ঢাকা: হাদীর কথিত হত্যাকারীর জিজ্ঞাসাবাদ দেখে কি ভয় লাগছে জামাতের? তাই তো মনে হচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চ তো ৬ দফা দিয়ে দিলো!
কেন? হাদি যে জঙ্গী ছিলো, হাদি যে কট্টরপন্থী ছিলো, হাদিকে যে জামাত মেরেছে তা কী দেশবাসী জানে না? ফয়সালকে জেরা করা হচ্ছে, এদিকে কন্ঠ শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে জামাত শিবির, আর তার ডালপালাগুলোর।
কথায় আছে ঠাকুর ঘরে কে, আমি কলা খাইনি। এদের কথা শুনেই মনে হচ্ছে, হাদি হত্যার ঘটনাটি এরাই ঘটিয়েছে। তা নাহলে এখনো বিচারের কাজ শুরু হলো না, তার আগেই এত তড়িঘড়ি কিসের তাদের?
সত্য আগুন আর এই আগুন কখনো চাপা থাকে না। এগুলো কোন না কোনোভাবে প্রকাশ পাবেই। জামাতের ভণ্ডামি মানুষ বুঝে গেছে।
মব আর জুলাই বাণিজ্য করে অনেক ফায়দা নিয়েছে এরা।
অনেক দেরিতে হলেও সত্য প্রকাশ পেয়েছে।
ইতিহাসের নিকৃষ্ট ও ঘৃণিত জামাতের প্রোডাক্ট ওসমান হাদিকে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে ব্যবহার করতেই মূলত কুখ্যাত রাজাকার সাঈদীর কাছে পাঠিয়েছে হাদিকে।
আর দোষ চাপিয়ে দিয়েছে ফয়সাল করিমের উপর। কারণ, ফয়সাল তার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলো এবং হাদির সকল প্রয়োজনে এই ফয়সাল করিম সহযোগিতা করেছে। এগুলো আমরা আগেই জেনেছি।
হাদি যে চিন্তা-চেতনায় একজন ভয়ঙ্কর জঙ্গি এটি আমাদের চেয়েও ফয়সাল করিম ভালো করে জানবেন।
আর তাই স্বীকার করে বলেছেন, আপনারা এতো হাদি হাদি করেন কেন? হাদি তো জামাতের প্রোডাক্ট! জঙ্গি।
ফয়সালের এক কথাতেই বেলুন ফেটে গেছে জামাতের।
আর হাদিকে নিয়ে ফয়সাল করিম যে কথা বলেছেন, তা কি হাদির ভাষায়, হাদির স্লোগানে, হাদির রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কর্মকান্ডে প্রতীয়মান হয়নি?
হাদি হত্যাকান্ডে কথিত অভিযুক্ত ফয়সাল করিমকে ১৪ দিন রিমান্ড শেষে ভারতের কলকাতার বিধাননগর আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে ধরে হত্যাকান্ড নিয়ে প্রশ্ন করেন।
এ সময় ফয়সাল করিম বলেন, “আমি এই কাজ করিনি এবং আমি এই ধরণের কাজে ছিলাম না। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে”।
সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে ভাইরালকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ফয়সাল করিম হাঁটতে হাঁটতে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, “এই আপনারা হাদি হাদি করছেন কেন? হাদি তো জামাতের প্রোডাক্ট! হাদি তো একজন জঙ্গি।
গোটা বাংলাদেশ দেখেছে, ওসমান হাদির চিন্তা-চেতনা, তার উগ্রতা, তার আক্রমণাত্মক বক্তব্য এবং হাদির শা”*উয়া-মা**উয়া ছিঁড়া ফেলাইতে হবে খা,/ঙ্কির পোলাদের—এসব শব্দ চয়ন ও বাক্য গঠন কার থাকে? হাদি সত্যিই একজন ভয়ঙ্কর ও বিপদজনক জঙ্গি। আর তাকে নিয়ে যারা নাচানাচি করে তারাও জঙ্গি।
ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর রোববার পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে ফয়সাল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অস্বীকার করেন।
বিধাননগর আদালতে দাঁড়িয়ে ফয়সাল দাবি করেছেন- তিনি এসব কাজ করেননি, কোনও কিছুর সঙ্গে যুক্তও নন।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) হাতে গত ৭ মার্চ গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সালকে ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে রোববার আদালতে নেওয়া হয়।
পুলিশ পাহারায় আদালতে নেওয়ার সময় হাদি হত্যার প্রধান এ আসামি ও সন্দেহভাজনকে নানা প্রশ্ন করেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
ভিডিওতে দেখা যায়, ফয়সাল ও আলমগীরকে হাঁটিয়ে নিয়ে আসছেন পুলিশ সদস্যরা। তখন স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেন। নানা প্রশ্ন করতে থাকেন।
একজন প্রশ্ন করেন, কার কথায় হাদিকে হত্যা করা হয়েছিল ফয়সাল? কে বলেছিল? কেউ ফাঁসিয়েছে নাকি?
এসব প্রশ্নে চুপ থাকেন ফয়সাল। পরে আবারও একই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমি এ কাজ করি নাই।”
তাকে ফাঁসানো হয়েছে কিনা জানতে চান এক সাংবাদিক। ফয়সাল তখন বলেন, “নো, আমি এ কাজই করি নাই। এ ধরনের কাজে আমি ছিলাম না।”
ফাঁসাচ্ছে কারা? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি জানি না।”
আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন- তুমি পালালে কেন? পালালে কেন ভাই? এ প্রশ্নে চুপ থাকেন ফয়সাল।
তাদের দুজনকে আরও ১৪ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালত থেকে জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে ফের সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন ফয়সাল।
তখন তিনি বলেন, “আপনারা এত হাদি হাদি করছেন। বাংলাদেশের মানুষ এত হাদি হাদি করতেছে। হাদি তো অ্যাকচুয়ালি একটা জামায়াতের প্রোডাক্ট, ও তো একটা জঙ্গি।”
খুনটা কি তুমি করেছিলে? এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নে ফয়সাল বলেন, ‘নো’।
তাহলে কে করেছে? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “জামায়াত-বিএনপির একটা চাল হতে পারে।”
