ঢাকা: জঙ্গী, মব মাস্টার ইউনূসের অপকর্মের তালিকা যদি আমরা একবছর ধরেও করি, তারপরেও শেষ হবে না।
বাংলার জনগণের হৃদয় নিয়ে খেলেছেন তিনি। অবশ্যই তিনি তা ফেরত পাবেন। এ নিয়ে আফসোসের কী আছে?
জঙ্গী রাজাকারের স্থান পৃথিবীর কোথাও হবে না। বাংলার মুক্তিকামী জনগণ, আওয়ামী লীগের কর্মীরা বাংলাদেশসহ সমগ্র পৃথিবীতে এই জঙ্গী রাজাকারদের প্রতিহত করবে। করবেই, দেখেন- এটাই এদের নিয়তি।
আওয়ামী লীগ ভুল করেনি, আমরা তা বলছি না। ওরাও যথেষ্ট ভুল করেছে। কখনো একজনের ভুলেও গোটা দলের দোষ পড়েছে। তাই বলে দেশটা তো গিলে খেয়ে ফেলেনি!? জনগণ তো বাঁচতে পেরেছে। আর এখনো মানুষ বলেই চলেছে, শেখ হাসিনার সময় নিঃশ্বাস নিতেন তাঁরা।
রক্তপিপাসু ইউনূস হামের টিকা না কিনে পাঁচ হাজার শিশু হত্যা করেছেন। এর বিচার, বা বিএনপি সরকার কোনো কথা বলেছে?
আর একে যারা এখন রক্ষা করছে তারা দেশ জাতি মানবতার শত্রু । একাত্তরের সেই হায়েনার সাথে এদের কোন অমিল নেই।
ইউনূসকে দুটো কথা শোনানো হয়েছে ( যা সত্যি তাই) এরপরেই ক্ষেপে লাল জামাত শিবির। এবং সাবেক উপদেষ্টারা তো বিবৃতি দিয়ে দিলেন।
মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নিউইয়র্ক বিমানবন্দর! ড. ইউনূসকে ঘিরে “গো ব্যাক” স্লোগান দেয়া হয়। সাথে ছিলেন তাঁর প্রেমিকা লামিয়া।
“আপনি স/ন্ত্রা/সী!” “গো ব্যাক!” “আপনি গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন!”আপনি পুলিশ হত্যা করেছেন।
দোহা থেকে নিউইয়র্কে পা রাখতেই এমন একের পর এক তীব্র স্লোগানের মুখে পড়লেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ঘটনার ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
টার্মিনালে নামার সঙ্গে সঙ্গেই কয়েকজন আওয়ামী লীগ প্রবাসী বাংলাদেশি উচ্চকণ্ঠে তাঁকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বলতে থাকেন।
এদিকে আতঙ্কে ইউনূসের চোখ বেরিয়ে যাচ্ছিলো।
শোনা যায়, “কেন এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রে?” তাঁর কণ্ঠে ছিল ক্ষোভ: “আপনি সন্ত্রাসী! বাংলাদেশে মানুষ হত্যা করেছেন! বলুন, কেন এখানে এসেছেন?”
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ইউনূস ও তাঁর সঙ্গে থাকা লামিয়া মোর্শেদ দ্রুত পায়ে বিমানবন্দরের ভেতরে অদৃশ্য হয়ে যান।
এত ক্ষোভ কেন?
উত্তর খুঁজতে ফিরতে হয় ২০২৪ সালে। ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটে শেখ হাসিনার সরকারের। মাত্র তিন দিন পর, ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তারপর থেকে তাঁর সরকারের নানা পদক্ষেপ নিয়ে দেশ-বিদেশে চলেছে আলোচনা ও সমালোচনা। জেএফকে বিমানবন্দরের এই দৃশ্যকে অনেকেই দেখছেন সেই সমালোচনারই সরাসরি প্রতিফলন হিসেবে।
এদিকে সাবেক অপদেষ্টা যারা দেশ বিক্রির টাকা এখনো বসে খাচ্ছেন তাঁরা দিচ্ছেন বিবৃতি।
মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্থা ও লাঞ্ছনার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন ওই সরকারের ১২ জন সাবেক উপদেষ্টা।
১২ জন সেই ১২ জন। দেখলেই চিনবেন। কারো কারো কপালে নামাজের দাগ। কিন্তু বাটপারিতে সেরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে সাবেক উপদেষ্টারা বলেন, সাবেক প্রধান উপদেষ্টাকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অপপ্রচার, অনলাইনে বিষোদ্গার এবং পরিকল্পিত আক্রমণের ঘটনায় তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিনের লাগামহীন আর্থিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ধ্বংসসাধন, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি এবং কাঠামোগত নিপীড়নে দেশ যখন পুরোপুরি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল, তখন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালন করেছে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়া গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের ইতি টেনেছিল এই সরকার।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন, বিগত কর্তৃত্ববাদী আমলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার প্রক্রিয়াটি এগিয়ে যাবে বলেই সবার প্রত্যাশা ছিল।
তবে গভীর অনুতাপের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, একটি স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক চক্র দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিপুল গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে ও শারীরিকভাবে আঘাতের হুমকি দিচ্ছে।
কোনো ধরনের ভীতি প্রদর্শন বা অপপ্রচারে জুলাই আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি ও চেতনা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের বিপুল আত্মত্যাগের বিনিময়ে মর্যাদা ও রাষ্ট্র সংস্কারের যে ঐতিহাসিক ভিত্তি রচিত হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী অপশক্তি ও তাদের দোসররা তা কখনোই নস্যাৎ করতে পারবে না।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সাবেক উপদেষ্টারা কে কে?
তাঁরা হলেন—
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, ড. সি আর আবরার, ড. আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক-ই-আজম, ফরিদা আখতার, শারমিন এস মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
