ঢাকা: ইউনেস্কো স্বীকৃত ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’, বাঙালির এই সংস্কৃতি হয়তো আর বাঁচবে না। কারণ শকুনের থাবা পড়েছে।

মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে যে কাটাছেঁড়া, আইন আদালত চলছে তাতে মনে হয় একবার বলি যে থাক অনেক হয়েছে, আর মঙ্গল শোভাযাত্রার দরকার নেই।

জঙ্গী মুহাম্মদ ইউনূসের ইন্টেরিম সরকারের সময় হয়েছে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’, বিএনপি সরকারের ‘ বৈশাখি শোভাযাত্রা’।

একটা জাতি তার ৫৬ বছরে তার নববর্ষের নাম ঠিক করতে পারে না-এই জাতি লইয়া দুনিয়া কি করিবে।

ইউনেস্কোর স্বীকৃতিটি ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ শব্দযুগলের সাথেই যুক্ত। যদি কোনো সরকার এটি পরিবর্তন করে, তবে তা টেকনিক্যালি ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকার বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক হবে।

বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর একাংশ।

উদীচীর একাংশের সভাপতি মাহমুদ সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “আমরা বর্তমান সরকার ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামটি অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে। একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর চাপের কাছে নতি স্বীকারের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।”

উদীচীর বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আবারও নতুন নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গল শোভাযাত্রা যা কেবল একটি নাম নয়, বরং আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বাঙালির সার্বজনীন ঐক্যের এক শক্তিশালী প্রতীক। তাকে বারবার পরিবর্তনের এই প্রবণতা আমাদের সংস্কৃতির ওপর এক ধরনের অযাচিত ও অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “গত শতকের আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল প্রেক্ষাপটে যে শোভাযাত্রার সূচনা, তা সময়ের প্রবাহে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হিসেবে দেশ-বিদেশে স্বীকৃতি লাভ করে।

২০১৬ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি এই আয়োজনকে অধিষ্ঠিত করে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদায়। সেই ঐতিহ্যের নাম পরিবর্তন কিংবা মুছে ফেলার চেষ্টা ইতিহাস, সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতাকে অস্বীকার করার শামিল।
“আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, সংস্কৃতি কখনোই রাজনৈতিক সুবিধাবাদ, মতাদর্শিক চাপ কিংবা ধর্মীয় সংকীর্ণতার কাছে নতজানু হতে পারে না।

‘মঙ্গল’ শব্দটি এই শোভাযাত্রার অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয়, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য এবং মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এই শব্দটি অপসারণের অর্থ সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেওয়া।”

উদীচী বলছে, “বাংলাদেশের সংস্কৃতি তার বহুত্ববাদ, সহনশীলতা এবং মুক্তচিন্তার জন্য বিশ্বে সমাদৃত। সেই চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রাখা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা শুধু সাংস্কৃতিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব ও পরিচয়ের প্রশ্ন।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *