ঢাকা: ট্রাইব্যুনালকে ‘অবৈধ দখলদার খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের অবৈধ আইসিটি ট্রাইব্যুনাল’ আখ্যা দেয়া হচ্ছে । আখ্যা দেয়ার কারণ আছে।
জামাতির হাতে যদি বিচারব্যবস্থা চলে যায়, তখন দেশের অবস্থা বাংলাদেশের মতো হয়।
শেখ হাসিনাল রায়টি ‘আগে থেকে নির্ধারিত’ ছিল এবং এর জন্য কেবল ‘নাটক মঞ্চস্থ’ করা হয়েছে। এটি আর কারো এখন অজানা নয়।
যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে শুরু করে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারাও একই ভাষায় কথা বলেছেন। তাঁদের সবার মুখেই একই শব্দ—‘প্রহসন’, ‘সাজানো রায়’, ‘নীলনকশা’, এমনকি কেউ কেউ একে একাত্তরের গণহত্যাকারীদের বিচারের ওপর ‘প্রতিশোধ’ হিসেবেও চিত্রায়িত করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন।
দেশবাসী ক্ষিপ্ত এই রায়ে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায় ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বিচারকদের ছবি। ভালো চোখে কেউ দেখেনি এই বিষয়।
এদিকে, এমন ঘটনায় ভীত ট্রাইব্যুনাল।
অবমাননাকর ছবি-ভিডিও সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও তথ্য সচিবকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
আজ, রবিবার (২৩ নভেম্বর) চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেয়।
অর্থাৎ ট্রাইব্যুনাল যে বাক স্বাধীনতার বিপক্ষে সেটাই স্পষ্ট।
গত ১৩ নভেম্বর জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা-কামালকে মৃত্যুদণ্ড ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের সাজা দেন ট্রাইব্যুনাল-১।
তারপর থেকেই সমালোচনা চলছে দেশজুড়ে। এই যদি বিচারের অবস্থা তাহলে দেশ আর কী?
শেখ হাসিনার রায় ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের ছবি দিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে।
এখানে যদিও বলা হচ্ছে, ছড়ানো হয় তবুও একথা মানার না। কারণ দেশবাসীর নিজস্ব জ্ঞান বুদ্ধি আছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ ধরনের ছবি-মন্তব্য মুছে ফেলতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও তথ্য সচিবকে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
আদেশের সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, “মুক্ত চিন্তার প্রকাশ ও বাক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সবাই স্বাধীন। তবে সেটা দেশের প্রচলিত আইনের মধ্যে থেকে ও অবমাননা না করে হতে হবে।”
