গত চব্বিশের ৫ আগষ্টের পর থেকে দেশটিতে ইসলাম নিয়ে ব্যবসা এত বেশি বেড়ে গেছে যে মনে হচ্ছে এর আগে এ দেশে কেউ ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছিলেন না। কেউ নামাজ-রোজা- হজ পালন করেননি।
আন্তর্জাতিক মদদ বা নীলনকশা অনুযায়ী ‘ইসলামী জঙ্গী-সামরিক ক্যু’ এর এ দেশীয় আজ্ঞাবহ এজেন্টরা এতটাই বিকৃতমনষ্ক হয়ে উঠেছে যে, তাদের আচার-আচরণে মনে হয়েছে এ দেশে ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাড়া অন্য কোন মতাদর্শের নাগরিকদের ঠাঁই নেই।
অবশ্য তার পর থেকে এদেশের অধিকাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিকদের চেহারাও পাল্টে গেল। চেহারা পাল্টে গেল মানে মানসিক চেহারা-আচার-আচরণ-মনন সবই কেমন যেন অচেনা হয়ে উঠলো।
অথচ দেশটি যে এখনো ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ আছে সাংবিধানিকভাবে সেটি ভুলে গেছে এরা। আসলে এরা ভুলে যায়নি, সবই মনে আছে। কিন্তু এরা ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ এর পরিবর্তে ‘ ইসলামী রাষ্ট্র’ বা ‘গণপ্রজাতন্ত্রী ইসলামী বাংলাদেশ’ গড়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আর এ গোষ্ঠীটির আচর-আচরণও তেমনটি হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে মানে এই বঙ্গে সেই প্রাচীনকাল থেকে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজ করছিল জাতি-গোষ্ঠী-ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে।
কিন্তু বার বারই তা বিনষ্ট করতে চেয়েছে সাম্প্রদায়িক-আগ্রাসী অপশক্তি তাদের সংকীর্ণ স্বার্থ হাসিলের জন্য।
সেসব ষড়যন্ত্রে তারা যে সফল হয়নি তা কিন্তু নয়। তবে পুরোপুরি এ বাংলাকে সেই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি তাদের কথিত ইসলাম ধর্মের আবরণে জঙ্গীত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

কারণ এ বঙ্গের মানুষ বাংলা ভাষার আন্দোলনে জাতি-গোষ্ঠী-ধর্ম বর্ণ পরিচয় বিবেচনায় না এনে নিজের মাতৃভাষা রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
সেখানে তখনকার পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী ধর্মীয় আবরণে একটি অপ-রাজনীতি তৈরী করলেও তা গ্রহণ করেনি এ বাংলার মানুষ।
এর পরবর্তীতে নানা সময়ে নানাভাবে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস হয়েছে এ দেশে।
উস্কে দেয়া হয়েছে সাম্প্রদায়িক ইসলামী গোষ্ঠীকে। ফলে নানা সময়েই এদেশের হিন্দু ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর ওপর বার বার নেমে এসেছে অত্যাচার-নিপীড়ন-খুন-স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে বিতাড়ণ -দেশত্যাগে বাধ্য করা ইত্যাদি।
এজন্য নানা কৌশল ও নীলনকশা এখনো চলমান এই স্বাধীন বাংলাদেশে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধে এই ধর্মীয় পরিচয়ই যেনো হিন্দুদের জন্য অভিশাপ হয়ে উঠলো। তখনো পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এই মুক্তিযুদ্ধকে হিন্দু ও ভারতীয় ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেয়া হয়েছিল।
যার ফলশ্রুতিতে হিন্দুরাই পাকবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর-আলশামস গোষ্ঠীর প্রথম ও মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল।
একটু খেয়াল করুন আপনারা সেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘটনাবলী। ঢাকার জগন্নাথ হল যেখানে হিন্দু শিক্ষার্থীরা ছিল সেখানে আক্রমণ করলো পাকবাহিনী, ঢাকার যেসব হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা ছিল সেখানে নির্বিচারে হামলা, খুন, লুটপাট, নারী ধর্ষণের মত মানবতাবিরোধী জঘন্য ঘটনা করা হলো। মূল টার্গেটই ছিল হিন্দুরা।
ফলে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে যে এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল তাদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিল। মুসলিম বা ইসলাম ধর্মাবলম্বী কতজন নাগরিক ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তার একটু হিসেব নিলেই বোঝা যাবে। তবে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ভারতে ট্রেনিং নিতে গিয়েছিলেন এটি সত্য।
যতদূর জানি একাত্তরে শহীদদের তালিকা কিন্তু করা হয়নি গত ৫৫ বছরেও। সেটি যদি ঠিকভাবে করা হতো তাহলে দেখা যেতো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আত্মত্যাগ ও শহীদ হওয়ার তালিকাটি তুলনামূলকভাবে বেশি মুসলিমদের চেয়ে। অথচ জনসংখ্যার দিক থেকে হিন্দুদের সংখ্যা কম এ বঙ্গদেশে।
এই যে হিন্দুদের আত্মত্যাগ ও প্রচুর পরিমাণ শহীদ হওয়ার পরিসংখ্যান সেটি কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ইতিহাসে কোথাও সম্ভবত লেখা নেই বা স্বীকৃতিও দেয়া হয়নি।
কারণ সে স্বীকৃতি দিলে এদেশের জন্ম ইতিহাসে হিন্দুদের অংশগ্রহণ ও অবদান অনেক বেশি হয়ে যাবে, এ ভয়টিও কাজ করেছে এ দেশের মুসলিম রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে।

এসব কথা বললে অনেকেই এখানে সাম্প্রদায়িকতার গন্ধ খুঁজবেন। কিন্তু যেভাবেই যা খোঁজার চেষ্টা করেন না কেন- এটিই চরম বাস্তবতা।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সেই সঠিক বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিয়ে যার যা প্রাপ্য তাকে সেই যোগ্য সম্মান ও অধিকার দেয়াটাই ছিল মূল কাজ। অথচ সেটি করা হয়নি এই মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে।
এমনকি একাত্তর পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়কালেও হয়নি। তার পরবর্তী নানা বৈরী ও প্রতিকূল সময়েতো আর প্রশ্নই আসেনা।
কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার একনাগারে প্রায় ১৭ বছর শাসনামলেও কি সেই মূল্যায়ন ও অধিকার দেয়া হয়েছে হিন্দুদেরকে। তাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে?
কেউ হয়তো বলবেন যে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে অনেক হিন্দু নাগরিক সরকারি চাকরি করেছেন, পদোন্নতি পেয়েছেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু সেতো কারো দয়ায় দাক্ষিণ্যে নয়।
যেসব হিন্দু নাগরিক সরকারি চাকরি পেয়েছেন, পদোন্নতি পেয়েছেন তা একান্তই তাদের নিজস্ব যোগ্যতায়। কোন কোটা পদ্ধতিও ছিলনা সেখানে।
কিন্তু বাংলাদেশে তিন সশস্ত্র বাহিনীর বা পুলিশের প্রধান হিসেবে কি কখনো কোন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে পদায়ন করা হয়েছে ? উত্তর একবোরেই সোজা। সেটি হলো-“ না”। রাষ্ট্রপতি পদে বা প্রধানমন্ত্রী পদে কি কাউকে কখনো পদায়নের চিন্ত করেছে কেউ এই বঙ্গদেশে? সেই চিন্তা করাও যেন দোষের বা গুণাহর কাজ এই বাংলায়।
অথচ যে ভারতকে এদেশের অধিকাংশ মানুষ মানে মুসলিম জনগোষ্ঠীর অনেকে শত্রুদেশ হিসেবে ভাবেন বা সেটাই বিশ্বাস করেন সেই ভারতেই কিন্তু মুসলিম প্রেসিডেন্ট ছিলেন কিছুদিন আগেও। প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন পদে হিন্দু ধর্মীয় ছাড়াও অন্য ধর্মের নাগরিকরা নিজের ধর্মীয় আত্মসম্মানবোধ বজায় রেখেই রাষ্ট্রীয় মহান দায়িত্ব পালন করেছেন নির্বিঘ্নে।
অথচ অনেকে সেই ভারত রাষ্ট্রটিকে হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন এই বাংলাদেশে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিকগণ।
তবে যতদূর জানি ভারতের দুই প্রতিবেশি রাষ্ট্র পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মোট যে জনসংখ্যা তার প্রায় কাছাকাছি পরিমাণ মুসলিম জনসংখ্যা ভারতেই রয়েছে। হয়তো ৩ থেকে ৫ কোটি কম হতে পারে এই সংখ্যা।
এখনো ভারত সাংবিধানিকভাবে একটি সেক্যুলার রাষ্ট্র। যার যার ধর্ম তারা পালন করছেন। মাঝে মধ্যে কোথাও কোথাও হয়তো হিন্দু-মুসলিমদের বিরোধ দেখা দেয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় আইন সবাইকেই সমান সুরক্ষা দিয়ে থাকে।
অপরদিকে বাংলাদেশে সমানাধিকারতো দূরের কথা হিন্দুরা যে এই দেশের নাগরিক সেটাইতো স্বীকার করতে চায়না কেউ কেউ।
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিকেইতো “সুন্নত” করিয়ে ইসলামীকরণ করা হয়েছে। তো সেক্ষেত্রে সেই রাষ্ট্রে বসবাসকারি অন্য ধর্মের নাগরিকগণ আর সমানাধিকার নিয়ে বসবাস করবেন কি করে?
অবশ্য সমানাধিকার কখনোই বাস্তবে ছিলনা, যদিও সংবিধানে লেখা আছে। আর আমাদের রাজনৈতিক নেতারা ও সু-শীল সমাজের লোকজন এসব বলে একধরনের ক্যামোফ্লেজের মধ্যে রাখতে চান দেশবাসী ও বিশ্বের অন্য নাগরিকদেরকে।
বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু নাগরিকদেরকে সবসময়েই নানাভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দমিয়ে রাখা হচ্ছে। আচর-আচরণে বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে যে, তোমরা এদেশে অচ্ছুৎ।
এখানে বসবাস করতে হলে মুসলিমরা যা বলবে তাই মেনে চলতে হবে। আর সেজন্য নানা সময়েই নানা উস্কানি দেয়া হচ্ছে। মানসিকভাবে চাপে রেখে বশ্যতা স্বীকার করানোর জন্য।
নামাজের সময় যদি অন্য ধর্মের কারো কোন অনুষ্ঠানে মাইক বা সাউন্ডবক্স বাজে তা বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। এমনকি অনুষ্ঠানও বন্ধ রাখতে হয়। কিন্তু অন্য ধর্মের মানুষেরও যে অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রয়েছে তা কিন্তু এই ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বুঝতে চান না।
এমন কোন নজির কি বাংলাদেশে আছে যে – হিন্দু-বৌদ্ধ বা খ্রীষ্টানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হচ্ছে তা নির্বিঘ্নে পালন করতে দেয়ার জন্য নিকটবর্তী কোন মসজিদ থেকে মাইকের সাউন্ড ছোট করে দেয়া হয়েছে? এমন চিন্তাতো এই বাংলাদেশে কখনোই করা যাবেনা। কেউ যদি বলে তাকেতো কতল করতে ছুটে আসবে ইসলামপন্থী নাগরিকগণ।
অথচ ভারতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা অন্য কোন অনুষ্ঠানের জন্য সাউন্ডবক্স বা মাইকের শব্দ নির্দিষ্ট ডেসিবেলের মধ্যে রাখার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এবং তা মানতে সবাই বাধ্য। সে হিন্দুই হোক বা মুসলিম হোক বা শিখ হোক। এটাইতো রাজনৈতিক-ধর্মীয় সহনশীলতা ও মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখানো।
রাষ্ট্রের আইনের প্রতি, জনগনের স্বার্থের প্রতি, অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো। এমন কোন কিছু কি এই বাংলাদেশে কল্পনা করা যাবে ?
আসলে এতসব কিছুর অবতারণা করতামনা। ছোট্ট একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকদিন ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর তা নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা-ক্ষোভ-মন্তব্য দেখতে দেখতে সত্যিই আমার মধ্যে একধরনের জন্ম নিয়েছে।
কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে –আমরা কি সত্যিই ইসলাম ধর্ম পালন করছি –যে ধর্মে অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান দেখাতে বলা হয়েছে ? আমরা দাবি করি -ইসলাম হলো মানবতা ও সহনশীলতার ধর্ম।
মুসলিমদের কোরবানীর ঈদে সনাতনীদের গরু খাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কতিপয় বাংলাদেশি মুসলমান।ঘটনাটি ঢাকার মিরপুরের “রানা ফার্মেসীর” ডিজিটাল বোর্ডের, ৩৩/২/১ উত্তর পীরেরবাগ, ৬০ ফিট।

দেখলে মনে হবে- কি নির্মোহ নিরীহ মুসলিমদের দাওয়াত, কিন্তু আপনি যদি হোয়াইট পোর্ক বা রেড ওয়াইন নয়, প্রসাদ খাওয়ার দাওয়াত দিতেন তাহলে অসংখ্য মন্দির গুড়িয়ে দেয়া হতো, কত হিন্দু পরিবারের ঘরবাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙা হতো তার ইয়ত্তা নেই।
পুলিশও অতিমাত্রায় তৎপর হয়ে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে গ্রেফতার করতো কতশত হিন্দু নাগরিককে। তারপর তাদের নামে খুন-দাঙ্গা হাঙ্গামা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগের মামলা, ‘র’ এর সাথে ষড়যন্ত্র এসব খোঁজা হতো।
সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমতো বটেই, দেশের মেইনষ্ট্রীম সংবাদমাধ্যমেও নানা ধরনের সংবাদ প্রচার করা হতো। উত্তাল হয়ে উঠতো সারা দেশের মুসলিম জনতা।
কিন্তু এই যে উষ্কানি দেয়া হলো, সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজনের অনুভূতিতে আঘাত দেয়া হলো তা নিয়ে কিন্তু এদেশের কোন সু-শীল সমাজ, মিডিয়া মানে সংবাদ মাধ্যম কোন টু শব্দটি করেনি। করবেনা। এটাই স্বাভাবিক ধরে নিতে হবে।
আমরা এক্ষেত্রে ছোট্ট একটি উদাহরন দিতে পারি। তা হলো- “লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন” (لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ)। এটি পবিত্র কুরআনের ১০৯ নম্বর সূরা আল-কাফিরুনের সর্বশেষ (৬ নম্বর) আয়াত। এর অর্থ হলো: “তোমাদের ধর্ম তোমাদের কাছে, আর আমার ধর্ম আমার কাছে।”
ইসলামে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নিষিদ্ধ করা হয়েছে । মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বিদায় হজে বলেছেন, ‘তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কোরো না, অতীতে যারা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে তারাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।’ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহিষ্ণুতার সর্বশ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত হলো মানবতার মুক্তির দিশারি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিখিত মদিনার প্রথম সনদ।
সহাবস্থান ও শান্তির এ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল মুসলমান, ইহুদি ও মুশরিকদের মধ্যে। মদিনা সনদে লেখা ছিল প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারবে।
কিন্তু এই বাংলাদেশে কি তা সম্ভব হচ্ছে ?
কয়েকমাস আগেও মানে ২০২৫ এর এপ্রিল মাসে ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে অসংখ্য উগ্রবাদী মুসলিম নাগরিক ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তান্ডব চালায়।
এসব উগ্রবাদী মুসলিমরা প্রথমে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়। অসংখ্য বহু হিন্দু পরিবারের বাড়িঘর, দোকানপাট এবং গবাদি পশু লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে দেয়।
ইসলামী জঙ্গীদের এই উগ্র-সহিংস-ধ্বংসাত্বক আক্রমনে অন্তত ১০ জন হিন্দু নিহত হন এবং কয়েকশ গুরুতর আহত হন। উন্মত্ত এই পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৪০০টি হিন্দু পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রতিবেশী মালদা জেলায় পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
আচ্ছা বাংলাদেশে কি কখনো হিন্দুরা এভাবে মুসলিমদের ওপর হামলার দুঃসাহস দেখাবে বা দেখাতে পেরেছে কখনো? বা দেখানো উচিত? সত্যিকার অর্থে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কখনো অন্য ধর্মের ওপর আক্রমণ করেনা, সেটি নানা ঘটনাতেই প্রমাণিত।
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ধর্মীয় উষ্কানি দিয়ে হিন্দুদেরকে দেশত্যাগ করানোর পায়তারা সবসময়েই ছিল। যা অতি সম্প্রতি আরো বেশি করে সক্রিয় হয়েছে। কিন্তু এগুলোকে দমন করার জন্য সরকার-রাজনীতিবিদ বা সু-শীল সমাজের কারো কোন উদ্যোগ নেই।কারন তাদের মনেনেও সেই পাকি-ইসলাম বেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এ প্রসঙ্গে একটি কথা মনে পড়ে গেলো। তাহলো- “ক্যান্সারের চেয়ে ধর্মীয় সন্ত্রাস বা হানাহানিতে প্রতি বছর অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে, কিন্তু আমরা প্রতিষেধক খুঁজছি ক্যান্সারের”।
# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।
