রংপুর: মাদ্রাসা শিক্ষকরা তো পড়ান না, পড়ানোর বদলে ধর্ষণ করেন। আর কীভাবে ভিন্ন ধর্মের মানুষকে নির্যাতন করতে হয় এইসব শেখান। বাস্তব কথা বললে অনেক কটূ শোনায়। কিন্তু সত্যি তো এটাই।
মাদ্রাসায় ধর্ম শিক্ষা হয় না, ধর্ষণ হয়, বোমা তৈরি হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
এবার নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ১১ বছর বয়সী শিশুকে এই শয়তান ধর্ষণ করেছে, এবং নবজাতকটি তার।
ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার পর এই তথ্য জানা গেছে। ইতিমধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা পুলিশের হাতে এসেছে।
পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম আজ সোমবার গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করার পর অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের সঙ্গে নবজাতকের নমুনা ম্যাচ করেছে। আমরা গত বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তে কোনো ধরনের গ্যাপ না থাকে, সে জন্য কয়েকজন পরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, তিন-চার দিনের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারব।’
জানা গিয়েছে, চার বছর আগে ওই শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে মাদ্রাসাতেই পড়াশোনা করত।
তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। কিন্তু মাঝখানে ঘটে যায় অঘটন। ধর্ষণের শিকার হয় বাচ্চাটি।
শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে এবং শরীরে পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।
২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
১২ মে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই এক শিশু জন্ম দেয় আরেকটি কন্যাশিশুর।
