ঢাকা: দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ৯০% যৌন নির্যাতনের শিকার। ছোট ছোট মেয়েরা/ছেলেরা ধর্ষণের শিকার।

একটা মাদ্রাসাকে বাবা মায়ের কোলের চেয়েও বেশি নিরাপদ ভাবা হয়। তাহলে এই দেশের এই অবস্থা কেন?

প্রতিদিন যেসব মেয়েরা ধর্ষিত হচ্ছে এদের বেশিরভাগের বয়সেই ৫-১১ বছরের মধ্যে। ছোট ছেলেদেরও ধর্ষণ করা হচ্ছে। এই হুজুররা কী কোনোদিন মানুষ হবে না? কারণ মানুষ হলে তো এই অপকর্ম করতে পারতো না।

হুজুরদের ধর্ষণ নিয়ে বহুবার কথা বলেছেন লেখক তসলিমা নাসরিন। এইসব মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানান বহুবার।

তিনি বলেন, মাদ্রাসা-টাদ্রাসা সব বন্ধ করে দেওয়া উচিত। মাদ্রাসাগুলোয় সন্ত্রাসী তৈরী করা হয়, শিশুদের ধর্ষণ করা হয়, আর মগজধোলাই করে মানুষকে এক একেকটা মূর্খ, মিথ্যুক, হিংসুক, লোভী, নারীবিদ্বেষী, ধর্ষক বানানো হয়। এভাবেই নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন তসলিমা নাসরিন।

এবারো নিজের রাগ উগড়ে দিলেন ফেসবুকের মাধ্যমে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের শিশু ও কিশোরকিশোরীদের যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন থেকে বাঁচাতে হলে সবচেয়ে আগে যে কাজটি করা দরকার, তা হলো দেশের সব সরকারি-বেসরকারি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া।

বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য নির্যাতনের ঘটনা, শিশুদের ওপর অমানবিক শাস্তি, গোপন সহিংসতা, এবং ধর্মের আড়ালে ক্ষমতার অপব্যবহারের খবর প্রকাশ পেয়েছে। তবু রাষ্ট্র কার্যকর কোনও পরিবর্তন আনেনি।

যে শিক্ষাব্যবস্থা শিশুকে স্বাধীন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার বদলে ভয়, অন্ধ আনুগত্য এবং দমন-পীড়নের সংস্কৃতি শেখায়, সেই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার কোনও নৈতিক অধিকার রাষ্ট্রের নেই।

শিশুদের নিরাপত্তা, বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং মুক্ত চিন্তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতেই হবে।

সরকার যদি এখনও মাদ্রাসা ব্যবস্থাকে অক্ষত রাখে, তাহলে মানুষ এ প্রশ্ন তুলতেই পারে—এই সরকার কি সত্যিই দেশের শিশুদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিক, নাকি তারা কেবল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষাতেই ব্যস্ত”?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *