গাইবান্ধা: গাইবান্ধার জলাতঙ্কের ঘটনা রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তাছাড়া এখন রাস্তার কুকুরগুলো যথেষ্ট উন্মাদ হয়ে উঠেছে। মানুষ দেখলেই তেড়ে আসে। কামড়াতে যায়। এই নিয়ে সরকারের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনগণের বিপদ বাড়বে।
২২ এপ্রিল উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের কঞ্চিবাড়ি, বজরা কঞ্চিবাড়ি এবং ছাপরহাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকায় একটি বেওয়ারিশ কুকুর নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ ১৬ জনকে কামড় দিয়ে আহত করে।
ঘটনায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন নারীসহ পাঁচজন মারা যান। তাদের সবাই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন।
চিকিৎসা নেওয়ার পরেও নন্দ রানী, মোছা. সুলতানা বেগম, মো. ফুল মিয়া, মোছা. আফরোজা বেগম ও রতনেশ্বর কুমারসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়, যা এলাকায় চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আরেকদিকে হামের টিকা নিতে গেলেও অসাবধানতাবশত দিয়ে দেয়া হচ্ছে জলাতঙ্কের টিকা। কী অদ্ভুত হয়েছে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা!
চিকিৎসাবিজ্ঞানে জলাতঙ্কের টিকাকে যেখানে শতভাগ কার্যকর বলা হয়, সেখানে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টা স্বাভাবিকভাবেই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মৃত ব্যক্তিদের স্বজনেরা বলছেন, কুকুরে কামড়ানোর পর তাঁরা সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। ক্ষতস্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি হাসপাতালে গিয়ে তাঁরা টিকা নিয়েছেন।
তবে চিকিৎসকদের বিশ্লেষণ বলছে, টিকা নিলেও যথাযথভাবে চিকিৎসা হয়নি। কোনো না কোনো ত্রুটি নিশ্চয়ই ছিল।
গাইবান্ধায় কুকুরের কামড়ে ৫ জন নিহতের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে জেলার সিভিল সার্জনকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি মোহাম্মদ ইকবাল কবির ও এস এম সাইফুল ইসলামের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
আদালতে বিষয়টি নিয়ে রিট করেন আইনজীবী শাফিনুর ইসলাম। সাংবাদিকদের রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী বলেছেন, ‘গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কুকুরের কামড়ে ১৭ জন আহত হন। সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে প্রাইভেটে টিকা নেন তারা। তারপরও এ ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাই গাইবান্ধার সিভিল সার্জনকে ঘটনা খতিয়ে দেখে ঈদের ছুটির পর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
