শরীয়তপুর: এই দেশটা, দেশের সমাজে বর্বরতা একদম ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাস যেমন এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে ঢুকে, বর্বরতা তেমনি সমাজে ছড়িয়েছে।

এই রাষ্ট্র নৈতিকতা, মানবিকতা, নারীর প্রতি সম্মান– এইসব কিছু হারিয়েছে। এখন বাংলাদেশ সারা বিশ্বে কী হিসেবে পরিচিত হচ্ছে জানেন?

ধর্ষণ, খুন, মব, জঙ্গী, বোমা, নারী নির্যাতনে সেরা রাষ্ট্র হিসেবে। বাংলাদেশের নাম শুনলে মানুষ এখন দুইবার চিন্তা করে! আমরা দেখেছি এমন দৃশ্য। আমরা দেখছি বাংলাদেশের প্রতি অন্য রাষ্ট্রের মানুষের মনোভাব আগের মতো শ্রদ্ধাতে নেই। এর জন্য দায়ী কে?

কেন আমরা পারছি না সমাজটাকে ঠিক করতে?

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের ঘটনা সারা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

চুরির অভিযোগ তুলে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী, এবং তার ছোট বোনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর, গলায় জুতার মালা পরানো ও মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাঁদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। ছোট বোনটির বয়স ১২ বছর।

গত মঙ্গলবার ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের বেশ কয়েকটি ভিডিও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার তরুণীর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

জানা গিয়েছে, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এমন পিশাচের মতো নির্যাতন চালানো হয়েছে তাঁদের ওপর।

চুরির অপবাদ দিয়ে তরুণীর চুল কে’ষটে গাছে বেঁধে পেটানো হয়।

ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দোকানদার চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে এবং তাঁর ছোট ভাই-বোনদের নির্যাতন করেছেন।

পুলিশ প্রশাসন, সরকার যদি পায়ের উপর পা তুলে বসে থাকে, দুই একটা জরিমানা, আর গ্রেপ্তার করেও টাকা খেয়ে ছেড়ে দেয় অপরাধীকে তাহলে সমাজটা পচবে না তো কী হবে?

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পাশের মুদির দোকানদার মনির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

গত মঙ্গলবার তরুণী দোকানে গেলে আবারও কুপ্রস্তাব দেন মনির। এর প্রতিবাদ করায় সঙ্গে সঙ্গে চুরির অপবাদ দিয়ে তরুণীকে গাছে বেঁধে দফায় দফায় পিটিয়ে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিত তরুণীকে উদ্ধার করে।

ওই রাতেই ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে স্বজনদের অভিযোগ, মূল অভিযুক্ত মনিরকে পুলিশ আটক করলেও রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেয়। যদিও অভিযুক্ত মনির চুরির দায় ও বাড়ি ভাড়া বাকি থাকার বাহানা দিয়ে নিজের দোষ অস্বীকারের চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এমন মধ্যযুগীয় বর্বরতার বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *