ঢাকা: মঙ্গল শোভাযাত্রার ব্যাপারটা মনে হয় গণহত্যা দিবসে এক মিনিট ব্ল্যাক আউটের মতো হবে। প্রথমে ঘোষণা দিয়েছে হবে, তারপর আবার জানানো হলো, কোনো ব্ল্যাক আউট হবে না।‌ হয়তো নাম পাল্টানোর পর বৈশাখে কোনো শোভাযাত্রাই হবে না।

রাজাকারদের প্রেশারে বিএনপি এখন চিড়ে চ্যাপ্টা। এই সরকারের কতটুকু মেরুদণ্ড আছে, তা দেখা হয়ে গেছে দেশবাসীর।

মঙ্গল নয় আনন্দও নয়, এ বার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রাটির নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।

পয়লা বৈশাখের সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের তদারকিতে এই ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বেরোবে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে।

মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে মৌলবাদী, রাজাকারদের অ্যালার্জি।

আওয়ামি লিগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পরে গত দু’বছর ধরে পহেলা বৈশাখের সকালে ‘মঙ্গল শোভযাত্রা’র পরিবর্তে ‘আনন্দ শোভযাত্রা’ ও সাংস্কৃতিক সমাবেশ করা হচ্ছিল।

‘মঙ্গল’ শব্দে হিন্দু ধর্মের প্রভাব ও সংস্কৃতি প্রকাশ পায়— এই অজুহাত দিয়ে জঙ্গী ইউনূস সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘মঙ্গল শোভযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে ‘আনন্দ শোভযাত্রা’ করে। এ বার আবারো তা বদলানো হল।

বিএনপির সংস্কৃতিমন্ত্রী এখন পর্যন্ত মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম নিয়ে তিনবার পাল্টি নিয়েছে। প্রথমে চারুকলার বিএনপিপন্থী ডিন বলেছে আনন্দ শোভাযাত্রা হবে, তারপর মন্ত্রী বলেছেন মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে, এখন আবার বলছে বৈশাখী শোভাযাত্রা হবে।

হেফাজত মঙ্গল শোভাযাত্রাকে হিন্দুদের শোভাযাত্রা বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারপরেই আতঙ্কে নিতাই রায় নাম পাল্টে দিয়েছেন। এই হচ্ছে এদের মেরুদণ্ডের অবস্থা।

ইউনূস সরকারের মতো তারেকের সরকারও যে একটা মেরুদণ্ডহীন সরকার, সেটা প্রমাণ হয়ে গেলো।

হেফাজতের হালকা ধমকেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফেললো! কী আশ্চর্য! বোঝেন তাহলে সরকার কারা চালাচ্ছে!

হেফাজতে ইসলামের মতো একটা মৌলবাদী, সংস্কৃতিবিরোধী গোষ্ঠীর কথায় এদেশের শিল্পসংস্কৃতির উৎসব চলে, এবার বুঝে নেন দেশ কী পরিমাণ রসাতলে গেছে।

তাহলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়েরই বা দরকার কী? সেটাকে হেফাজতে ইসলাম মন্ত্রণালয় করলেই হয়! আধা আধা ইসলাম কেন, দেশকে পুরো কালো চাদরে ঢেকে দিলেই হয়।

সরকারের কাছে কোনো ব্যাখ্যা আছে? হেফাজত বলেছে, মঙ্গল শব্দ সাম্প্রদায়িক তাই এটা বাদ।

জঙ্গীরা হয়েছে এখন সংস্কৃতির ধারক আর বাহক।

শনিবার মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় আধুনিক মানের ডাকবাংলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

তিনি বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা বা আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আগামীতে বৈশাখী শোভাযাত্রা নামেই এই শোভাযাত্রা করা হবে।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা বাংলাদেশি তথা বাঙালি সংস্কৃতির একটি ঐতিহ্য। এটি কোনো দলের নয়, সকলের। ফলে এটা মঙ্গল শোভাযাত্রা বা আনন্দশোভাযাত্রা কোনটাই হবে না, এবার থেকে হবে বৈশাখী শোভাযাত্রা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *