কুমিল্লা: অপ্রতিমের হত্যা, মারা যাওয়ার পেছনে যেমন তার মা বাবা দায়ী, তেমনি দায়ী এই রাষ্ট্র।

কারণ অপ্রতিম তো একদিক থেকে এই ১৩ বছর বয়সেই ভীষণ বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো। হাতে দামি বাইক, টিকটক, ফেসবুক থেকে শুরু করে সব সোশ্যাল মিডিয়ায় তার অ্যাকাউন্ট ছিলো।

এবং দ্রুত গতিতে বাইক চালানোর ভিডিও সে আপলোড করতো। এতটুকু বয়সের একটা বাচ্চা ছেলেকে মা খাইয়ে দেয়ার বয়স, অথচ অপ্রতিমের বেলায় কী হলো? এরকম দেশে আরো ছেলেপিলেরা আছে, যাদের মা বাবা শিক্ষিত, অথচ ছেলে মেয়েকে কোনো শিক্ষাই দিতে পারছেন না। এবং এই রাষ্ট্র তো সম্পূর্ণই ব্যর্থ।

শুধু আইফোন এর জন্য দায়ী নয়। দায়ী এই রাষ্ট্রব্যবস্থা, দায়ী মা বাবা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নেওয়া হয়।

সেখানে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। পরে সে মারা গেলে ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় তিনজন।

এই ঘটনায় দুই কিশোরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ রবিবার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান ও পঙ্কজ বড়ুয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখতে পায়, ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বেলা আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলের দিকে যান তুহিন (সাইফুল)।

পরে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা সাইফুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল জানান, অপ্রতিমের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পনা করে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দুই কিশোরের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ।

এই ঘটনায় কয়েকটি কথা বলতে হয়:

অপ্রতিমের সন্ধান চেয়ে তার মায়ের দেয়া প্রথম পোস্টে তিনি বলেছেন, “অপ্রতিম আমার আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সাথে ছবি তুলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি।” এখানে কিন্তু তিনি বলেননি, অপ্রতিম আইফোন নিয়ে বের হয়েছে এটা তিনি জানতেন না।

এর কয়েক ঘন্টা পরেই তিনি আবার পোস্ট দিয়েছেন, “উল্টাপাল্টা মেসেজ দিবেন না। অপ্রতিম আমাকে না জানিয়েই আমার আইফোন নিয়ে বেরিয়েছে।”

নিজেকেও একটা বাঁচানোর চেষ্টা তিনি বা তারা করেছেন, তারা ছেলের খোঁজ রাখেন না।

অপ্রতিমের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভিডিও, ছবি দেখে এটা ধারণা করা যায়, অপ্রতিম এই অল্প বয়সেই বেশ বেপরোয়া জীবনযাপন করতো।

তার বন্ধুত্ব ছিলো সব বড় ছেলেদের সাথে। যারা চুরি ডাকাতি করে।

এই অপ্রতিমের মা চব্বিশে দেশ স্বাধীন করেছেন। তাই তিনি তেরো বছর বয়সী ছেলেকে হয়তো পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছিলেন। এমন স্বাধীনতা, যে স্বাধীনতা উপভোগ করতে করতে অপ্রতিমকে খু* ন হতে হয়েছে।

যাই হোক, আমরা চাই না দেশে কোনো শিশুকে প্রাণ দিতে হোক! আমরা চাই প্রতিটা শিশু নিরাপদে থাকুক, এবং সে দায়িত্ব অবশ্যই রাষ্ট্রের।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *