাংলাদেশের জন্ম, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক বিকাশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাথে আওয়ামী লীগের ইতিহাস গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে এই দল এবং এই দলের নেতা-কর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা ইতিহাসকে বিকৃত করার শামিল।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ মনে করে, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ বা সংগঠনকে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তির পরিপন্থী।
বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের সংগঠন করার অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করেছে। একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা মানে এই সাংবিধানিক অধিকারগুলোকে সরাসরি সংকুচিত করা।
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার ঘোষণার আলোকে এই ধরণের সিদ্ধান্তকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। Universal Declaration of Human Rights–এর Article 19 মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং Article 20 সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
একইভাবে International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR) নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের সুরক্ষা প্রদান করে। প্রস্তাবিত এই নিষেধাজ্ঞা এসব আন্তর্জাতিক নীতিমালার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, গণতন্ত্রের বিকাশের একমাত্র পথ হলো মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও জনসমর্থনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
নিষেধাজ্ঞা, দমন-পীড়ন ও প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।
ছাত্রলীগ আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে, ‘আমরা অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।
অন্যথায় ছাত্রসমাজ ও সচেতন নাগরিকদের সাথে নিয়ে গণতন্ত্র, সংবিধান ও জনগণের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার জন্য সর্বাত্মক গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে’। বিবৃতি শেষ হয় জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু দিয়ে।
