টাঙ্গাইল: রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলে গেলো ১৫ টি তাজা প্রাণ। অবশ্য এই প্রাণের আর কী মূল্য? গরীব মানুষের প্রাণ কি আবার প্রাণের তালিকায় পড়ে নাকি?

প্রতি ঈদে’ই সড়কে মৃত্যুর মিছিল চলে। সড়ক মন্ত্রী কিছুই কি করার নেই?এই পর্যন্ত এই ঈদ উপলক্ষে কতজনের মৃত্যু হল তা কি তিনি হিসাব করেন?

মাত্র কয়েকটা টাকা বাঁচিয়ে পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু বাড়ি ফেরা হলো না, ফিরলো ১৫টি তাজা লাশ!

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত এবং ৬ জন গুরুতর আহত হওয়ার এই নির্মম দৃশ্য যে কারো বুকটা কাঁপিয়ে দেয়।

একটু কম খরচে বাড়ি ফেরার এই আকুতি যে এভাবে চিরতরে নীরবতায় রূপ নেবে, তা হয়তো কোনো এক হতভাগ্য মা, স্ত্রী বা সন্তান ভাবতেও পারেনি।

আসলে যত চাপ যায় সব গরীবের ওপর দিয়েই যায়।

তারা ঈদ উপলক্ষে ট্রাকে করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর দিকে যাচ্ছিলেন।

আজ সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন সংবাদমাধ্যমে  জানান, হতাহতদের সবাই নিম্নআয়ের মানুষ। তারা ঈদ উপলক্ষে কম ভাড়ায় ট্রাকবোঝাই রডের ওপর বসে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন।

ট্রাক উল্টে যাওয়ার পর তারা রডের নিচে চাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব বলেন, চট্রগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক রডসহ যাত্রীবোঝাই করে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উলটে যায়। ট্রাকের এর ওপরে থাকা যাত্রীরা রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।

তিনি আরও বলেন, আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের নাম পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আতোয়ার রহমান বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করি। ট্রাকের সব যাত্রীদের বাড়ি রাজশাহীর চাপাইনবাবগঞ্জ বলে জানা গেছে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *