ঢাকা: কোহিনূর মিয়া! বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে একটাই নাম। তা কে এই কোহিনূর হীরা? যিনি এত সমালোচনার মাঝখানে রয়েছেন?
দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ষোলো বছর পর হারানো চাকরি ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়াকে।
এই হীরাকে নিয়ে দেড় দশক আগে উত্তাল ছিল রাজপথ, সংবাদপত্র, সেই কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর আবার হাজির জনসমক্ষে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
তা এই কোহিনূর কি বনবাসে চলে গিয়েছিলেন নাকি? তবে রামের সাথেই তো আর রাবণের তুলনা হয় না!
সরকারের এক অভাবনীয় সিদ্ধান্তে তার দীর্ঘ অন্তরাল জীবনের অবসান ঘটলো, যা দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
গত নয় মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম জোনের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়াকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে জারি করা সমস্ত বিভাগীয় বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হয়েছে।
জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস ১২ ব্যাচের এ কর্মকর্তার বরখাস্তকালীন সময় চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তাকে প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে। বরখাস্ত বাতিলের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অর্থাৎ রাজার হালে তাকে রাখা হবে।
রাষ্ট্রপতির বিশেষ সম্মতিক্রমে তার পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন হলো কে এই কোহিনূর মিয়া? কেন তাকে নিয়ে এত বিতর্ক?
সাড়ে ষোলো বছর পর বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে ফিরিয়ে আনা হলো।
২০০২ সালের ২৩ জুলাই রাতের কথা যারা মনে রাখেন, তারা কোহিনূরের নাম ভোলেননি। সেই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের ফটক ভেঙে পুলিশ ঢুকে পড়েছিল।
হলের ভেতরে তখন আন্দোলনরত ছাত্রীরা।সেই ঘটনায় আলোচনায় এসেছিল কোহিনূর মিয়ার নাম।
এরপর ২০০৪ সালে ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌর নির্বাচনের দিন গোলাগুলিতে দুজন মানুষ মারা যান। সেই ঘটনার মামলায়ও তার নাম আসে।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আসামি হন। সিআইডি ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।
এই মামলাটা চলে বিশ বছরের বেশি সময় ধরে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন। সেই খালাসের রায়কে ভিত্তি করেই এখনের বরখাস্ত বাতিল।
তবে প্রশ্নটা হচ্ছে সে সময়টায় মেয়েরা হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন, তাদের জন্য বিচার কোথায়? সেই ঘটনার সঙ্গে যাদের নাম জুড়েছিল, তারা সময়ের সঙ্গে পুরস্কৃত হয়েছেন, না শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছেন?
এবং একটা স্টেডিয়ামের ভেতরে এক বয়োজ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায়ও তার নাম উঠেছিল।
এমন যার ইতিহাস, তাকে ফিরিয়ে আনাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত?
কোহিনূর মিয়া সর্বশেষ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (ডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কোহিনূর মিয়া তৎকালীন সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
