হিলি: এইযে প্রতিদিন ধর্ষণের খবর আসে, উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা যদি থাকতো- ভয়ে হলেও তো ধর্ষকরা আর নারীর দিকে হাত বাড়াতো না।

আইন থাকলে কী হবে, আইনকে ব্যবহার করেই ফাঁক ফোকর দিয়ে অপরাধীরা বেরিয়ে যায়, বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে উপর মহলের লোকেরা। ফলে আর কী? মেয়েদের জন্য হলেই বুঝে নিতে হবে তার ধর্ষণ হবে! সরকার কিচ্ছু করে না।

এবার দিনাজপুরের হিলিতে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ৯ বছর বয়সী মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণ করে ৫৫ বছরের এক দাড়িওয়ালা বৃদ্ধ।

নামাজ কালাম তো ঠিকই আদায় করে এরা। অথচ বাইরে ধর্ষণ, খুন এইসব করে।

ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বরাবর সর্ব লেখক তসলিমা নাসরিন।

এবারো একইভাবে সর্ব হলেন।

তিনি পরিষ্কার বলেন ফেসবুকে:

“শিশুদের দেখলে তো বৃদ্ধ নারীদের কাম জাগে না। শিশুদের দেখলে বৃদ্ধ পুরুষগুলোর লি***ঙ্গ উত্থিত হয় কেন?

শিশুদের দেখলে বৃদ্ধ পুরুষের যৌন কামনা জাগে কেন—এ প্রশ্ন আমাকে গভীরভাবে অস্বস্তিতে ফেলে।

শিশুদের দিতে হয় স্নেহ, ভালবাসা, নিরাপত্তা। শিশুর শরীর কোনও কামনার বস্তু নয়। অথচ বারবার দেখছি ক্ষমতাবান পুরুষেরা—বিশেষ করে মাদ্রাসার হুজুর, মসজিদের ইমাম—যাঁদের মানুষ চরিত্রবান বলে বিশ্বাস করে, তাঁরাই শিশুদের ওপর ভয়াবহ যৌন নির্যাতন করে।

এই অপরাধ শুধু যৌন অপরাধ নয়, এই অপরাধ চরম বিশ্বাসঘাতকতার অপরাধ। যে মানুষটির কাছে শিশুকে ধর্ম শেখার জন্য, শিক্ষা নেওয়ার জন্য, নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পাঠানো হয়, সে মানুষই যদি শিশুর শরীর ও মন নষ্ট করে দেয়, তবে তার অপরাধ সাধারণ অপরাধের চেয়েও ভয়ংকর।

কারণ সে শুধু একটি শিশুকে আঘাত করে না, সে সমাজের বিশ্বাস, নিরাপত্তা এবং নৈতিকতার ভিতও ভেঙে দেয়।

বৃদ্ধ নারীরা শিশুদের যৌনবস্তু বলে ভাবেন না, যুবতী নারীও ভাবেন না। তাঁরা শিশুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন না। যৌন হেনস্থা, শিশু ধ র্ষ ণ, বলাৎকার—এসব অপরাধ সাধারণত পুরুষরাই করে।

এর কারণ শুধু হরমোন নয়, শুধু শারীরিক শক্তিও নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা, দমন করার প্রবণতা, জবাবদিহির অভাব, এবং বহু পুরুষের ভেতরে ছোটবেলা থেকে তৈরি হওয়া অধিকারবোধ, যে, সে চাইলে দুর্বল শরীরের ওপর কর্তৃত্ব করতে পারে।

নারীর চরিত্র নিয়ে ইতিহাসের শুরু থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—দায়িত্ববোধ, সংযম, সহমর্মিতা এবং ন্যায়বোধে অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষের চেয়ে এগিয়ে। নারীরা যদি পুরুষকে অনুকরণ করেও থাকে, তারা পুরুষের এই নৃশংস যৌন সহিংসতা অনুকরণ করেনি।

শিশু ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, শারীরিক আগ্রাসন—এসব ক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি খুবই কম। তাই এ কথা বলা যায় মানুষ হিসেবে নারী বেশি সভ্য, বেশি সংযমী, বেশি নৈতিক।

সব পুরুষ অপরাধী নয়—এ কথা সত্য। কিন্তু এটাও সত্য যে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার বড় অংশ পুরুষের হাতেই ঘটে। বিশেষ করে যখন সেই পুরুষ ধর্ম, শিক্ষকতা বা সামাজিক সম্মানের আড়ালে থাকে, তখন তার অপরাধ দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকে”।

তসলিমা আরো বলেন, “দাড়ি রাখা, কোরআন হাদিস মুখস্থ থাকা, টুপি পরা বা আলখাল্লা পরা কোনও মানুষের চরিত্রের নিশ্চয়তা নয়। চরিত্র প্রমাণিত হয় ক্ষমতাহীন মানুষের সঙ্গে তার আচরণে, শিশুর প্রতি তার দায়িত্বে, দুর্বলকে রক্ষা করার নৈতিকতায়।

শিশুদের নিরাপদ শৈশব দেওয়া সমাজের প্রধান দায়িত্ব। মাদ্রাসা, স্কুল, মসজিদ, মন্দির, গির্জা—কোথাও শিশুদের অরক্ষিত রাখা চলবে না। কোনও শিক্ষক, ইমাম, পুরোহিত, ধর্মগুরু বা অভিভাবক যেন জবাবদিহির ঊর্ধ্বে না থাকে।

শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমাজকে নির্মমভাবে কঠোর হতে হবে। কারণ শিশুদের রক্ষা করতে না পারলে কোনও সমাজই সভ্য বলে দাবি করতে পারে না”।

ধর্ষণের অভিযোগে সাজ্জাদ হোসেন (৫৫) কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০ টায় অভিযুক্তকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন স্থানীয়রা। গ্রেপ্তারকৃত সাজ্জাদ হোসেন উপজেলার বৈগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে মাদ্রাসা থেকে খাতা কলম নেওয়ার জন্য বাড়িতে গেলে দরজা বন্ধ থাকার জন্য জানালা দিয়ে বাবাকে ডাকতে গেলে অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেন শিশুটিকে তার নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে।

এরপর প্রায় নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা পরে মাদ্রাসায় পৌঁছালে শিক্ষক দেরির কারণ জানতে চায়। প্রথমে শিশুটি ভয়ে কিছু বলতে না পারলেও পরে অসুস্থ বোধ করলে এক সহপাঠীর মাধ্যমে ঘটনাটি জানায়।

এরপর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিশুর পরিবারকে বিষয়টি জানায়।

এই অপকর্ম জানজানি হলে অভিযুক্ত সাজ্জাদ পালানোর চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে উত্তম মাধ্যম দিয়ে থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *