ঢাকা: দুঃখ হলে কাঁদবে, শোক পালন করবে- তাতেও নিষেধাজ্ঞা। সরকার যদি বলে হাসতে, হাসতে হবে। যদি বলে কাঁদতে কাঁদতে হবে।
রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক-এমের ২৮ নম্বর সড়কের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভা থেকে নিষিদ্ধের অজুহাতে ৫৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ঘটে।
এটি প্রমাণ করে, দেশে আজ কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক অধিকার, ধর্মীয় বা জাতীয় অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা অবশিষ্ট নেই।
বুকে কালো ব্যাজ পরা ও সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত নারী-পুরুষ নেতাকর্মীদের স্রেফ জাতির পিতাকে স্মরণের অপরাধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ তকমা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়! জাতির পিতাকে স্মরণ করা অপরাধ?
বিএনপি সরকার এখনো জামাতের বলয় থেকে বের হতে পারেনি। সাধারণ একটি ইনডোর মিটিং, নৈশভোজকেও তারা ‘রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিচ্ছে!
ভাটারা থানা-পুলিশ জানায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিল সফল করার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা ওই ফ্ল্যাটে সমবেত হন।
এ সময় তাঁরা নাকি প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। রাষ্ট্র বিরোধী স্লোগানটা নিশ্চয়ই পাকিস্তান জয় স্লোগান নয়। সেটা হয়তো জয় বাংলা স্লোগান হবে। এটাই এখন রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান তাদের জন্য।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপি জানিয়েছে, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছে।
