ঢাকা: ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য আসামের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন গুয়াহাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহকারী হাইকমিশনার জিকরুল হাসান ফাহাদ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আসামের রাজ্যপালের বাসভবনে এই সাক্ষাৎ হয়। এমনটাই সহকারী হাইকমিশন জানিয়েছে।
ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা উন্নতি হচ্ছে। তবে ভারতবিরোধীদের কোনো প্রশ্রয় দেননা আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
যারা উত্তর-পূর্ব ভারতকে আলাদা করার বিষয়ে মন্তব্য করেছিলো টোকাই হাসনাতসহ অনেকেই, তাদের হুঙ্কার দিয়েছিলেন হিমন্ত।
বাংলাদেশের একাধিক নেতা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এই সব বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের একাংশ বারবার বলছে যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে তারা নিজেদের দেশের সঙ্গে জুড়বে। এই সব দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক বিবৃতি। এ ব্যাপারে ভারত নীরব থাকবে না।
ভারত বিরোধী জঙ্গিদের সাহায্য করার বার্তা দিয়েছিলেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত আবদুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, নয়াদিল্লি যদি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তবে ঢাকার উচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে বিচ্ছিন্ন করা এবং এই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিদের সমর্থন করা।
এই আবহে হিমন্ত সাফ বলেন, ‘গত এক বছর ধরে ওই দেশ থেকে বারবার বক্তব্য আসছে যে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোকে আলাদা করে বাংলাদেশের অংশ করা উচিত। তবে ভুললে চলবে না, ভারত একটি বিশাল দেশ, পারমাণবিক শক্তি এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি।
বাংলাদেশ কীভাবে এমনটা ভাবতে পারে? এটা নিয়ে ভাবাও ভুল, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের চিন্তাভাবনায় গলদ আছে।’
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই বাংলাদেশকে শিক্ষা দিতে হবে। তারা যদি এভাবে আচরণ করতে থাকে তবে আমরা চুপ করে বসে থাকব না।’
সহকারী হাইকমিশন সূত্র জানায়, সাক্ষাৎকালে রাজ্যপাল বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের জন্য জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে।
সহকারী হাইকমিশন আরও জানান যে, জিকরুল হাসান ফাহাদ রাজ্যপালকে তার আন্তরিক শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানান।
