ঢাকা: খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে যোগ দিতে এসেছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর হাত দিয়েই জিয়া-পুত্র তারেক রহমানকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এর আগে মোদি বেগম খালেদার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশও করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই চিঠি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আর চিঠিতে উঠে এসেছে ১০ বছর আগের কথা। তারেকের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কী রয়েছে চিঠিতে? পুরোপুরি তুলে ধরা হলো:
সুপ্রিয় তারেক রহমান সাহেব,
আপনার মাতা, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন মাননীয়া বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত।
আপনার এই অপূরণীয় ব্যক্তিগত ক্ষতিতে আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। তাঁর আত্মা চিরশান্তিতে বিরাজ করুক।
২০১৫ সালের জুন মাসে ঢাকায় বেগম সাহিবার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ও আলোচনার কথা আমি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্মরণ করি।
তিনি ছিলেন সংকল্প ও আদর্শনিষ্ঠায় বিরল এক নেত্রী যিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।
তাঁর প্রয়াণ এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করলেও তাঁর আদর্শ ও উত্তরাধিকার চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। আমি নিশ্চিত যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আপনার যোগ্য নেতৃত্বে তাঁর সেই আদর্শগুলো এগিয়ে নিয়ে যাবে।
একই সাথে তা এক নতুন পথচলা নিশ্চিত করতে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে।
এই জাতীয় শোকের মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণের প্রতিও আমার সহমর্মিতা জ্ঞাপন করি, যারা ইতিহাসে বরাবরই তাদের অসাধারণ শৌর্য ও মর্যাদার পরিচয় দিয়েছে।
আমি নিশ্চিত যে, তারা তাদের অভিন্ন মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং জাতীয় ঐক্যের বোধ দ্বারা পরিচালিত হয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির পথে এগিয়ে যাবে।
আপনি আবারও আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। আমি সর্বশক্তিমানের কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য প্রদান করেন। আপনার ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য আমার শুভকামনা রইল”।
