ঢাকা: দুর্নীতিবাজ আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী মোয়াজ্জেম হোসেন হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন তারই ইশারায়। তাঁর কর্ম কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
যুব, ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সাবেক সহকারী এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
সিআইডি পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এসআই মো. আব্দুল হান্নান তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, “অভিযুক্ত ব্যক্তি মোয়াজ্জেম হোসেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সাবেক সহকারী থাকাকালে তদবির বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে শতশত কোটি টাকার মালিকানা অর্জন করেন। এসব অর্থ তিনি অবৈধ উপায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন।
“এ অবৈধ সম্পত্তি অর্জন করার বিষয়ে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি যে কোনো সময় বিদেশ যেতে পারেন। অনুসন্ধানের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশযাত্রা রোধ করা বিশেষ প্রয়োজন।”
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ‘এপিএস’ মোয়াজ্জেম হোসেন— তার চেয়েও বড় ভূমিকা পালন করেছেন। মন্ত্রণালয় ঘুরে ঘুরে টেন্ডার, বদলি, নিয়োগ—সব জায়গায় ‘কমিশন’ ব্যবস্থা চালু করেছেন।
অথচ এই মোয়াজ্জেম তো একা না, তিনি শুধু আসিফের মুখ। নায়ক আসিফ মাহমুদ নিজে, আর মোয়াজ্জেম হলো দালালি সাম্রাজ্যের ডেপুটি। বলা যায় দুর্নীতিবাজের কেশিয়ার।
মোয়াজ্জেমের অতীত ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন’-এর মুখোশ অনেক আগেই ছিঁড়েছে।
সচিবালয়ে বসে ডিল ফাইনাল করতেন তিনি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার পর তাকে লোকদেখানো অব্যাহতি দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি সিন্ডিকেটের ক্যাশিয়ার হিসেবেই কাজ চালিয়ে গেছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৪ মে একই আদালত মোয়াজ্জেম হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।ঈ
