খুলনা: সংসার করা হলো না আর মলি মল্লিকের। তাঁর এমবিবিএস ডাক্তার স্বামী জানিয়ে দিলেন তিনি আর মলি মল্লিকের সাথে সংসার করবেন না।
এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভীষণ ভাইরাল হয় পড়েছে। ভাইরাল হয়েছে এই কারণে যে, মলি মল্লিক অনেক করে চেয়েছিলেন সংসারটা টিকিয়ে রাখতে। শ্বশুরবাড়িতে বিয়ের পর থেকেই অত্যাচার সহ্য করেছেন।
তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হচ্ছিলো। একবেলা খাওয়া দেয়া হতো তাঁকে। বলা হতো যোগীরা নাকি একবেলা খায় তাই!

মলির অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের থেকে বিয়ের সময় যৌতুক নেয়নি স্বামীর বাড়ি। আর তখন তো বিয়ে হয়ে গিয়েছে, তবে তারপরেই নাকি অত্যাচার শুরু হয়। বলা হয় অন্য জায়গায় ডাক্তার ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসকে বিয়ে দিলে আরো কত কত জিনিস পেতো ওরা!
এইসব বলে বলে মলিকে অত্যাচার করা হয়।
ঘটনাটি খুলনার। অনশনেও বসেন মলি মল্লিক, ও তার মা বাবা। মেয়ের পাশে ছিলেন মা বাবা। কিন্তু স্বামীর বাড়ির দরজা খোলে না।
খুলনায় অনশনে বসা গৃহবধূ মলি মল্লিকের ফেরা হলো না স্বামীর কাছে, সালিশের মাধ্যমে বিচ্ছেদ হলো। ৩০ লাখ টাকায় রফা হয়েছে।

নেটিজেনরা বলছেন, যে শ্বশুরবাড়ি এমন অত্যাচার করে, সেখানে মলিদের আর কখনো যাওয়া উচিৎ নয়। আর ইন্দ্রজিৎদের শেষ পরিণতিও ভালো হয় না।
ঘটনাটা যে কতোটা কষ্ট ও বেদনাদায়ক একমাত্র বাবা মায়েরাই বুঝেন।
গত ২৬ জুন খুলনার জিরোপয়েন্ট হান্নান সড়ক এলাকায় স্ত্রীর অধিকারের দাবিতে স্বামীর বাড়ির সামনে আমরণ অনশনে বসেছিলেন মলি মল্লিক ও তার বাবা-মা।
অবশেষে গতকাল ২৯ শে জুন স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ভরণপোষণ বাবদ ৩০ লক্ষ টাকায় সালিশির মাধ্যমে মীমাংসা হয়।
ভরণপোষণ বাবদ নগদ ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে অবশেষে নিজের বৈবাহিক সম্পর্কের দাবি ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেন এই তরুণী।
গত ২৬ জুন (শুক্রবার) তিনি অনশন শুরু করেন। সোমবার (২৯ জুন) স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের উপস্থিতিতে এক শালিস-মীমাংসায় এই ৩০ লাখ টাকার আপস-রফা সম্পন্ন হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা জেলার রূপসার কৃষ্ণনগর এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসক স্বপন মল্লিকের কন্যা ও অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মলি মল্লিকের সাথে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পারিবারিক আয়োজনে অগ্নি সাক্ষী রেখে সনাতন ধর্মীয় রীতিতে ধুমধাম করে বিয়ে হয় খুলনার জিরোপয়েন্ট হান্নান সড়কের বাসিন্দা দিজেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের পুত্র ডা. ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের।
ডা. ইন্দ্রজিৎ বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের একজন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।
বিয়ের পর কয়েকটা দিন ভালো কাটলেও হাতের মেহেদীর রং, আর গায়ে বিয়ের গন্ধ কাটার আগেই মলি মল্লিকের জীবনে নেমে আসে চরম বিষাদ।
এক দুইদিন পর থেকেই অত্যাচার শুরু হয়।
আর ডা. ইন্দ্রজিৎ ও তাঁর পরিবারের লোকজন মলির সাথে হঠাৎ করেই সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
একপর্যায়ে তাঁকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে এবং বাড়িতে প্রবেশ করতেও সরাসরি অস্বীকৃতি জানায় চিকিৎসকের পরিবার।
কোনো উপায় না পেয়ে গত ২৬ জুন স্বামীর অধিকার ও সংসারের দাবিতে জিরোপয়েন্ট হান্নান সড়ক এলাকায় শ্বশুরবাড়ির সামনে গিয়ে আমরণ অনশনে বসেন মলি মল্লিক।
মলির এই অনশনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনশন শুরু হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী ডা. ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস বাড়ি থেকে সটকে পড়েন।
গেট আর খোলে না কেউ।
এ সময় স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও প্রতিবেশীরা অসহায় মলি মল্লিকের পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও আইনি সমাধানের দাবি জানান।
মলি মল্লিকের পাশে এলাকাবাসী দাঁড়ায়। এবং পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হলেও, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায় ভিন্ন খাতে।
ডা. ইন্দ্রজিতের প্রভাবশালী পরিবার আইনি ঝামেলা এড়াতে স্থানীয় মাতব্বরদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে।
অবশেষে (২৯ জুন) দুই পক্ষের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয় যে, ডা. ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের সাথে মলি মল্লিকের আর কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক থাকবে না। এর বিপরীতে মলিকে ভরণপোষণ বাবদ এককালীন ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করবে চিকিৎসকের পরিবার।
