কুষ্টিয়া: জামাতি আমির আবার কট। এরা যে কতটা নির্লজ্জ আর চরিত্রহীন, তার প্রমাণ আর কত দেয়া যাবে?
আমির হামজা এবারই প্রথম নয়, আগেও মহিলাদের নিয়ে প্রচুর অশ্লীল মন্তব্য করেছেন।
বলেছিলেন, ‘রুমিন ফারহানা আপা আছে, মন্ত্রী পটলের মেয়ে আছে, ফারজানা শারমিন। আমার ডানে-বামে এমন ভুঁড়িওয়ালা লোক পেয়েছি, যেহেতু এগুলো সিরিয়াল করা থাকে আগে থেকে, কে কোথায় বসবে আমরা জানিও না। আল্লাহর ইশারা ভেতরে গিয়ে দেখি, আমার ডানে-বামে ভুঁড়িওয়ালা। এমন বড় বড় ভুঁড়ি, আমার মনে হয় ভুঁড়ি ছিঁড়লে ভেতর থেকে ব্রিজ-কালভার্ট বের হবে। মহিলারা ওদের দেখলে লজ্জা পাবে।’
এবার আবারো কট খেলেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী রাশেদ খাঁন যা যা বললেন, তার পুরোটা তুলে ধরা হলো:
“কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত এমপি আমির হামজার নারী ঘটিত কিছু ভিডিও ও অডিও আমার কাছে এসেছে। আমি সেগুলো ফ্যাক্ট চেকিং করে তথ্যের সত্যতা পেয়েছি। দেখি জামায়াত এবার আমির হামজার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে…।”
আরো বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমির হামজার নারীঘটিত বিষয়টি সম্পর্কে জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমানও জানতেন। এটি নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা আলোচনাও করেছিলেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইসলামিক বক্তা তারেক মনোয়ার আমির হামজাকে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করেন এবং বাটনফোন ব্যবহার করতে বলেন।
মূলত কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতের কোনো যোগ্য প্রার্থী না থাকায় লম্পট আমির হামজাকেই নমিনেশন দেন জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান।
আমার কাছে আমির হামজার নারীঘটিত তথ্যপ্রমাণগুলো এসেছে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ২ জন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে। কিছু অডিও ও screen record এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমি the dissent ও rumour scanner এর সাথেও যোগাযোগ করি। হয়তো তারা তাদের মতো করে অনুসন্ধান করছে। the dissent আমির হামজার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু যোগাযোগ করতে পারেনি।
তবে তাদের কাছ থেকে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে দেরি হওয়ার প্রেক্ষিতে অন্য একটি মাধ্যম থেকে অডিও-ভিডিও এর সত্যতা পাই।
যেহেতু জামায়াতের স্লোগান হলো ‘আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই’, সেহেতু আমি জানতে চাই, জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান আমির হামজার মাধ্যমে কেমন আইন ও শাসন চান? নাকি বর্তমান জামায়াতের আইডল আমির হামজা ও মেজর আক্তারুজ্জামানের মতো লোকেরাই সেই সৎ লোক?
আশা করি, জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান আমির হামজার ঘটনাকে গাজী নজরুল ইসলামের মতো AI, AI না করে, উক্ত নারীঘটিত ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমির হামজাকে দল থেকে বহিষ্কার ও এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করবেন”।
আরো বলেন , “কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না সাংবাদিকেরা। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং তিনি বাড়িতেও নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনাও করেছেন তিনি। এর আগে আমির হামজাকে ঘিরে কথিত একটি নারীঘটিত কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও থাকার দাবি করেছিলেন রাশেদ খাঁন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার বিষয়টি তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন।
স্ট্যাটাসে তিনি জানান, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাংবাদিকেরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তবে শুরুতে তিনি কারও ফোন রিসিভ করেননি। পরে তাঁর মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর কয়েকজন সাংবাদিক তাঁর বক্তব্য নিতে কুষ্টিয়ায় অবস্থিত বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বাড়িতে নেই।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির কে এম আলী মহসীনও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিচ্ছেন না। স্থানীয় সাংবাদিকেরা তাঁর সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ফেসবুক পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন লেখেন, গাজী নজরুলের পর আমির হামজার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দল হিসেবে জামায়াত যেন গুম হয়ে গেছে”।
