ঢাকা: আমরা আগেও বলেছি এখনো বলছি ওসমান হাদি হচ্ছে বলির পাঁঠা। জামাতের নীল নকশায় হাদি মরেছে। এবং তারপর পরেই বাংলাদেশে আগুন জ্বলে ওঠে। মূলত আগুন জ্বালানো হয়েছে, জ্বলিয়েছে জামাত শিবির।

আমরা দেখেছি হাদির লাশ কেন্দ্র করে মুসলিম সেন্টিমেন্ট কিভাবে মুহূর্তে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পরে, ওই সিমপ্যাথি আদায় করতে চেয়েছিল জামাত। ইউনূস, আসিফ নজরুলেরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে জামাতকে এক্ষেত্রে।

মোদ্দা কথা, হাদি হচ্ছে জামাতের বলির পাঁঠা।

কট্টরপন্থী, ভারতবিরোধী হাদিকে ইচ্ছা করেই হত্যা করা হয় ভারতের ওপর দোষ চাপানোর জন্যে।

সাম্প্রদায়িকতার নামে যেটা চলছে তা বন্ধ হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে হাদির হত্যার পর যে অস্থিরতা তৈরি হয়, তার মধ্যে সাম্প্রদায়িক হিংসার শিকার হয়ে এক হিন্দু যুবকের নির্মম হত্যা স্বাভাবিকভাবেই ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জনমানসে নাড়া দিয়েছে।

হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, যাতে এই ঘটনাকে ভারত-বিরোধী বয়ানে ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশে এমন একটি ধারণা ছড়ানো হচ্ছে, যেখানে বলা হচ্ছে—“এই অশান্তির পেছনে ভারতের হাত আছে”। কারণ হাদীর মৃত্যুর পর যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার একটা অংশ সরাসরি ভারত-বিরোধী স্লোগানে রূপ নেয়।

এখন এই হাদি হত্যার বিষয়ে আগুনে ঘি ঢেলেছেন মমতা। উস্কে দিয়েছেন বাংলাদেশের কট্টরপন্থীদের। যাতে বিজেপি, হিন্দুর বিরুদ্ধে দাঙ্গা লাগে।

ক্ষমতাচ্যুত, দিশেহারা এবং মানসিক অস্তিত্ব-সংকটে ভোগা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেছেন।

বিধানসভা নির্বাচনে হেরে হঠাৎ প্রকাশ্য জনসমক্ষে এমন এক প্রলাপ উচ্চারণ করে বসলেন, যা চারপাশের গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোকে প্রশ্নবোধক চিহ্নের সামনে দাঁড় করালেন।

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা মোল্লা তোষণকারী মমতা সেই কাজটাই করলেন।

ক্ষমতা হারানোর পর এককালের প্রতাপশালী শাসকের মনস্তত্ত্বে যে কী ভয়ংকর শূন্যতা ও আত্মঘাতী জেদ জন্ম নেয়, গোটা দেশ স্তম্ভিত হয়ে তা দেখল।

আসলে তিনি যা করেছেন তাতে দেশে হিন্দুরা চরম অস্বস্তিতে, আতঙ্কে। কারণ এই একটা বানোয়াট বক্তব্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ফের কালো অমাবস্যা নেমে আসতে পারে।

অথচ হাদিকে মারার পেছনে আছে জামাত শিবিরের হাত।

একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, যিনি একসময় সংবিধানের রক্ষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার শপথ নিয়েছিলেন, তিনি স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সেই পবিত্রতম চুক্তিটিকে জনসমক্ষে টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেললেন।

এরপরেই শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভাইয়ের নাম ব্যবহার করা একটি ফেসবুক আইডি থেকে একাধিক পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে জামায়াত আমিরের এক পিএসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আইডি থেকে দেওয়া একটি পোস্টে দাবি করা হয়, “শহীদ ওসমান হাদি হত্যার পেছনের প্রেক্ষাপট তৈরিতে আমিরে জামায়াতের একজন পিএস জড়িত। হাদিকে ঢাকা-০৮ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ দেওয়া হয়েছে আমাদের।”

আরও একটি পোস্টে অভিযোগ করা হয়, হাদি হত্যার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী সরাসরি জড়িত।

পোস্টে আরও বলা হয়, “হাদি হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।”

ওই আইডি থেকে আরও দাবি করা হয়, হাদি হত্যাকে কেন্দ্র করে দেশীয় রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উস্কানির পরেই এলো এই পোস্টটি। যেখানে পরিষ্কার সব লেখা আছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *