সিলেট: সিলেট সেনপাড়াস্থ ব্যবসায়ী খগেন্দ্র কুমার দাস নামে একজন নির্দোষ হিন্দু মানুষকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে এবং লুটপাট করা হয়।

যেহেতু তিনি হিন্দু, তাই নির্দোষ হলেও দোষী তিনি। কারণ হিন্দুদের কোনো জায়গা বাংলাদেশে নেই। ভবিষ্যৎ আর কত সেকেণ্ড দূরে জানি না, একেবারে হিন্দুশূন্য হতে দেশটা।

যারা মব সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোর শাস্তির জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

শুধু দোকানে একটা সিসি ক্যামেরা সচল থাকায় সত্যটা সামনে এসেছে। তা না হলে হয়তো এতক্ষণে তাঁর বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়ে, পুরো হিন্দু সম্প্রদায়কে ‘মালাউন’ বলে গালি দিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সময়ের ব্যাপার মাত্র হতো!

মিথ্যে অপবাদ দিয়ে একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া হতো। ধ্বংস হয়নি বলে কি তিনি বেঁচে গিয়েছেন?

না, বাঁচেননি! একটি জ্যান্ত, নিরীহ মানুষকে প্রকাশ্য দোকান থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে, রাস্তায় ফেলে যেভাবে অমানুষিক গণপিটুনি দেওয়া হলো—তা দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারবে না যদি কেউ মানুষ হয়।

উল্লেখ্য, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২০ নং ওয়ার্ডের শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকার খগেন্দ্র কুমার দাস নামের এই হিন্দু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁর দোকানে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও খগেন্দ্র দাশকে বেধড়ক পিটিয়েছে।
মিত্যা ধর্ষণের অভিযোগে মব সৃষ্টি করে দোকানের ভিতরে ঢুকে মারধর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, হামলায় গুরুতর আহত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসার খোঁজ নেন।

এসময় তাঁরা দোকানে থাকা সিসি ফুটেজ দেখে দোষিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

ভুক্তভোগী ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ, স্থানীয় চাঁদাবাজরা তাঁর কাছে চাঁদার দাবি করেছিল এবং চাঁদা না পেয়ে ধর্ষণের নাটক সাজিয়ে এই হিন্দু ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আরো বলেন এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত শাস্তি দেওয়া হোক এবং আমার জীবনে নিরাপত্তা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক।

হয়তো আজ খগেন্দ্র দাস প্রাণে বেঁচেছেন। কিন্তু এই বাঁচার কি কোনো মূল্য আছে? বেঁচে আছেন এটাই হয়তো আসামিদের পক্ষে যাবে। মেরে তো আর আর ফেরেনি, তাই কিসের আর শাস্তি!?

হিন্দুরা কোন অবস্থায় আছে দেশে তা তাদের চেহারা চোখ মুখ দেখলেই বোঝা যায়। আর প্রমাণ তো প্রতিদিন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *