ঢাকা: জেন-জি’রা নাকি আর ১৯৭২ সালের সংবিধান চায় না! এমন মন্তব্য করেছেন এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ।
আচ্ছা কোন জেন জি চায় না? জেন জি তো এক ভাবধারার নেই এই দেশে, অনেক ভাবধারা, আদর্শের জেন জি আছে! তাই নিদিষ্টভাবে কোন জেন জি-রা ৭২ এর সংবিধান চায় না, তা সুন্দর করে প্রকাশ্যে বললে একটু ভালো হতো!
শুধুমাত্র জামাত শিবির, এনসিপির জেন জি রাই ৭২ এর সংবিধান চায় না। এগুলো দেশবাসী জানে। শুধু জেন জি-র দোষ দেবো কেন? পাকিস্তানপন্থী, রাজাকার- জামাত শিবিরের গোষ্ঠী ৭২ সংবিধান নিয়ে হুলুস্থুল শুরু করেছে। মূল টার্গেট তো তাদের এটাই।
কিন্তু হান্নান মাসুদকে জেন জি-দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কে দিল?
৭২ এর সংবিধান বাদ দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার পায়তারা এইসব। দেশবিরোধী অপশক্তিরা জেগে উঠেছে। সংবিধান নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু করেছে।
বাংলাদেশের সংবিধান মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের পবিত্র রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সংবিধান “৭২-এর সংবিধান”।
এটি কেবল একটি সাল বা কয়েকটি কাগজের পৃষ্ঠা নয়। এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের রক্তস্নাত দলিল!
আজ যারা ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে, উগ্রতা দেখাচ্ছে এই সংবিধানকে অস্বীকার করার, তারা হয়তো জানেই না তারা কিসের ওপর দাঁড়িয়ে কথা বলছে!
এই সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদে মিশে আছে সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ মা-বোনের আর্তনাদ আর ত্যাগের কাহিনী। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মসনদ এই ‘৭২-এর সংবিধান!
এই জন্মসনদের ওপর শকুনদের নজর। খুবলে খাওয়ার নজর।
এরা, এই জঙ্গী জামাতি গোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্মকে যে অস্বীকার করে, তার প্রমাণ আর আলাদা করে দেবার দরকার নেই।
রবিবার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে হাতিয়া থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, আমি এই সংসদের সর্বকনিষ্ঠ এমপি। বাংলাদেশের ইতিহাসেরও সর্বকনিষ্ঠ এমপি।
বলেন, আমি এমপি হিসেবে জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছি এবং জেন-জিরা কী চায়, তা আমি বলছি। জেন-জিরা ৭২-এর সংবিধান আর চায় না।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৩০ বছর পর জন্ম নেওয়া প্রজন্ম নিজেদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে—এর জবাব তারা জানতে চায়।
পূর্বপুরুষদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
