ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে ষড়যন্ত্র করে, মূলত নির্বাচন বানচাল করার স্বার্থে। যেমন আবু সাঈদের লাশ দরকার ছিলো, তেমনি হাদির লাশ!
তারপরেই দেশে আগুন লাগানো আরো জোরদার হয়ে ওঠে। ওঠে ভারত বিরোধী স্লোগান। শুধু স্লোগান না, হাইকমিশনে হামলার টার্গেট করা হয়। এখনো চলছে ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগান। হিন্দু হত্যা।
হাদি হত্যার আসামি নাকি ভারতে লুকিয়ে আছে। এই দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশ।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খান এবং তাঁর সহযোগীরা নাকি ভারতে ঢুকে মেঘালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের এমন দাবিকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ। এর আগে হাদি হত্যার সঠিক বিচার দাবি করেছে ভারত।
এবার বাংলাদেশে যখন এমন দাবি উঠছে, তখন মেঘালয় পুলিশ এবং বিএসএফ দুই সংস্থাই স্পষ্ট জানিয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে ফয়সালের ভারতে প্রবেশের কোনও প্রমাণ তাদের হাতে নেই এবং এ সংক্রান্ত কোনও গ্রেফতারও হয়নি।
উল্লেখ্য , রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এনএন মহম্মদ নজরুল ইসলামের বক্তব্য উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়, হাদি হত্যার নেপথ্যচক্রান্তকারী ফয়সাল ও তাঁর সহযোগী আলমগীর শেখ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে মেঘালয়ের গারো পাহাড় এলাকায় আত্মগোপন করেছে।
সেই সঙ্গে ভারতে তাঁদের সাহায্য করেছেন পূর্তি নামে এক ব্যক্তি ও সামি নামে এক ট্যাক্সিচালক— এমন অভিযোগও উঠে আসে।
তবে এই সব দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে পরিষ্কার জানায় মেঘালয় পুলিশ। এসব মনগড়া কাহিনী।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক জানান, বাংলাদেশ পুলিশের তরফে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি। পাশাপাশি, যাঁদের নাম সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, তাঁদের কাউকেই গারো পাহাড় এলাকায় শনাক্ত করা যায়নি। কোনও গ্রেফতারও হয়নি বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
মেঘালয় পুলিশের জানায়, পূর্তি বা সামি—এমন নামের কোনও ব্যক্তিকে রাজ্যের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুলিশের মতে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যাচাই না করেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পাশাপাশি বিএসএফের মেঘালয় ফ্রন্টিয়ারের প্রধান ওপি উপাধ্যায় জানান, হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে সন্দেহভাজনদের ভারতে ঢোকার কোনও প্রমাণ নেই।
