ঢাকা: বাংলাদেশী লেখক তসলিমা নাসরিন বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিশাল জনসমর্থন দলের জনপ্রিয়তার চাইতেও ইসলামী উগ্রপন্থীদের ক্ষমতার বাইরে রাখার জনগণের দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন।
অর্থাৎ আওয়ামী লীগ তো মাঠে নেই, আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপি সেটা নয়, বরং উগ্রবাদী, জঙ্গী জামাত যেন ক্ষমতায় না আসে সে কারণেই ভোটগুলো গেছে বিএনপির দিকে।
তবে তসলিমা একথাও বলেন, জামাত-ই-ইসলামির মতো “পাকিস্তান-সমর্থিত মৌলবাদীদের” প্রধান বিরোধী দল হিসেবে থাকাও ভালো লক্ষণ নয়।
নাসরিনও বলেন, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি অনেক ভোটারের কাছে বিএনপিকেই একমাত্র কার্যকর পছন্দ করে তুলেছে।
“লজ্জা” লেখক আশা প্রকাশ করেছেন যে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে সকল ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
“তিনি সকলকে সাথে নিয়ে চলার এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলছেন। আশা করি, মোহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হিন্দুদের উপর যে নিশানা তৈরি হয়েছিল তা এখন বন্ধ হবে,” নাসরিন বলেন।
বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘু এবং ভারতের মুসলমান সংখ্যালঘুদের অবস্থার মধ্যে তীব্র বৈপরীত্য তুলে ধরে, নাসরিন উল্লেখ করেন ভারতীয় মুসলমানদের “হিন্দু হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার সমান সুযোগ রয়েছে এবং প্রয়োজনে তারা আইনি আশ্রয় নিতে পারে”।
ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা কমছে না, বরং বাড়ছে এবং এই সম্প্রদায়ের কেউই উন্নত জীবন যাপনের জন্য মুসলিম দেশে চলে যাওয়ার কথা ভাবে না… কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের সম্পর্কে কি আপনি একই কথা বলতে পারেন?
অভিবাসন এবং অন্যান্য কারণে বছরের পর বছর ধরে তাদের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। প্রায়শই, অন্যায় করা হলেও নির্যাতনের ভয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয় না,” নাসরিন বলেন।
অর্থাৎ তিনি বলেন, বাংলাদেশের হিন্দুদের চাইতে ভারতে মুসলমানরা শতগুণে ভালো আছে। অথচ বাংলাদেশের হিন্দুরা লাঞ্ছিত, নির্যাতিত মুসলমানদের দ্বারা।
এর আগেও তারেক রহমানের প্রশংসা তিনি করেছেন।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে প্রশংসা করে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন তসলিমা নাসরিন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে এই স্ট্যাটাস দেন।
এতে তিনি লিখেন, ‘বিএনপি এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী, কিংবা সংশয়বাদী, পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী সকলে নিরাপদ থাকবে।’
এমন দরকারি কথা আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বলেননি। সতেরো বছর একটি সভ্য দেশে বাস করে তিনি যথেষ্ট শিক্ষিত এবং সভ্য হয়েছেন নিশ্চয়ই, তা না হলে এমন কথা তিনি বলতে পারতেন না।
তিনি আরও লিখেন, আজ পর্যন্ত অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদের নিরাপত্তা বাংলাদেশের সরকার থেকে কেউই দিতে চাননি, দেওয়ার চেষ্টাও করতে চাননি। বরং অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে, এমনকী তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।
তাদের মাথার দাম যারা ঘোষণা করেছে অথবা তাদের যারা হত্যা করেছে—সেই অপরাধীদের এবং খুনীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে চায়নি কোনো সরকারই। অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদের নাগরিক অধিকার বহু কাল থেকেই সব সরকারই লঙ্ঘন করেছে।
তসলিমা আরও যোগ করে বলেন, ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মে অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদের কোনো সমস্যা হয় না, কেবল ইসলামে অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদেরই নিকৃষ্ট ধর্মান্ধ জঙ্গিরা হত্যা করার জন্য ছুরি ধার করে রেখেছে।
এই জিহাদি-জঙ্গিদের অস্ত্র থেকে যদি আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়, তাহলে আমরা স্বদেশে বাস করতে পারি এবং স্বদেশের মানুষকে সভ্য শিক্ষিত এবং বিজ্ঞানমনস্ক করার উদ্যোগ নিতে পারি।
মনে রাখতে হবে, যে বিশ্বাসটা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে পৃথিবীতে, তা কোনও ধর্ম নয়, তা নাস্তিকতা। জরিপে দেখা গেছে, নাস্তিকরা আস্তিকদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিদীপ্ত, বেশি মেধাবী। নিরাপত্তার অভাবের কারণে এই বুদ্ধিদীপ্ত মেধাবী জনগোষ্ঠী দেশের বাইরে বাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
