সিলেট: নারীদেরকে এই পুরুষতান্ত্রিক বাংলাদেশের সমাজ কোমরে শেকল বেঁধেই ঘোরাচ্ছে। এতদিন ছিলো মানসিকভাবে বিষয়টা, এখন প্রকাশ্যে। যদিও এর আগেও নারীদের রশি দিয়ে বেঁধে চুল কেটে দেয়ার মতো বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে।‌ এইসব ঘটনার কী‌ ব্যাখ্যা দেবো?

সিলেটে চুরির অভিযোগে এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে ঘোরানো হয়েছে। এই‌ ঘটনা মানবতাকে কলুষিত করেছে।

নিজ হাতে বিচার ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার সাহস কোথায় পেলো এরা? অবশ্য সাহস আজকে পায়নি, সরকার প্রশাসন এদের সাহসী করেছে।

এটাই নতুন বাংলাদেশের বিচার? রাষ্ট্র কোথায়? আইন কোথায়?

কারো নামে অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে আদালত শাস্তি দেবে। এটাই সভ্য রাষ্ট্রের নিয়ম। নারীর কোমরে শেকল বাঁধার অধিকার তোদের কে দিয়েছে?

একজন‌ নারীকে শিকল পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানো হবে, তাকে মানুষের সামনে অপমান করা হবে—আর প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে—এটা কোনোভাবেই আইনের শাসনের চিত্র হতে পারে না।

সরকারের কাছে প্রশ্ন—

আপনারা কি শুধু বড় বড় বক্তব্য দিতে পারেন, নাকি দেশের একজন কিশোরীর মৌলিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও আপনাদের আছে?

রাষ্ট্র যদি নাগরিককে আইনের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মানুষ বিচার পাবে কোথায়?
আজ একজন কিশোরীকে শিকল পরানো হয়েছে। আগামীকাল যদি অন্য কারও সঙ্গে একই ঘটনা ঘটে, তখন কি আমরা আবার ভিডিও বানিয়ে দেখব, আর প্রশাসন শুধু নীরব দর্শক হয়ে থাকবে?

সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, এতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে এক যুবক তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন।

এ সময় কিশোরী অঝোরে কাঁদছিলো।

চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে ঐ কিশোরীর বিরুদ্ধে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সিলেটের উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে ওই কিশোরীকে শেকল বেঁধে টেনে নেওয়ার আগে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন তাকে আটক করেন।

মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা ৭টার দিকে এলাকার একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরির চেষ্টা করে ওই কিশোরী। এ সময় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে শেকল বেঁধে সড়কে হাঁটানো হয়।

চুরি যদি করেও থাকে, আইন আছে, প্রশাসন আছে! একজন ১৫/১৬ বছরের মেয়েকে মধ্যযুগীয় কায়দায় কোমরে শেকল বেঁধে ঘোরাবে এইজন্য?

একটি স্বাধীন ও আইনি কাঠামোর দেশে কোনো নাগরিকের ওপর এভাবে জনসমক্ষে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শাহজালাল উপশহর এলাকার বাসিন্দা ও দোকানের মালিক জাকির হোসেন (৪৩), তাঁর ভাই মোজাক্কির হোসেন (৪০) ও একই এলাকার বোরহান উদ্দিন (৪৫)।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *