নাটোর: আগের মানুষ যেমন বুদ্ধি প্রজ্ঞা ছিলো ধীর স্থির, এখনকার মানুষের তা নেই। অনেক তফাত।
তাদের ধৈর্য, সহ্য যেমন প্রবল ছিলো এখনের ততটাই দুর্বল।
তাই তো ১২৩ বছর বয়সেও ভীষণ মন দিয়ে চশমা ছাড়াই কোরআন পড়তে পারেন আব্বাস প্রামাণিক। তাঁর জীবন দীর্ঘ, জীবনের ইতিহাসও দীর্ঘ। জীবনে সাক্ষী হয়েছেন ইতিহাসের বহু অধ্যায়ের।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাটি ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস প্রামাণিক। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর বয়স ১২৩ বছর ৪ মাস।
বয়সের ভারে শরীর অনেকটাই নুয়ে পড়েছে, চলাফেরার শক্তি কমেছে, শ্রবণশক্তিও আগের মতো নেই। লাঠি নিয়ে চলেন কখনো, কখনো সাথে লোকজন।
দীর্ঘ জীবনে তিনি ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় দেখেছেন।
বয়সের ভারে চলাফেরা কিছুটা সীমিত হলেও তাঁর দৃষ্টিশক্তি এখনও ভালো বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তিনি নিয়মিত নামাজ আদায় করেন এবং কোরআন তিলাওয়াত করেন। তবে কানে কিছুটা কম শোনেন।
আশ্চর্যের বিষয়, এখনো খালি চোখে স্পষ্ট করে পবিত্র কোরআন শরিফ পড়তে পারেন তিনি।
স্বজনদের দাবি, তার প্রকৃত বয়স জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখ করা বয়সের চেয়েও বেশি হতে পারে।
পরিবারের দেয়া তথ্যমতে, বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল তাঁর পছন্দের খাবার। বর্তমানে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সাধারণ জীবনযাপন করছেন তিনি।
বয়সের ভারে শরীর দুর্বল হলেও কোরআনের অক্ষরের সঙ্গে যেন এখনো তার পুরোনো সম্পর্ক অটুট।
আসলে ধর্ম মানুষের অন্তরে থাকে, ধার্মিক ব্যক্তির আচার আচরণ কোনোদিন উগ্র হয় না। তারা মানুষ মারতে পারে না।
পরিবারের একজন সদস্য জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি তাঁর বাবাকে কৃষিকাজ করতে দেখেছেন। পরে শিক্ষকতাকেও পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি মাদ্রাসায়ও পড়িয়েছেন। এমনকি অনেককে বাড়িতে গিয়ে বিনামূল্যে আরবি ও কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন।
আব্বাস প্রামাণিক ছয় ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। এলাকার মানুষের কাছে তার সৎ ও ধার্মিক মানুষ হিসেবে পরিচিতি।
