ঢাকা: সুরের জগৎকে চিরবিদায় জানিয়ে পরপারে চলে গেলেন সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। বিখ্যাত গায়িকা লতা মঙ্গেশকরের বোন আশাজি নিজের পরিচয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন!

তাঁর প্রয়াণে আজ কাঁদছে সারা ভারত।স্মৃতিচারণ করছে আশার গান শুনে। বাংলাদেশেও আশা ভোঁসলের ভক্তরা আছেন যারা তাঁর গান শোনেন। তাঁরাও শোক জানিয়েছেন।

১০০ ছুঁয়ে যেতে পারলেন না। ৯২ বছর বয়সী গায়িকা আশা ভোঁসলে, যিনি শত শত চলচ্চিত্রের গান গেয়েছেন এবং শাস্ত্রীয় সংগীতের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ স্থান অর্জন করেছেন, তিনি এই বিশ্বকে বিদায় জানালেন যথানিয়মে।

হৃদরোগ আক্রান্ত ও ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে শনিবার তাঁকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার সকাল থেকেই খবর পাওয়া যাচ্ছিলো তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে শোক বিরাজ করছে। আশা ভোঁসলে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণে ভূষিত হয়েছিলেন।

আজ সংগীতের আকাশে এক নক্ষত্রই নিভে গেল। আশা ভোঁসলে এক অনন্ত সুরের নাম, এক অবিনশ্বর আবেগের প্রতিধ্বনি।

কত যুগ, কত প্রজন্ম পেরিয়ে তাঁর কণ্ঠ আমাদের হৃদয়ের ভেতর এক অদ্ভুত মায়াজাল বুনে দিয়েছে। প্রেম, বিরহ অথবা উচ্ছ্বাস, মানুষের সমস্ত অনুভূতির রঙ যেন তাঁর গলায় খুঁজে পেয়েছিল নিজের ভাষা।

শুধু কণ্ঠ নয়, তাঁর অসামান্য প্রতিভা বারবার স্বীকৃতি পেয়েছে নানা সম্মানে। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ ও পদ্মশ্রী, একাধিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার,
প্রতিটি সম্মান তাঁর সুরের কাছে একেকটি নতজানু প্রণাম।

৬০ বছরেরও বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি হাজার হাজার গান গেয়েছেন। অসংখ্য ভাষায় গেয়েছেন। হিন্দি, বাংলা, মারাঠি সহ অসংখ্য ভাষায়। তাঁর কণ্ঠ কখনও মায়াবী, কখনও দুষ্টুমি ভরা, কখনও গভীর আবেগে ভরা।

“পিয়া তু আব তো আজা”, “দম মারো দম”, “চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে”, কিংবা বাংলার “এমন মধুর সন্ধ্যায়” “তোল ছিন্ন বীণা” – প্রতিটি গানে তিনি নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন। অসাধারণ মেধাসম্পন্ন একজন মানুষ ছিলেন।

আশা ভোঁসলে ব্যক্তিগত জীবনেও একজন সংগ্রামী মানুষ। ১৪টি ভাষায় প্রায় ১২,০০০-এরও বেশি গান গেয়ে ইতিহাস তৈরি করেন।

জন্মিলে মরিতে হয়, এ তো চিরসত্য। কিন্তু কোনো কোনো মৃত্যু আমাদের জীবনটাকে ভীষণ নাড়া দেয়। অনেক কিছু শেখায়। কোনো কোনো মৃত্যু মানা যায় না। আশা ভোঁসলে তেমন।

১৯৯৭ সালে প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন তিনি।

২০০০-২০০৮: সালে দাদাসাহেব ফালকে এবং পদ্মবিভূষণের মতো বড় সম্মানে ভূষিত হন।

আর ২০১১ সালে সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করার জন্য ‘গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ নাম ওঠে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *